📌 গাজার হলুদ রেখা আরও এগিয়ে যাওয়ায় বাস্তুচ্যুত পরিবাররা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ গাজা অধিগ্রহণ করেছে, যা এক বছর আগের চেয়ে বেশি। বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদ হারজিনের পরিবার ছয়বার স্থানান্তরিত হয়েছে, কিন্তু কোনো স্থায়ী আশ্রয় পায়নি
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ‘হলুদ রেখা’ আরও এগিয়ে যাওয়ায় বাস্তুচ্যুত পরিবারদের আর কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই। ইসরায়েলি বাহিনী ‘হলুদ রেখা’কে আরও পশ্চিম দিকে সরিয়ে নিয়ে গেছে, যার ফলে গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসেছে — যা এক বছর আগের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। শুজায়া এলাকায় বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদ হারজিনের পরিবার ছয়বার স্থানান্তরিত হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই নতুন ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসেছে — এক বছর আগের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি
- 📌 মাহমুদ হারজিনের পরিবার ছয়বার স্থানান্তরিত হয়েছে, প্রতিবারই ‘হলুদ রেখা’ এগিয়ে যাওয়ায়
- 📌 শুজায়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ‘হলুদ রেখা’কে ২০০ মিটার পশ্চিম দিকে সরিয়ে নিয়ে গেছে, বাস্তুচ্যুতদের আর কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই
- 📌 ‘হলুদ রেখা’ এগিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাঙ্ক, পদাতিক বাহিনী এবং আর্টিলারি ব্যবহার করে
- 📌 গাজায় এক বছরে প্রায় ১,৫০০ প্যালেস্টাইনির মৃত্যু হয়েছে, যুদ্ধ শুরু থেকে ৭৪,০০০-এরও বেশি প্যালেস্টাইনির মৃত্যু হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গাজা উপত্যকার শুজায়া এলাকায় বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদ হারজিন তার পরিবারের সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য। তিনি বলেছেন, প্রতিবারই ইসরায়েলি বাহিনী ‘হলুদ রেখা’ এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তারা নতুন এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। তিনি বলেছেন, “প্রতিবার তারা এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা পিছনে সরিয়ে যাই।”
‘হলুদ রেখা’ গাজার ভূখণ্ডকে ইসরায়েলি ও প্যালেস্টাইনি নিয়ন্ত্রণ এলাকায় বিভক্ত করেছে, যা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত ‘অস্থায়ী শান্তি চুক্তির’ অংশ। তবে ইসরায়েলি বাহিনী এই রেখাটিকে আরও গাজার অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়ে গেছে। সংযুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, যা এক বছর আগের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি।
১১ অক্টোবর, শুজায়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ‘হলুদ রেখা’কে দশকোটি মিটার পশ্চিম দিকে সরিয়ে নিয়ে গেছে। এর ফলে এলাকাটি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং প্যালেস্টাইনি পরিবারদের আরো বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। হারজিনের পরিবার ১০ জনের। তিনি বলেছেন, “আমি ছয়বার স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রতিবারই রেখাটি এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমি ঝুঁকি মনে করতাম এবং পিছনে সরিয়ে যেতাম। আমি একটু স্থায়ীভাবে বসবাস করার চেষ্টা করতাম, কিন্তু প্রতিবারই নতুন ঝুঁকির মুখোমুখি হতাম।”
তিনি বলেছেন, “আমি একটি টেন্ট পিচ করেছি এবং এক রাতে সেখানে ঘুমিয়েছি। পরের দিন সকালে আমরা আমাদের শয়নসামগ্রী এবং অন্যান্য জিনিস নিয়ে চলে গিয়েছি।” তিনি আরও বলেছেন, “রেখাটি এগিয়ে যাওয়ার সময় ট্যাঙ্ক, পদাতিক বাহিনী এবং আর্টিলারি ফায়ার হয়। সবকিছুই হয় যেন তারা রেখাটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।”
৩২ বছর বয়সী আসমা আলি তার তিন সন্তানের সাথে শুজায়া এলাকায় বসবাস করেন। তিনি বলেছেন, ‘হলুদ রেখা’ এগিয়ে যাওয়ায় পরিবারটি সাত বা আটবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমরা গাজা সিটি কেন্দ্রে থাকতাম, পরে শুজায়া এলাকায় ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু এক মাস পরে আবার গোলাবর্ষণ এবং বাস্তুচ্যুতির ভয় দেখে আমরা আরো স্থানান্তরিত হতে হয়েছিল।”
বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে অনেকেই ড্রোন, হেলিকপ্টার, আর্টিলারি ফায়ার এবং বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। হারজিন বলেছেন, “রাতের সময় রেখাটি এগিয়ে যাওয়ার সময় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। আমরা ট্যাঙ্ক, পদাতিক বাহিনী এবং আর্টিলারি ফায়ারের শব্দ শুনতে পাই। সবকিছুই হয় যেন তারা রেখাটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।”
"প্রতিবার তারা এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা পিছনে সরিয়ে যাই।"
"আমি ছয়বার স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রতিবারই রেখাটি এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমি ঝুঁকি মনে করতাম এবং পিছনে সরিয়ে যেতাম।"
"আমি একটি টেন্ট পিচ করেছি এবং এক রাতে সেখানে ঘুমিয়েছি। পরের দিন সকালে আমরা আমাদের শয়নসামগ্রী এবং অন্যান্য জিনিস নিয়ে চলে গিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শুজায়া, গাজা সিটি, গাজা উপত্যকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহমুদ হারজিন (৩৫), আসমা আলি (৩২), মাহমুদ হারজিনের পরিবার (১০ জন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ শতাংশ (গাজার ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ), ১,৫০০ (১ বছরে প্যালেস্টাইনির মৃত্যু), ৭৪,০০০ (যুদ্ধ শুরু থেকে প্যালেস্টাইনির মৃত্যু), ২০০ মিটার (হলুদ রেখার এগিয়ে যাওয়া), ৬ বার (মাহমুদ হারজিনের স্থানান্তর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!