📌 শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে লাখো শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু ঘোষণা করেন সব হাইস্কুলের ক্লাস বন্ধ। পুলিশের সাথে সহিংসতা, গ্রেপ্তার ও আহতের সংখ্যা বেড়েছে
ফ্রান্সে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু সপ্তাহের বাকি সময়ে দেশের সব হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করেছেন। গত মঙ্গলবার বিভিন্ন হাইস্কুল অবরোধ করে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ও কর্মী অংশ নেন এই বিক্ষোভে, যেখানে আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু ঘোষণা করেন সব হাইস্কুলের ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে।
- 📌 শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি: অনুপস্থিত শিক্ষকদের পরিবর্তে নতুন শিক্ষক নিয়োগ, দুপুরের খাবারের বিরতি দীর্ঘ করা এবং স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন।
- 📌 বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে; স্ট্রাসবুর্গ, লিয়ঁ ও রেঁনে শহরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়।
- 📌 বিক্ষোভের সময় ২১৫ জন কিশোর আহত হয়, পুলিশের ৭১৫ জন কর্মকর্তাও আহত হন।
- 📌 বিক্ষোভের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিস্ফোরণে উড়ে যায়।
- 📌 বিক্ষোভের পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর মধ্যে অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের বিক্ষোভের জন্য অভিবাসন ও মুসলিমদের দায়ী করেছেন।
📰 বিস্তারিত
শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। প্যারিস থেকে শুরু করে মার্সেই, নঁত ও লিয়ঁ শহরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘তারা আসলে আমাদের নিয়ে ভাবে না’ এবং ‘বেঁচে থাকো, নাকি পড়াশোনা করো’। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে এবং রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে দেন। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে স্ট্রাসবুর্গের হাইস্কুল স্নাতক হুগো ভেটজেল বলেন, ‘সহিংসতা যখন জবাব হিসেবে আসে, তখন গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। আমাদের সাথে অভিজাতদের মধ্যে এত বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।’
বিক্ষোভের শুরু হয়েছিল দুই সপ্তাহ আগে প্যারিসের দরিদ্র শহরতলিতে। পরে তা দ্রুত পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের সরকার বিক্ষোভকে শহুরে সহিংসতার রূপ বলে মনে করছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, ‘একটি হাইস্কুল পুড়িয়ে দিলে স্কুলের অবস্থা উন্নত হয় না’। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য অক্টোবরের শেষ নাগাদ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সরকার পুরোনো স্কুল ক্যাম্পাসগুলো মেরামতের বিষয়টিও পর্যালোচনা করবে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিস্ফোরণে উড়ে যায়। লা ভোয়া দ্য নোর জানিয়েছে, ওই ঘটনায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বস্তু নিক্ষেপ করেছিল।
"একটি হাইস্কুল পুড়িয়ে দিলে হাইস্কুল ভবনগুলোর অবস্থা উন্নত হয় না। ক্লাস স্থগিতের উদ্দেশ্য হলো স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা"
ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিক্ষা সংস্কারের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রশ্ন উঠেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার বলেন, ‘ফ্রান্স ঋণে জর্জরিত; সরকারি সেবায় অর্থ দেওয়ার জন্য সেই টাকা আসবে কোথা থেকে?’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস, মার্সেই, নঁত, লিয়ঁ, স্ট্রাসবুর্গ, লঁস)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু, শিক্ষার্থীরা, পুলিশ, হুগো ভেটজেল, নাতাশা বাটলার, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ৫০ হাজার (বিক্ষোভকারী), ৫ লাখ (আয়োজকদের হিসাব), ২ হাজার (অবরুদ্ধ হাইস্কুল), ৬ হাজার ১০০ (গ্রেপ্তার), ১ হাজার ৮০০ (মামলা), ১ হাজার ৪৮৩ (অপ্রাপ্তবয়স্ক), ২১৫ (কিশোর আহত), ৭১৫ (পুলিশ আহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!