📌 গাজা পট্টিতে তিন বছরের যুদ্ধের পর স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে গুগল ম্যাপস। ইউনাইটেড নেশনস স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউএনওএসএট) অনুযায়ী, গাজার ৮২% ভবন ধ্বংসপ্রায় এবং ২০০,০০০টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসের শিকার হয়েছে। রাফাহ থেকে উত্তর গাজা পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় ধ্বংসের চিত্র স্পষ্ট দেখা যায়
গাজা পট্টিতে তিন বছরের যুদ্ধের পর স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে ধ্বংসের অপরূপ দৃশ্য। গুগল ম্যাপসের সর্বশেষ আপডেটেড স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যায়, যুদ্ধের কারণে গাজার প্রতিটি এলাকা ধ্বংসের শিকার হয়েছে। রাস্তার ধার থেকে বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কেবলমাত্র প্রধান সড়কগুলোর অদৃশ্য রেখা দেখা যায়। কৃষিজমি জ্বলে গেছে এবং শতাব্দী পুরানো ধর্মীয় স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউনাইটেড নেশনস স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউএনওএসএট) এর সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ‘সরদমা’ বন্ধের পর থেকে গাজায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সংখ্যা ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট ৮২ শতাংশ ভবন, প্রায় ২০০,০০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত। প্যালেস্টাইনীয় শরণার্থীদের জন্য ইউনাইটেড নেশনস রিফিউজি ওয়ার্কস এজেন্সি (ইউএনআরডব্লিউএ) এর তথ্য অনুযায়ী, এই ধ্বংসের পরিমাণ অত্যন্ত ভয়াবহ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজার ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত, যার মধ্যে ২০০,০০০টি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত
- 📌 খান ইউনিস গভর্নরেটে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা সর্বাধিক ৫১,৮৮৫টি, কৃষিজমির ৯৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত
- 📌 গাজা সিটি গভর্নরেটে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা ৫১,৫৩০টি, যার মধ্যে ৪১,৬৬৩টি গাজা সিটিতে
- 📌 ইন্দোনেশীয় ইস্তিকলাল মসজিদ (খান ইউনিস) যুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত, যা মাত্র দুই বছর আগে পুনরায় খোলা হয়েছিল
- 📌 রাফাহের টাল আস-সুলতান এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত, যেখানে একসময় ঘনবসতিপূর্ণ ছিল
- 📌 আল-মাওয়াসি এলাকা, যা ‘মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল, বর্তমানে শরণার্থীদের জন্য শিবিরে পরিণত হয়েছে
- 📌 গাজার মৎস্য শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু গাজা সিটি পোর্ট সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত, প্রায় ১১০,০০০ মানুষের জীবিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত
- 📌 জাবালিয়া শরণার্থী শিবির সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত, যেখানে পুরো ব্লকগুলো ধ্বংসের শিকার হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গাজা পট্টির দক্ষিণ প্রান্তের রাফাহ শহর, যা গাজা থেকে বিতাড়িত প্যালেস্টাইনিদের জন্য একটি প্রধান আশ্রয়স্থল ছিল, ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর এক মিলিয়ন মানুষকে আরো উত্তরে খান ইউনিস এবং ডের এল-বালাহে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। ইউনাইটেড নেশনস রিফিউজি ওয়ার্কস এজেন্সি (ইউএনআরডব্লিউএ) এর শরণার্থী শিবিরগুলো খালি হয়ে গিয়েছিল। রাফাহের পশ্চিমে অবস্থিত টাল আস-সুলতান এলাকাটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, যেখানে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পরিবর্তে শুধু মাটি রয়েছে।
আল-মাওয়াসি, যা রাফাহ ও খান ইউনিস গভর্নরেটের উপকূলীয় একটি খালি এলাকা ছিল, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল এটি ‘মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং বিতাড়িত প্যালেস্টাইনিদেরকে সেখানে আশ্রয় নিতে বলেছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে যখন ইসরায়েল রাফাহে আক্রমণ শুরু করেছিল, তখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সতর্ক করেছিলেন, “যদি তারা রাফাহে প্রবেশ করে, আমি তাদের অস্ত্র সরবরাহ করব না।” কিন্তু ইসরায়েল আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছিল এবং হাজারো মানুষকে আরো বেশি বিতাড়িত করে আল-মাওয়াসি এলাকায় পাঠিয়েছিল। বর্তমানে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় এই এলাকাটি শিবিরে পরিণত হয়েছে, যেখানে পরিবারগুলো শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে।
খান ইউনিস গভর্নরেটে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা সর্বাধিক ৫১,৮৮৫টি, যা গাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। এই এলাকাটি গাজার প্রধান কৃষি কেন্দ্র ছিল এবং কৃষিজমির ৯৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খান ইউনিসের মা’আন এলাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশীয় ইস্তিকলাল মসজিদ, যা মাত্র দুই বছর আগে পুনরায় খোলা হয়েছিল, যুদ্ধের সময় সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। গাজা সিটি গভর্নরেটে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা ৫১,৫৩০টি, যার মধ্যে ৪১,৬৬৩টি গাজা সিটিতে অবস্থিত। গাজা সিটি পোর্ট, যা মৎস্য শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং প্রায় ১১০,০০০ মানুষের জীবিকা সমর্থন করত, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশিরভাগ মৎস্য নৌকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
উত্তর গাজা গভর্নরেটে কৃষিজমির ক্ষতি সর্বাধিক, যেখানে ৯৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের সময় বেইত লাহিয়া, জাবালিয়া এবং অন্যান্য উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বারবার ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বিতাড়ন এবং মানবিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা ছিল। জাবালিয়া শরণার্থী শিবির, যা গাজার আটটি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বৃহত্তম, সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় পুরো ব্লকগুলো ধ্বংসের শিকার হয়েছে।
"মানবিক অঞ্চল"
"যদি তারা রাফাহে প্রবেশ করে, আমি তাদের অস্ত্র সরবরাহ করব না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা পট্টি (রাফাহ, খান ইউনিস, গাজা সিটি, উত্তর গাজা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জো বাইডেন (তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট), ইউনাইটেড নেশনস স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউএনওএসএট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮২% (ক্ষতিগ্রস্ত ভবন), ২০০,০০০ (সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন), ৫১,৮৮৫ (ক্ষতিগ্রস্ত ভবন - খান ইউনিস), ৫১,৫৩০ (ক্ষতিগ্রস্ত ভবন - গাজা সিটি), ৯৪% (ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!