📌 গাজার তিন বছরের যুদ্ধে ৫০০০-৬০০০ জনের পা কেটে ফেলা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে টেন্টে চিকিৎসক, আইনজীবী ও ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসেছেন। বাড়ি-ঘর, অফিস, ক্লিনিক সবই ধ্বংসের শিকার। টেন্টে চিকিৎসা করা, আইনি পরামর্শ দেওয়া, ব্যবসা চালানো — এখন গাজার নতুন বাস্তবতা
গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় টেন্টে চিকিৎসা, আইনি পরামর্শ ও ব্যবসা চালানোর নতুন বাস্তবতা গড়ে উঠেছে। তিন বছরের যুদ্ধে গাজার ৮০% ভবন ধ্বংসের শিকার হয়েছে। এতে পেশাজীবীরা তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু টেন্টে কাজ করার মাধ্যমে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গাজার ৫০০০-৬০০০ জনের পা কেটে ফেলা হয়েছে** — এর মধ্যে অনেকেরই অ্যাম্পুটেশন করা হয়েছে যুদ্ধের সময়।
- 📌 **প্রসথেটিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ আল-খালিদি** তার ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্লিনিক থেকে টেন্টে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
- 📌 **টেন্টে কাজের চ্যালেঞ্জ**: অস্থায়ী অফিসে বিদ্যুৎ অস্থির, জায়গা সীমিত, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
- 📌 **রেন্টের দাম ১০ গুণ বেড়েছে** — গাজার বাড়ি-ঘর ধ্বংসের কারণে অফিস ভাড়া অপারগ হয়ে পড়েছে।
- 📌 **সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ওমর আল-তাওয়াশি** তার অফিস ধ্বংসের পর টেন্টে কাজ শুরু করেছেন।
📰 বিস্তারিত
গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় প্রসথেটিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ আল-খালিদি তার টেন্টে অফিসে বসেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার মূল ক্লিনিক রাফাহের আল-বাহর স্ট্রিটে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলি বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে খান ইউনিসের পুরাতন শহরে তার দুটি আরেকটি ক্লিনিকও ধ্বংস হয়ে যায়। তিনটি ক্লিনিক ধ্বংস হওয়ার পর তিনি যে যন্ত্রপাতি বাঁচাতে পারেন, সেগুলি নিয়ে টেন্টে চিকিৎসা শুরু করেন।
ডা. আল-খালিদি বলেন, “টেন্টে কাজ করা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা বন্ধ করা থেকে এটা অনেক ভালো। আমার রোগীরা অপারেশন করে পা কেটে ফেলা হয়েছে, কেউ কেউ তাদের প্রসথেটিক ডিভাইসের ফলো-আপ চাইছে। তারা অপেক্ষা করতে পারবে না।”
গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলের যুদ্ধে ৫০০০ থেকে ৬০০০ জনের পা কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও, গাজার ৮০% ভবন ধ্বংসের শিকার হয়েছে, যা বাড়ি-ঘর ও অফিসের জন্য একটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে। রেন্টের দাম ১০ গুণ বেড়ে গেছে, যা পেশাজীবীদের জন্য অপারগ হয়ে পড়েছে।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ওমর আল-তাওয়াশি তার অফিস ধ্বংসের পর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ঘরে কাজ শুরু করেন। কিন্তু তার বাড়িও ধ্বংস হয়ে যায়। তাই তিনি ডির আল-বালাহে একটি টেন্টে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, “টেন্টে কাজ করা আমার পেশাগত পছন্দ নয়। কিন্তু আমার কাজের জায়গা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অফিস ভাড়া বাড়তে বাড়তে আমার জন্য অপারগ হয়ে পড়েছে। আমি বেকার থাকতে পারি না।”
"টেন্টে কাজ করা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা বন্ধ করা থেকে এটা অনেক ভালো। আমার রোগীরা অপারেশন করে পা কেটে ফেলা হয়েছে, কেউ কেউ তাদের প্রসথেটিক ডিভাইসের ফলো-আপ চাইছে। তারা অপেক্ষা করতে পারবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা (আল-মাওয়াসি, খান ইউনিস, ডির আল-বালাহ, রাফাহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মুহাম্মদ আল-খালিদি, ওমর আল-তাওয়াশি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০০-৬০০০ জন অ্যাম্পুটেশন, ৮০% ভবন ধ্বংস, রেন্টের দাম ১০ গুণ বেড়েছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!