📌 গাজায় ইসরাইলের 'হলুদ রেখা' ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে, ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। ৬৫% এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ৭৪ হাজারাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। মাহমুদ হারজিনের মতো পরিবারগুলো স্থায়ী আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছে, কিন্তু প্রতিবারই নতুন বিপদে পড়ছে
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের ‘হলুদ রেখা’ ক্রমাগত সামনে এগিয়ে আসছে, ফলে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের বসবাসের জায়গা দিনে দিনে সঙ্কুচিত হচ্ছে। ইসরাইলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে এলাকার হার বেড়ে গেছে ৬৫ শতাংশে — এক বছর আগের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। এই প্রক্রিয়ায় বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো, যাদেরকে বারবার আশ্রয় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজার ৬৫% এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে, এক বছর আগে ছিল ৫৩%
- 📌 মাহমুদ হারজিনের মতো ৩৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো ছয়বারও বেশি আশ্রয় পরিবর্তন করেছে
- 📌 ইসরাইলের ‘হলুদ রেখা’ সামনে এগিয়ে আসার সাথে সাথে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গা সঙ্কুচিত হচ্ছে
- 📌 গত এক বছরে ইসরাইলের হামলায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে
- 📌 ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ৭৪ হাজারাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ক্রমাগত বাড়ছে। ‘হলুদ রেখা’ নামে পরিচিত এই সীমানা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে ইসরাইলের বাহিনী ক্রমাগত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভেতরে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদ হারজিনের পরিবার ছয়বারও বেশি আশ্রয় পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, ‘যখনই তারা একটু এগিয়ে আসে, আমরা একটু পেছনে সরে যাই’। হারজিনের পরিবারকে বর্তমানে তাঁবুতে আশ্রয় নিতে হয়েছে, যা হলুদ রেখার প্রায় ২০০ মিটার পেছনে অবস্থিত।
২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গাজাকে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ভাগ করে ‘হলুদ রেখা’ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইলের বাহিনী গাজার আরো ভেতরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের সীমানা চিহ্নিত করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এক বছর আগে এই হার ছিল ৫৩ শতাংশ। গত ১১ অক্টোবর পূর্ব গাজা সিটির শুজায়েয়া এলাকায় হলুদ কংক্রিটের ব্লকগুলো কয়েক ডজন মিটার পশ্চিমে সরিয়ে নেয় ইসরাইলের বাহিনী। এতে এলাকাটির আরো অংশ ইসরাইলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। নতুন করে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হন ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো।
হারজিনের পরিবারকে বর্তমানে স্থায়ী আশ্রয় খুঁজে বেড়াতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রায় ছয়বার জায়গা বদল করেছি। যখনই সীমানা একটু এগিয়ে এসেছে, আমার মনে হয়েছে সেখানে থাকা বিপজ্জনক। তাই পেছনে সরে গিয়ে অন্য কোথাও কিছুদিন থাকার চেষ্টা করেছি’। হারজিনের সর্বশেষ আশ্রয়স্থলটিও এক রাতের বেশি টেকেনি। তাঁবু খাটিয়ে সেখানে এক রাত ঘুমানোর পরদিন সকালে আবারও জিনিসপত্র গুছিয়ে চলে যেতে হয়। কারণ, ইসরাইলের বাহিনী হলুদ রেখা আরো সামনে সরিয়ে এনেছিল।
হলুদ রেখা সরানোর রাতগুলো সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের। ওই সময় ট্যাংক, সৈন্যদের চলাচল এবং ভারী গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। হারজিন বলেন, ‘যে রাতে তারা প্রতিরক্ষা রেখা সরায়, তখন ট্যাংক ও পদাতিক সৈন্য এগিয়ে আসে, গোলাবর্ষণও চলে’। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে এসব হামলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে।
"যখনই তারা একটু এগিয়ে আসে, আমরা একটু পেছনে সরে যাই। ওরা সম্ভবত রেখাটি আবারো এগিয়ে আনবে। যতবার আমাদের পালাতে হয়, ততবারই আরো পেছনে সরে যেতে হয়। এভাবে আমাদের চলতেই হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা উপত্যকা, পূর্ব গাজা সিটির শুজায়েয়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহমুদ হারজিন (৩৫ বছর), আসমা আলি (৩২ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫% (ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে এলাকা), ৭৪ হাজার (নিহত ফিলিস্তিনি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!