📌 ফ্রান্সে জীবনযাপনের খরচ বৃদ্ধি ও সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদে গতকাল ৪ লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। প্যারিস ও মার্সেইয়ে সংঘর্ষে পুলিশের সাথে যুবকদের সংঘর্ষে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহৃত হয়। বিক্ষোভের জেরে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে
ফ্রান্সে জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান খরচ ও সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অন্তত ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলি দাবি করে, বিক্ষোভকারীদের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের দ্বিগুণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সে বিক্ষোভে অংশ নেন ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ, সরকারি হিসাব অনুযায়ী
- 📌 প্যারিস ও মার্সেইয়ে সংঘর্ষে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ৫০০ জন যুবককে ছত্রভঙ্গ করায়
- 📌 মার্সেইয়ে রাস্তা অবরোধের সময় পাথর ও বোতল ছোড়া হয়, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে
- 📌 ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ উগ্র বামপন্থী কর্মীদের দায়ী করেন অশান্তি ছড়ানোর জন্য
- 📌 প্যারিসের বিলাসবহুল দোকানগুলিতে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়ছে
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে। প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা জীবনযাপনের খরচ বৃদ্ধি ও সমাজে বৈষম্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভের পরিস্থিতি রাতের অন্ধকারে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঠান্ডা ও বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় প্যারিসের একটি এলাকায় প্রায় ৫০০ জন যুবকের একটি দলকে ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
মার্সেইয়ে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন। তারা আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেন এবং পুলিশের দিকে পাথর ও বোতল ছোড়েন। পুলিশের দাবি, শহরের বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে দুটি গয়নার দোকানও রয়েছে। লিওঁ, বোর্দো, গ্রেনোবল, ক্লেরমঁ-ফেরাঁ, লিল, রেন, নঁত ও তুলুজ শহরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা রাজধানীর বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চাপে ফেলে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি মিছিলেই আমরা এই ধরনের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর উপস্থিতি দেখেছি। তারা মূল মিছিল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছে।’ তিনি উগ্র বামপন্থী কর্মী ও অপরাধী চক্রগুলিকে অশান্তি ছড়ানোর জন্য দায়ী করেন।
বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে প্যারিসের ব্যবসা-বাণিজ্যে। প্যারিসের বিলাসবহুল পোশাকের দোকান কিতোনের ম্যানেজার অস্কার বলেন, ‘দোকানে ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই দোকান খোলা রাখাটা আর বিশেষ লাভজনক বলে মনে হচ্ছে না।’ নিরাপত্তার কারণে প্যারিসের বেশ কয়েকটি সুপরিচিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শনিবারের জন্য বন্ধ রাখা হয়, যার মধ্যে রয়েছে লুভর জাদুঘর, মুসে দ’র্সে জাদুঘর এবং প্যারিস অপেরা। ফলে শহরে আসা পর্যটকদেরও বিপাকে পড়তে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স শহর থেকে আসা পর্যটক জেভিয়ার ডলিওলে বলেন, ‘সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা কোথায় যাব, তা-ও ঠিক বুঝতে পারছি না।’
"প্রায় প্রতিটি মিছিলেই আমরা এই ধরনের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর উপস্থিতি দেখেছি। তারা মূল মিছিল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্সের প্যারিস ও মার্সেইয়ে (সহ অন্যান্য শহর: লিওঁ, বোর্দো, গ্রেনোবল, ক্লেরমঁ-ফেরাঁ, লিল, রেন, নঁত ও তুলুজ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ, প্যারিসের কিতোন ম্যানেজার অস্কার, পর্যটক জেভিয়ার ডলিওলে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ ১০ হাজার বিক্ষোভকারী, ১ লাখ ১০ হাজার বিক্ষোভকারী প্যারিসে, ৫০০ জন যুবক পুলিশের সাথে সংঘর্ষে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!