📌 বিশ্বে প্রতি বছর ১০৫ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়, যেখানে ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার মুখে। মালদ্বীপে মাথাপিছু সর্বোচ্চ ২৬০ কেজি খাবার অপচয় হয়। আফ্রিকায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে প্রতি পাঁচজন মানুষের একজনের পুষ্টিকর খাবার অভাব
বিশ্বে প্রতি বছর ১০৫ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়, যা বহন করতে ৫ কোটি ২৫ লাখ ট্রাকের মতো ধারণক্ষমতা লাগবে। এ সময়ে ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার মুখে রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের বড় বড় বাধাগুলোর মধ্যে খাদ্য অপচয় অন্যতম। প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়, যার এই বছরের প্রতিপাদ্য ‘আজ উদ্ভাবন, আগামীতে পুষ্টি’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বে প্রতি বছর ১০৫ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়, যা মোট উৎপাদিত খাবারের ১৩ শতাংশেরও বেশি।
- 📌 ২০২৫ সালে বিশ্বের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ (৬৪ কোটি ৫০ লাখ) মানুষ ক্ষুধার মুখে ছিল, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৬ কোটি বেশি।
- 📌 আফ্রিকায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (৩০ কোটি ৯০ লাখ), যা বিশ্বের মোট ক্ষুধার্ত মানুষের প্রায় অর্ধেক।
- 📌 মালদ্বীপে মাথাপিছু সর্বোচ্চ ২৬০ কেজি খাবার অপচয় হয়, যেখানে গড় মাথাপিছু অপচয় ১৩২ কেজি।
- 📌 পরিবারে আসে মোট অপচয় খাবারের ৬০ শতাংশ, রেস্তোরাঁ থেকে ২৮ শতাংশ এবং দোকান থেকে ১২ শতাংশ।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) অনুযায়ী, খামার থেকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই উৎপাদিত খাবারের ১৩ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলমূল ও শাকসবজির ক্ষতির হার সবচেয়ে বেশি। দোকানে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হওয়া খাবারের আর্থিক মূল্য বছরে ৪০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অন্যদিকে, ইউএনইপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভোক্তাদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের এক-পঞ্চমাংশ (১০৫ কোটি টন) নষ্ট হয়।
বিশ্বে খাদ্য অপচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে পরিবার থেকে। মোট অপচয় খাবারের ৬০ শতাংশই আসে গৃহস্থালি থেকে। রেস্তোরাঁ ও খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ২৮ শতাংশ এবং দোকান থেকে ১২ শতাংশ। উষ্ণ আবহাওয়ার দেশগুলোতে বাড়িতে খাবার অপচয়ের হার বেশি হতে পারে, কারণ তাজা খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেশি এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থার অভাব।
জাতিসংঘের ‘বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টির পরিস্থিতি’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ক্ষুধার হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কম। তবে করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি এখনো খারাপ। আফ্রিকা মহাদেশে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (৩০ কোটি ৯০ লাখ), যা বিশ্বের মোট ক্ষুধার্ত মানুষের প্রায় অর্ধেক। এশিয়ায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ২৯ কোটি ২০ লাখ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ৩ কোটি ২০ লাখ।
"আজ উদ্ভাবন, আগামীতে পুষ্টি’ — এই প্রতিপাদ্যে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অপচয় কমিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী (আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইউএনইপি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৫ কোটি টন (অপচয় খাবার), ৬৪ কোটি ৫০ লাখ (ক্ষুধার্ত মানুষ), ২৬০ কেজি (মালদ্বীপে মাথাপিছু অপচয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!