📌 হিমবাহের সম্মুখভাগ ভেঙে পড়লে সৃষ্ট বিপুল পরিমাণ বরফ, পানি ও ধ্বংসাবশেষের মিশ্রণ ভাটির জনপদে বিধ্বংসী বন্যার কারণ হতে পারে। নেপালের হিমালয় অঞ্চলের উচ্চতা ও ভূপ্রকৃতি বিপর্যয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে
নেপালের হিমবাহ অঞ্চলের উচ্চতা ও ভূপ্রকৃতি বিবেচনায় বিপর্যয়ের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। দেশটির হিমালয় অঞ্চলের উচ্চতা ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। মধ্যবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলের উচ্চতা ১ হাজার থেকে ৩ হাজার মিটার, মহাভারত পর্বতশ্রেণির উচ্চতা ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিটার, চুরিয়া পাহাড়ের উচ্চতা ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার এবং তরাই অঞ্চলের উচ্চতা ৬০ থেকে ৩০০ মিটার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হিমবাহের সম্মুখভাগ ভেঙে পড়লে শুধু পানি নয়, বরফ ও ধ্বংসাবশেষের মিশ্রণ তৈরি হয়, যা সাধারণ বন্যার চেয়ে বহুগুণ বিধ্বংসী
- 📌 নেপালের হিমালয় অঞ্চলের উচ্চতা ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত
- 📌 ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের প্রতিবেদনে নেপালে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যার ২৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে
- 📌 নেপালে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদ রয়েছে ৪৭টি, যার মধ্যে ২৫টি চীনে, ২১টি নেপালে এবং ১টি ভারতে
- 📌 হিমবাহ পর্যবেক্ষণে উপগ্রহ, সেন্সর ও ভূমিকম্প শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ নীরা শ্রেষ্ঠা
📰 বিস্তারিত
হিমবাহের সম্মুখভাগ ভেঙে পড়লে সৃষ্ট বিপুল পরিমাণ বরফ, পানি ও ধ্বংসাবশেষের মিশ্রণ ভাটির জনপদে বিধ্বংসী বন্যার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞ নীরা শ্রেষ্ঠা বলেন, "এ ধরনের বিপর্যয় কোনো পূর্বতথ্য ছাড়াই হঠাৎ আঘাত হানতে পারে। ফলে মানুষ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান না।"
নেপালের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত উঁচু ও শীতল হওয়ায় নদীগুলো খাড়া ঢাল বেয়ে সরু উপত্যকার মধ্য দিয়ে নেমে আসে। এসব উপত্যকায় মানুষের বসতি, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। আইসিমডের ২০২১ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের পর নেপালে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা বা জিএলওএফের ২৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ঘটনায় চীন ও নেপাল—দুই দেশেই আন্তসীমান্ত প্রভাব পড়েছে।
বর্তমানে নেপালজুড়ে কোশি, গান্ডাকি ও কার্নালি নদী অববাহিকায় ৪৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হিমবাহ পর্যবেক্ষণে উপগ্রহ, স্বয়ংক্রিয় সেন্সর ও ভূমিকম্প শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।
"হিমবাহ ও নদীর প্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা গেলে এ ধরনের ঘটনার আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব। উপগ্রহের মাধ্যমে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ, নদীর প্রবাহ পরিমাপের সেন্সর এবং ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস শনাক্ত করার প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের হিমালয় অঞ্চল
- 👥 বিশেষজ্ঞ: নীরা শ্রেষ্ঠা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭টি বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬টি হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যার ঘটনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!