📌 ফ্রান্সে শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে। শিক্ষার্থী ও শ্রমিক ইউনিয়ন মাখোঁর পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে।
ফ্রান্সে শনিবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। এক সপ্তাহ আগে দেশটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা দেখা দিয়েছিল। এবারও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিক্ষোভের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ইউনিয়ন ও সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর আহ্বানে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সে শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে, ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে।
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেছেন, ‘ভাঙচুরকারীদের ও লুটেরাদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে’।
- 📌 শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে মাখোঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। অনলাইনে ৫০০টির বেশি বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
- 📌 গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার জন্য ২৩২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আদালতে হাজির হয়েছে।
- 📌 প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থী ও শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত মিছিলে অংশ নিতে পারে লাখ লাখ মানুষ।
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দেশটিতে দেখা দিয়েছিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা। সেই সহিংসতার ব্যাপকতা আগে থেকে আঁচ করতে না পারার অভিযোগে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার। এবারও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সরকার ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেছেন, ‘আমরা কোনো কিছুই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেব না। ভাঙচুরকারীদের, লুটেরাদের এবং সহিংসতায় জড়িত সবাইকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’
শিক্ষার্থী ও শ্রমিক ইউনিয়ন মাখোঁর পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের প্রতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে, ‘সংগঠিত হওয়া ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত’। মাখোঁ নির্দেশ দিয়েছিলেন, শনিবার শুধু স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভই অনুষ্ঠিত হতে পারবে। তবে সরকারি ঘোষণার বিপরীতে আন্দোলনকারীদের তেমন দমে যেতে দেখা যাচ্ছে না। ফ্রান্সজুড়ে শত শত বিক্ষোভের কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে রাজধানীর কিছু এলাকাসহ কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ জারি ছিল। এখন কোন শহরে কতটা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থানে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। কিছু শহরের মেয়র ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলেও অন্যরা কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে মার্সেইয়ের কথা বলা যায়, যেখানে আগের জারি করা নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়। প্যারিসে শিক্ষার্থীদের মিছিলকে শ্রমিক সংগঠনগুলো সমর্থন দিয়েছে, তবে মিছিলটি শহরের কেন্দ্রস্থল দিয়ে যেতে পারবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
"আমরা কোনো কিছুই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেব না। ভাঙচুরকারীদের, লুটেরাদের এবং সহিংসতায় জড়িত সবাইকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ
গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফ্রান্স। ওই সময় বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গাকারীদের তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা অনেক কম ছিল। দোকানপাট লুট করা হয় এবং বিভিন্ন ভবনে আগুন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রতীকী ঘটনা ছিল লিমোজ শহরের উনিশ শতকে নির্মিত অলংকৃত নগর ভবনে অগ্নিসংযোগ। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানান, ১৭ অক্টোবরের দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আদালতে হাজির হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে প্রায় ২৬০টিতে ‘সংগঠিত অপরাধী চক্রের কার্যক্রমে’ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস, লিমোজ, লিয়ঁ, নিস, মন্টপেলিয়ের, মার্সেই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ, শিক্ষার্থীরা, শ্রমিক ইউনিয়ন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ হাজার পুলিশ, ৫০০+ বিক্ষোভ, ২০০+ কর্মসূচি, ২৩২ কারাগারে পাঠানো, ১ হাজার ১০০+ আদালতে হাজির
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!