📌 গাজার নাট্যকার আলি আবু ইয়াসিন লন্ডনে ‘সাহসিক লেখক’ পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ পুরস্কার আমার জন্য নয়, বরং গাজা, ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য’। যুদ্ধের সময়ও তিনি সাহসিকতার সাথে লেখালেখি অব্যাহত রেখেছেন।
লন্ডন, যুক্তরাজ্য — গাজার নাট্যকার আলি আবু ইয়াসিন, যিনি যুদ্ধের সময়ও সাহসিকতার সাথে লেখালেখি অব্যাহত রেখেছিলেন, লন্ডনে ‘সাহসিক লেখক ২০২৬’ পুরস্কার পেয়েছেন। এই পুরস্কারটি পেলে তিনি বলেছেন, ‘এ পুরস্কার আমার জন্য নয়, বরং গাজা, ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য।’ আল জাজীরা’র সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার গাজা, ফিলিস্তিন ও সব ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি বড় সাফল্য।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গাজার নাট্যকার আলি আবু ইয়াসিন** লন্ডনে ‘সাহসিক লেখক ২০২৬’ পুরস্কার পেয়েছেন, যা ইংলিশ পেনের দ্বারা প্রদত্ত হয়।
- 📌 **৬২ বছর বয়সী আলি** গাজার শাটি শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠেন এবং শৈশবে থিয়েটার ও ওদ নাগাদে দক্ষতা অর্জন করেন।
- 📌 **২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের সময়** তিনি নাটক লেখা বন্ধ করে দেন এবং গাজায় যুদ্ধের সময়ের জীবনবৃত্তান্ত লিখতে শুরু করেন।
- 📌 **ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৭৪,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত** এবং অধিকাংশ বেঁচে থাকা লোকেরা বহুবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আলি আবু ইয়াসিনের পরিবারও বাস্তুচ্যুত হয় এবং তার ছেলে রাব্বেলের নিচে পড়ে মারা যায়।
- 📌 **২০০৮ সালে তিনি ‘গাজা মনোলগস’ নামে একটি নাট্য সিরিজ লিখেন**, যা গাজার জীবনের আনন্দ ও দুঃখের ঘটনাগুলো তুলে ধরে।
- 📌 **২০১৮ সালে ইসরায়েলের বোমা হামলায় গাজার সাইদ আল মিশাল থিয়েটার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়**, যা ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও পরিচয়ের একটি প্রতীক ছিল।
- 📌 **ফ্রান্সের একটি শিল্পী বাসস্থান প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি গাজা ছেড়ে চলে যান**, কিন্তু বলেন, ‘যুদ্ধ আমার জীবনে বসবাস করে, গাজা আমার জীবনে বসবাস করে।’
- 📌 **ইংলিশ পেনের একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ জাকলিন রোজ** তাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেন।
- 📌 **আলি আবু ইয়াসিনের নাটক ‘৫০ মিনিট’ গাজায় মঞ্চায়িত হয়**, যেখানে অভিনেতারা গাড়ি পার্কিংয়ে তৈরি করা মজবুত ক্যাম্পে অনুশীলন করতেন।
📰 বিস্তারিত
৬২ বছর বয়সী আলি আবু ইয়াসিন গাজার শাটি শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠেন। তিনি শৈশবে থিয়েটার ও ওদ নাগাদে দক্ষতা অর্জন করেন এবং বলেন, ‘আমি শৈশবে থিয়েটার ও সঙ্গীতের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করতে চেয়েছি।’ ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের সময় তিনি নাটক লেখা বন্ধ করে দেন এবং গাজায় যুদ্ধের সময়ের জীবনবৃত্তান্ত লিখতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘দু’বছর ধরে আমি গাজায় যুদ্ধের সময়ের ঘটনাগুলো লিখেছি। থিয়েটার ছিল সম্ভব নয়, কারণ গাজা ধ্বংসের মুখে ছিল।’
ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৭৪,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অধিকাংশ বেঁচে থাকা লোকেরা বহুবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আলি আবু ইয়াসিনের পরিবারও বাস্তুচ্যুত হয় এবং তার ছেলে রাব্বেলের নিচে পড়ে মারা যায়। তার বাড়িও বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘দু’বছর ধরে আমি আমার পরিবারকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি, তাদের দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি এবং বিশ্বকে আমার কথা শুনতে দিতে চেয়েছি।’
২০০৪ সালে তিনি গাজার সাইদ আল মিশাল থিয়েটারে যোগ দেন, যা ২০১৮ সালে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই থিয়েটারকে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও পরিচয়ের একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হত। ২০০৮ সালে তিনি ‘গাজা মনোলগস’ নামে একটি নাট্য সিরিজ লিখেন, যা গাজার জীবনের আনন্দ ও দুঃখের ঘটনাগুলো তুলে ধরে।
২০২৬ সালের অক্টোবরে তিনি ফ্রান্সের একটি শিল্পী বাসস্থান প্রোগ্রামের মাধ্যমে গাজা ছেড়ে চলে যান। তিনি বলেন, ‘আমি গাজা ছেড়ে চলে গেছি, কিন্তু যুদ্ধ আমার জীবনে বসবাস করে, গাজা আমার জীবনে বসবাস করে।’ তিনি ফ্রান্সে পানির সংরক্ষণ ও বর্জ্য কমাতে শুরু করেন, যা তিনি গাজায় যুদ্ধের সময় থেকে শিখেছিলেন।
ইংলিশ পেনের একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ জাকলিন রোজ তাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেন। এই পুরস্কারটি ‘সাহসিক লেখক’ হিসেবে প্রদত্ত হয়, যা একজন লেখককে স্বাধীনতা ও প্রকাশের অধিকার রক্ষায় সাহসিকতার জন্য প্রদান করা হয়।
"এ পুরস্কার আমার জন্য নয়, বরং গাজা, ফিলিস্তিন ও সব ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, যুক্তরাজ্য; গাজা, ফিলিস্তিন; ফ্রান্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলি আবু ইয়াসিন, জাকলিন রোজ, ইংলিশ পেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২ বছর (আলি আবু ইয়াসিনের বয়স), ৭৪,০০০ (গাজায় নিহত ব্যক্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!