📌 গাজায় ইসরায়েলি হামলার ফলে জমে গেছে ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, যার নিচে ১০ হাজার মরদেহ চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণে ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে এবং খরচ হবে শত শত কোটি ডলার। ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধবিরতির অস্থিরতা কাজটিকে আরও কঠিন করেছে
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ বিশ্বের ইতিহাসে অদ্বিতীয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, পুরো গাজায় জমে আছে ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, যার নিচে চাপা পড়েছে ১০ হাজার মরদেহ। এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণে অন্তত ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে এবং খরচ হবে শত শত কোটি ডলার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ জমে গেছে, যা গত ১৮ বছরের সারা বিশ্বের যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ২০ গুণ বেশি
- 📌 ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার মরদেহ, যা স্থানীয় পরিবারদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়
- 📌 ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধবিরতির অস্থিরতার কারণে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে বাধা পড়ছে
- 📌 ৫৮০ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র ১.৫ শতাংশ সরানো হয়েছে
- 📌 ধ্বংসস্তূপ থেকে রিসাইকেল করা কংক্রিট দিয়ে রাস্তা মেরামত ও গর্ত ভরাট করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকার বৈরুত স্ট্রিটের মতো প্রধান সড়কগুলি এখন জনশূন্য। সড়কের একপাশে ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল ভবন থেকে বাস্তুচ্যুত পরিবাররা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ধ্বংসের কারণে রাস্তায় নোংরা পানি বইছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান বলেছেন, 'আমরা হাতে একটা চামচ নিয়ে পুরো সমুদ্র সেঁচে ফেলার চেষ্টা করছি।' তিনি দিনশেষে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে এই কথা বলেছেন।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ ৬ কোটি ১০ লাখ টন। এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণে সময় লাগবে অন্তত ৭ থেকে ১০ বছর এবং খরচ হবে শত শত কোটি ডলার। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স জানান, গত ১৮ বছরে সারা বিশ্বের সব যুদ্ধ মিলিয়ে যে পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, গাজার এই ধ্বংসস্তূপ তার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি।
গত দুই বছরেরও বেশি সময়ে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গাজায় ৫৮০ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে এবং ৩ লাখ টনের বেশি রিসাইকেল করা হয়েছে। তবে এটি মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র ১.৫ শতাংশ। ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধবিরতির অস্থিরতার কারণে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে বাধা পড়ছে। ইসরায়েলের 'দ্বৈত ব্যবহারের' অজুহাতে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী ঢুকতে দিচ্ছে না।
ইউএনডিপি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ধ্বংসস্তূপ রিসাইকেল করার পথ বেছে নিয়েছে। তারা গাজাজুড়ে পাঁচটি ক্রাশিং সাইট পরিচালনা করছে। যুদ্ধের আগে থেকেই গাজায় থাকা সাতটি পুরোনো ক্রাশার মেশিন দিয়ে চলছে এই কাজ। তবে খুচরা যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন অয়েলের তীব্র সংকটে মেশিনগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। ডব্লিউএফপির প্রকৌশলী নেহাল আবু হাসান বলেছেন, প্রাকৃতিক নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় এই ভাঙা কংক্রিটের মান অনেক নিচু।
বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য ধ্বংসস্তূপ সরানোর সুফল কিছুটা হলেও পৌঁছেছে। জাবালিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তেল আল-হাওয়ায় আশ্রয় নেওয়া ইব্রাহিম দারাদোনা জানান, আবর্জনা ও কংক্রিটের স্তূপ সরানোয় পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব কমেছে, গাড়ি চলাচল সহজ হয়েছে এবং শিশুদের খেলার জায়গাও কিছুটা নিরাপদ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাটের সামনের জঞ্জাল সরিয়ে দেওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবার দোকান খুলতে শুরু করেছেন।
"মনে হচ্ছে আমরা হাতে একটা চামচ নিয়ে পুরো সমুদ্র সেঁচে ফেলার চেষ্টা করছি।"
— আহমেদ আলিয়ান, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রকৌশলী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা উপত্যকা, তেল আল-হাওয়া এলাকা, বৈরুত স্ট্রিট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আহমেদ আলিয়ান, জ্যাকো সিলিয়ার্স, ইব্রাহিম দারাদোনা, নেহাল আবু হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ কোটি ১০ লাখ টন (ধ্বংসস্তূপ), ১০ হাজার (মরদেহ), ৫৮০ কিলোমিটার (পরিষ্কার করা রাস্তা), ৭-১০ বছর (অপসারণে সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!