📌 ফ্রান্সে শিক্ষক, চিকিৎসক, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি কর্মচারী ৩ লাখেরও বেশি সংখ্যক কর্মচারী হরতালে নেমে পড়েছেন বেতন বৃদ্ধির দাবিতে। একইসাথে ছাত্ররা স্কুলে ব্লকেডে জড়িয়ে পড়লে সহিংসতা বেড়ে যায়, ১০ জন আহত ও ৪৪০ জন গ্রেফতার হন। সরকারের বাজেট কাটা ও বেতন বন্ধের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, পুলিশ ও চিকিৎসকদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) এক দিনের হরতাল অনুষ্ঠিত হয়। একইসাথে ছাত্ররা স্কুলে ব্লকেডে জড়িয়ে পড়লে সহিংসতা বেড়ে যায়, যার ফলে ১০ জন ছাত্র-শিক্ষক আহত হন এবং ৪৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সরকারের বাজেট কাটা ও বেতন বন্ধের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সের ৩০০,০০০ কর্মচারী (শিক্ষক, চিকিৎসক, পুলিশসহ) বেতন বৃদ্ধির দাবিতে একদিনের হরতালে অংশ নেন, যা সরকারের বাজেট কাটার প্রতিবাদে রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করে।
- 📌 ৪০০টিরও বেশি স্কুলে ব্লকেডে জড়িয়ে পড়লে ৪০টি স্কুল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ৪৪টি স্কুলে ব্লকেডের চেষ্টা হয়।
- 📌 ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যায়: ১০ জন আহত হন, ৪৮ জন পুলিশ আহত ও ৪৪০ জন গ্রেফতার করা হয়।
- 📌 সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেসিক বেতন বন্ধ রাখা হবে, যা ২ বিলিয়ন ইউরো (২.৩ বিলিয়ন ডলার) বাঁচাবে।
- 📌 শিক্ষকদের সংগঠন "রেড অ্যালার্ট" ঘোষণা করে এবং সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাজেট কাটা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানায়।
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষক, চিকিৎসক, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে একদিনের হরতালে অংশ নেন। কর্মচারীদের সংগঠন অনুমান করে, প্রায় ৩ লাখ কর্মচারী এই হরতালে অংশ নিয়েছেন। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসে মাত্র ৩০,০০০ কর্মচারী অংশ নিয়েছেন। কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কাজের অবস্থার উন্নতি ও সরকারের বাজেট কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এই হরতালের পাশাপাশি ছাত্ররা স্কুলে ব্লকেডে জড়িয়ে পড়েন। ৪০০টিরও বেশি স্কুলে ব্লকেডের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ৪০টি স্কুল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্ররা স্কুলের সময়সূচী, ক্লাসের আকার, শিক্ষকদের অভাব ও গরমের সময়ে উত্তপ্ত ক্লাসরুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই প্রতিবাদ শুরু হয় প্যারিসের আশেপাশের ইল-দে-ফ্রান্স অঞ্চল থেকে এবং অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যায়। ছাত্ররা কিছু জায়গায় গাড়ি পোড়ান, রাবার ব্যান্ড ও পাথর নিক্ষেপ করেন। পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় তারা লাঠি ও গ্যাস ব্যবহার করেন। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরঁত নুনেজ বলেন, ৪৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তিনি বলেন, “হিংসা কখনোই বৈধ নয়। কোনো কিছুই হিংসাকে বৈধ করে তোলে না।”
শিক্ষা মন্ত্রী এদুয়ার্ড জেফ্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন, “এই সহিংসতা অমনোযোগী। আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। ছাত্রদের ও সরকারি কর্মচারীদের বিপদে ফেলে ব্লকেডের বিস্তারকে বৈধ করা অসম্মানজনক।”
কর্মচারীদের সংগঠন "রেড অ্যালার্ট" ঘোষণা করে এবং সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাজেট কাটা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানায়। জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবারের সাধারণ সম্পাদক সফি বিনেট বলেন, “এই রাগ দূর হবে না। সরকারকে বাজেট পুনরায় দেখতে হবে।”
সরকারের বাজেট কাটার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেসিক বেতন বন্ধ রাখা হবে। এটি প্রেসিডেন্ট এম্মানুয়েল ম্যাক্রনের শাসনামলে চতুর্থ বার বেতন বন্ধের পরিকল্পনা। কর্মচারীরা বলেন, বেতন বন্ধের কারণে তাদের ক্রয়শক্তি দশকভিত্তিকভাবে কমেছে এবং তারা ৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
"এই রাগ দূর হবে না। সরকারকে বাজেট পুনরায় দেখতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস, ইল-দে-ফ্রান্স, সিন-সাঁ-দেনি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সফি বিনেট (জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবারের সাধারণ সম্পাদক), লরঁত নুনেজ (অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী), এদুয়ার্ড জেফ্রে (শিক্ষা মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০,০০০ কর্মচারী হরতালে অংশ নেন, ৪০০টি স্কুলে ব্লকেড, ৪৪০ জন গ্রেফতার, ১০ জন আহত, ২ বিলিয়ন ইউরো বাজেট কাটা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!