📌 গাজার নুসেইরাতের একটি স্কুলে ২০২৩ সালে তোলা একটি ছবিতে থাকা ১৫ জন কিশোরীর মধ্যে তিন বছর পর কেউ নিহত, কেউ পালিয়ে গেছে, কেউ বাস্তুচ্যুত। তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। আল জাজীরা তাদের বর্তমান অবস্থা অনুসন্ধান করেছে
গাজার নুসেইরাতে অবস্থিত একটি স্কুলের ছবিতে ২০২৩ সালে তোলা একটি ছবিতে থাকা ১৫ জন কিশোরীর মধ্যে তিন বছর পর তাদের জীবন যুদ্ধের কারণে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী গণিত শিক্ষিকা মাহা তাহা তাদের শিক্ষাজীবন ও স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের গর্বিত ছিলাম। তাদের ভবিষ্যতে আলো ছিল। কিন্তু অক্টোবর ৭ তারিখের ঘটনা তাদের জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৫ জন কিশোরীর মধ্যে ১ জন নিহত, ৪ জন গাজা ছেড়ে চলে গেছে, বাকিরা বাস্তুচ্যুত** — তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে।
- 📌 **মাহা তাহা ২০ বছর ধরে গণিত শিক্ষিকা** — তিনি ২০২৩ সালের ছবিতে থাকা ১৭-১৮ বছর বয়সী ১৫ জন কিশোরীর শিক্ষক ছিলেন।
- 📌 **মুসকাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখন শরণার্থী শিবির** — ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে আর্টিলারি আক্রমণে স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বর্তমানে শরণার্থীরা এখানে আশ্রয় নিচ্ছে।
- 📌 **৩ জন কিশোরী ৩ বছর পর দেখা হয়** — যাসমিন আবু জায়েদ, আয়া আদনান ও লিনা ইউনিস আব্দ আল-কাদেরের মধ্যে ৩ বছর পর দেখা হয়। তারা এখনও একই এলাকায় বাস করে।
- 📌 **গাজা থেকে পালিয়ে যাওয়া ৪ জনের মধ্যে একজন মিশরে বাস করে** — গাইদা জাকউত মিশরে বসবাস করছেন এবং তারা একটি প্রাইভেট ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
📰 বিস্তারিত
গাজার নুসেইরাতের মুসকাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৩ সালের জুন মাসে তোলা একটি ছবিতে ১৫ জন কিশোরীর মুখ দেখা যায়। ছবিতে তারা তাদের শিক্ষক মাহা তাহার সাথে। মাহা বলেন, ‘আমি তাদের গর্বিত ছিলাম। তাদের ভবিষ্যতে আলো ছিল। তারা অধ্যয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিত্বেও বিশেষ ছিল। কিন্তু অক্টোবর ৭ তারিখের ঘটনা তাদের জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে।’
ছবিতে থাকা ১৫ জন কিশোরীর মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন, চারজন গাজা ছেড়ে চলে গেছেন এবং বাকিরা বাস্তুচ্যুত। আল জাজীরা তাদের বর্তমান অবস্থা অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। মুসকাত মাধ্যমিক বিদ্যালয় এখনও টিকে আছে, কিন্তু ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে আর্টিলারি আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্কুলটি এখন শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
১০ টার পরে একটি চতুর্ষুখে, যাসমিন আবু জায়েদ, আয়া আদনান এবং লিনা ইউনিস আব্দ আল-কাদের স্কুলে উপস্থিত হন। তারা তিনজন একে অপরের সাথে ৩ বছর পর দেখা করেন। আয়া বলেন, ‘আমি তোমাকে ৩ বছর দেখিনি। তুমি কোথায় ছিলে? তুমি কখনো এখানে আসতো না।’ লিনা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে আসেন, যেখানে আয়ার ছোট বোনের জন্য টাওজিহি পরীক্ষার জন্য বই রয়েছে।
মাহা শিক্ষা শেষ করার পর তার ‘ছেলে-মেয়েরা’কে বাঁহে নিয়ে অভিবাদন জানান। তারা একসাথে কথা বলতে শুরু করেন, একে অপরের সাথে কথা বলতে শুরু করেন। মাহা তার ফোনে পুরাতন ছবিটি দেখান। তারা ছবিতে থাকা গাছের দিকে ইশারা করেন, স্মরণ করতে শুরু করেন তাদের স্কুলের দিনগুলি।
"আমি তাদের গর্বিত ছিলাম। আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে তাদের ভবিষ্যতে আলো ছিল। তারা অধ্যয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিত্বেও বিশেষ ছিল। কিন্তু অক্টোবর ৭ তারিখের ঘটনা তাদের জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নুসেইরাত, গাজা পট্টি, মুসকাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহা তাহা (শিক্ষিকা), যাসমিন আবু জায়েদ, আয়া আদনান, লিনা ইউনিস আব্দ আল-কাদের, গাইদা জাকউত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ জন কিশোরী, ২০ বছর শিক্ষকতা, ১৭-১৮ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!