📌 জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহনের ব্যাহততা এবং এল নিনোর প্রভাবে শস্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারা ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বেন
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহনের ব্যাহততা এবং এল নিনোর প্রভাবে শস্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সাধারণ ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বিশ্বব্যাংকের তথ্য**: ১৫০টি দেশের মধ্যে ২২ শতাংশে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬)। আগের প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুলাই) এ হার ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ।
- 📌 **খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক**: গত সেপ্টেম্বরে গড়ে ১৩৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
- 📌 **গমের দাম**: চলতি বছর বিশ্ববাজারে গমের দাম আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
- 📌 **চালের দাম**: এশিয়ার প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোয় চালের দাম ১০ থেকে ১৩ শতাংশ বেড়েছে।
- 📌 **মিসরের রুটি দাম**: ভর্তুকি ছাড়া একেকটি রুটির দাম জুলাইয়ের ৪ মিসরীয় পাউন্ড থেকে বেড়ে এখন প্রায় ৫ পাউন্ড হয়েছে।
- 📌 **সংযুক্ত আরব আমিরাত**: রান্নার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়াতেও ভোজ্যতেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।
- 📌 **ভারতে উৎপাদন কমে যাওয়ায়**: সেপ্টেম্বরে চিনি, পেঁয়াজ ও ডালের দাম আগের মাসের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
- 📌 **কৃষ্ণসাগর অঞ্চল**: শস্য রপ্তানিসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে গম সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
- 📌 **লোহিত সাগর**: নিরাপত্তাহীনতার কারণে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
- 📌 **ইরান যুদ্ধ**: হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার রপ্তানিও ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়াচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে, আগামী বছরের শুরুতে এবং এমনকি আগামী বছরজুড়েই এর বড় প্রভাব দেখা যাবে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। এসব দেশের পরিবারগুলো আয়ের বড় অংশ খাবার কিনতে ব্যয় করে, ফলে মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে দরিদ্র মানুষকে।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি অনেক দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে, এল নিনোর প্রভাবে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা পরিবহন খরচও বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষ্ণসাগর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পণ্য পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনের ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
নেসলে ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীশ তিওয়ারি বলেছেন, পণ্যের বাড়তি দামের কারণে ব্যবসার পরিবেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এখন এক কঠিন বাস্তবতার নাম। মিসরের রাজধানী কায়রোর কেন্দ্রস্থলে বেকারি চালান সাঈদ আবদেল হামিদ মোহাম্মদ বলেছেন, শুধু ময়দার দামই বাড়েনি, দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দিতেও অনেক টাকা খরচ হয়। বিদ্যুৎ, পানি, ইস্ট ও রুটি তৈরিতে ব্যবহৃত সব উপকরণের দাম বেড়েছে।
"খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর এখন বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে, আগামী বছরের শুরুতে, এমনকি আগামী বছরজুড়েই এর বড় প্রভাব দেখা যাবে।"
"পণ্যের বাড়তি দামের কারণে ব্যবসার পরিবেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এখন এক কঠিন বাস্তবতার নাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্ববাজার, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, এশিয়া, ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, কায়রো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাক্সিমো তোরেরো (এফএও প্রধান অর্থনীতিবিদ), মনীশ তিওয়ারি (নেসলে ইন্ডিয়া চেয়ারম্যান), সাঈদ আবদেল হামিদ মোহাম্মদ (মিসরের বেকারি চালান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০টি দেশ, ২২%, ১৪%, ১৩৬ পয়েন্ট, ৩০%, ১০-১৩%, ৪ পাউন্ড, ৫ পাউন্ড, ৪০%, ৭%, ১০%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!