📌 জার্মানির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান অগাস্ট হ্যানিং এবং সাবেক কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি.কে রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা গোপন নথি বিক্রির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে
জার্মানির সাবেক গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির প্রধান অগাস্ট হ্যানিং এবং সাবেক কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি.কে রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর গুপ্তচর কেলেঙ্কারি হিসেবে এই ঘটনাটি বিবেচিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জার্মানির নেদারল্যান্ডস সীমান্তের কাছে স্টেইনফুর্টে হ্যানিংকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- 📌 ম্যানফ্রেড ডি.কে বাভারিয়ায় তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
- 📌 ২০১০ সাল থেকে ম্যানফ্রেড বিএনডি থেকে প্রায় ২ হাজার গোপন নথি হ্যানিংকে সরবরাহ করতেন, এর বিনিময়ে অর্থ নিতেন।
- 📌 গোপন নথিতে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, রুশ সামরিক তথ্য এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার শ্রেণিবদ্ধ নথি।
- 📌 হ্যানিং ব্যক্তিগত পরামর্শক কাজে এসব তথ্য ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
জার্মানির ফেডারেল প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, ২০১০ সালের বসন্তে হ্যানিং ও ম্যানফ্রেড ডি. একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ম্যানফ্রেড বিএনডি থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য নিয়মিতভাবে হ্যানিংকে সরবরাহ করতেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ নিতেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ম্যানফ্রেড প্রায় ২ হাজার নথি হ্যানিংকে দিয়েছেন, যার মধ্যে অনেক নথিই ছিল গোপনীয় এবং শুধু বিএনডির অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।
জার্মান সংবাদপত্র জুডডয়চে সাইটুং জানিয়েছে, এসব তথ্যের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহ করা শ্রেণিবদ্ধ নথি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং রুশ সামরিক বাহিনীসংক্রান্ত তথ্য ছিল। অভিযোগ রয়েছে, হ্যানিং তাঁর ব্যক্তিগত পরামর্শক কাজেও এসব তথ্য ব্যবহার করেছেন। অন্তত একবার ম্যানফ্রেডের কাছ থেকে পাওয়া শ্রেণিবদ্ধ গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে তিনি একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার জন্য বিশ্লেষণ তৈরি করেছিলেন। তবে সেই নথি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিএনডির প্রধান ছিলেন হ্যানিং। পরে ম্যানফ্রেড তাঁর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেন এবং পরবর্তী কয়েকজন বিএনডি প্রধানেরও একই দায়িত্ব পালন করেন। হ্যানিং রাশিয়া বিষয়ে জার্মানির নিরাপত্তা ইস্যুতে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালে দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের বাস্তবতা নিয়ে জার্মানি ‘অতি সরল’ অবস্থানে রয়েছে।
তদন্তকারীরা প্রথমে একটি শিশু অপহরণের ব্যর্থ প্রচেষ্টার তদন্ত করতে গিয়ে হ্যানিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালান। সেখানেই বিএনডির ‘টপ সিক্রেট’ চিহ্নিত নথি পাওয়ার পর বিষয়টি ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হাতে যায়। তবে তদন্তে রাশিয়া জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
"রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের বাস্তবতা নিয়ে জার্মানি ‘অতি সরল’ অবস্থানে রয়েছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মানি (স্টেইনফুর্ট, নেদারল্যান্ডস সীমান্ত; বাভারিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অগাস্ট হ্যানিং (সাবেক বিএনডি প্রধান), ম্যানফ্রেড ডি. (সাবেক কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার (গোপন নথি), ৬ অক্টোবর (গ্রেপ্তার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!