📌 গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় তিন বছর পর আবার শুরু হলো শিক্ষাকার্যক্রম। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ৯৮% স্কুল ধ্বংস হওয়ায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত। অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে বালুর ওপর তাঁবুতে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন শিশুরা
গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় তিন বছর পর আবার শুরু হলো শিক্ষাকার্যক্রম। তবে ধ্বংসযজ্ঞের ছায়ায় এই নতুন শুরু অনেকটাই কঠিন। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় গাজার ৯৮ শতাংশ স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী সশরীরে ক্লাস থেকে বঞ্চিত রয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সংঘাতে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী ও ৭৭০ জনের বেশি শিক্ষা খাতের কর্মী নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩২ জন শিক্ষক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজায় তিন বছর পর আবার শুরু হলো শিক্ষাকার্যক্রম, কিন্তু ৯৮% স্কুল ধ্বংস হওয়ায় অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা চলছে
- 📌 ইউনিসেফের তথ্য: ৬ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত, ২২ হাজার শিক্ষার্থী ও ৭৭০ জন কর্মী নিহত
- 📌 শিক্ষার্থীরা তাঁবু, টিন ও কাঠের অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে বালুর ওপর বসে পড়াশোনা করছে
- 📌 ১৫ বছর বয়সী সামার বলেছেন, ‘আমরা ফোনে পড়াশোনা করেছি, কিন্তু শিক্ষকদের সরাসরি দেখিনি’
- 📌 গাজার ৬০% এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা সরঞ্জামের দামে
📰 বিস্তারিত
গাজার পূর্ব খান ইউনিসের শিক্ষা পরিচালক ইব্রাহিম রমাদান বলেছেন, এই সংঘাতে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী ও ৭৭০ জনের বেশি শিক্ষা খাতের কর্মী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩২ জন শিক্ষক। তিনি আরও বলেছেন, যুদ্ধের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংগঠনের সহায়তায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে।
১৫ বছর বয়সী সামার আবু সালমিও ফিরেছে শ্রেণিকক্ষে। তিনি বলেন, ‘আমরা ফোনে পড়াশোনা করেছি এবং আমাদের শিক্ষকদের দেখিনি। এখন আমরা আবার আমাদের স্বপ্নের পেছনে ছুটছি। এক তাঁবু থেকে আরেক তাঁবুতে।’ তবে স্কুলে ফিরলেও পড়াশোনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করা তার পরিবারের জন্য কঠিন। সামার মনে করে, যুদ্ধের আগে জীবন অনেক সহজ ছিল। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের আগে আমাদের জন্য সবকিছুই পাওয়া যেত—খাতা, কলম, পণ্য, পোশাক, বাইরে ঘুরতে যাওয়া, এমন সব জিনিস, যা আমরা কম দামে কিনতে পারতাম।’
১৪ বছর বয়সী ইয়ামেন আবু সামরা বলেছেন, ‘আগে আমরা স্কুলে যাওয়ার জন্য আনন্দ নিয়ে ঘুম থেকে উঠতাম। এখন স্কুলে আসার সময় আমরা গুলি, রকেট, হামলার ভয়ে থাকি।’ শিক্ষা কর্মকর্তাদের হিসাবে, এ বছর অন্তত ৫ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অস্থায়ী বেসরকারি স্কুল, অস্থায়ী শিক্ষা কেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্রে সশরীরে ক্লাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যারা শ্রেণিকক্ষে যেতে পারবে না, তাদের জন্য অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম চালু থাকবে।
"আমরা পড়ব, তাঁবুতে হলেও পড়ব।" — মোয়ায়েদ আবু মোস্তফা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা (পূর্ব খান ইউনিস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইব্রাহিম রমাদান, মোয়ায়েদ আবু মোস্তফা, সামার আবু সালমা, ইয়ামেন আবু সামরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৮% (স্কুল ধ্বংস), ৬ লাখ ৬০ হাজার (বঞ্চিত শিক্ষার্থী), ২২ হাজার (নিহত শিক্ষার্থী), ৭৭০ জন (নিহত কর্মী), ৫৩২ জন (নিহত শিক্ষক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!