📌 ফ্রান্সে দাঙ্গা ও লুটপাটের পর প্যারিসের কিছু এলাকা এবং মার্সেই, বোর্দো, লিলসহ অন্যান্য শহরে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। পুলিশের গ্রেনেড আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে গেছে এবং প্রায় ১০০০ পুলিশ আহত হয়েছে। সরকার ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে।
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের পর কর্তৃপক্ষ রাতে কারফিউ জারি করেছে। প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকাসহ মার্সেই, বোর্দো, লিলসহ দেশের বিভিন্ন শহরে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্যারিসের প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে
- 📌 মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ, লিলসহ ১০টি শহরে আংশিক কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে
- 📌 পুলিশের গ্রেনেড আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে গেছে এবং প্রায় ১০০০ পুলিশ আহত হয়েছে
- 📌 আড়াই হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষার্থী ও শ্রমিক
- 📌 প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু ঘোষণা করেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কারফিউ জারি করার ক্ষমতা স্থানীয় মেয়রদের দেওয়া হবে
- 📌 সরকার ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে এবং বেকারত্ব ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে
- 📌 ফ্রান্সের চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, দাঙ্গায় ২০০০-এরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রত্যাখ্যান করেছেন
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের পর কর্তৃপক্ষ রাতে কারফিউ জারি করেছে। প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকাসহ মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ, লিলসহ ১০টি শহরে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় কারফিউ থাকবে। এ ছাড়া শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে অনুমতি ছাড়া জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, পুলিশ কিছু শহরে সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। বিরোধী রাজনীতিকেরা তার কঠোর সমালোচনা করেছেন। নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ম্যাক্রোঁ বলেছেন, নুনেজের 'বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার ব্যর্থতা' নিয়ে তিনি স্বচ্ছ হওয়া উচিত।
গত মাসে শিক্ষার্থীদের উন্নত স্কুল পরিবেশের দাবিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তবে পরে তা আরও বিস্তৃত হয়ে বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনে রূপ নেয়। সপ্তাহান্তের বিক্ষোভে শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিবাদী গোষ্ঠী যোগ দেওয়ায় বিক্ষোভকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আড়াই হাজারের বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে গেছে। প্রায় ১০০০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, যেসব এলাকায় প্রয়োজন, সেখানে কারফিউ জারির ক্ষমতা স্থানীয় মেয়রদের দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে। তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকেই এই অর্থ আদায় করা হবে। লেকর্নু বলেছেন, 'সম্পত্তির ক্ষতি যারা করেছে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করতে একটি আইন করা হবে।'
দাঙ্গা ও লুটপাটের কারণে যারা কাজে যেতে পারেননি, তাদের জন্য আংশিক বেকারত্ব ভাতার ব্যবস্থাও ঘোষণা করেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ বলেছেন, সম্ভাব্য মূল হোতাদের শনাক্ত করার জন্য ২০০ জন তদন্তকারী সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন।
ফ্রান্সের চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা সিসিআই-এর প্রধান জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের সহিংসতার কারণে ২০০০-এরও বেশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রধান অ্যালাইন ডি ক্রেসেনজো বলেছেন, দাঙ্গার ফলে ক্ষতির পরিমাণ 'কয়েক কোটি ইউরো' বলে অনুমান করা হচ্ছে। সিসিআই-এর মার্সেই শাখার সভাপতি জঁ-লুক শোভ্যাঁ বলেছেন, শহরের অনেক দোকান মালিক 'গভীর দুর্দশার' মধ্যে রয়েছেন এবং নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কিত।
ফরাসি সরকারের দুজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, লুট করা পণ্য নির্দিষ্ট কিছু বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ভিন্টেড-এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, চোরাই পণ্যের বিক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য অনুরোধ করা 'কঠোরভাবে নিষিদ্ধ'।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্যারিস, মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ, লিলসহ ফ্রান্সের ১০টি শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লরঁ নুনেজ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), সেবাস্তিয়ান লেকর্নু (প্রধানমন্ত্রী), এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (প্রেসিডেন্ট), অ্যালাইন ডি ক্রেসেনজো (সিসিআই প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ জন তদন্তকারী, ২০০০-এরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা, আড়াই হাজার গ্রেপ্তার, ১০০০ পুলিশ আহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!