📌 ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিক্ষকসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন চলছে
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শনিবার শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্যারিসে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও অন্যান্য শহর যেমন লিঁও, নিস ও তুলুজে সহিংসতা দেখা দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সের ১৩৬টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ৩৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে, ১৩৫ জন গ্রেপ্তার
- 📌 শিক্ষকসংকট, স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ
- 📌 পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা
- 📌 শিক্ষার্থী ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি: সরকারি পরিষেবা সংস্কার ও মজুরি বৃদ্ধি
- 📌 ইউরোপের অন্তত ১০টি দেশে বিক্ষোভের সার্কাস: ফ্রান্স ছাড়াও স্পেন ও আলবেনিয়াতেও বিক্ষোভ
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শনিবার শিক্ষার্থী, তরুণ ও শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, গতকাল ১৩৬টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। তবে আল-জাজিরা ও এএফপি জানিয়েছে, লিঁও, তুলুজ ও নিসসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে।
শিক্ষকসংকট ও স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে গত মাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। ধীরে ধীরে শ্রমিকসংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার সংকটের অসন্তোষ থেকে আন্দোলনে যুক্ত হয়। ১৭ অক্টোবর বিক্ষোভ ব্যাপক সহিংসতা লাভ করে। বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কারফিউ জারি করা হয়। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় ছাত্র সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো।
গত কয়েকদিনে ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকার বৈঠক করলেও সমাধান আসেনি। শিক্ষার্থীদের সমর্থনে প্যারিসের সিজিটি, সিএফডিটিসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ ডাকে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাশাপাশি চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকে যোগ দেন। শ্রমিক সংগঠন সলিদেয়ারের প্রতিনিধি মুরিয়েল গিলবার্ট বলেন, ‘এই দেশে মানুষের মধ্যে বিপুল ক্ষোভ রয়েছে। মজুরি যে পর্যায়ে বাড়ানো উচিত ছিল, এখনো তা বাড়ানো হয়নি।’
শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ শিক্ষার্থীদের ২০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে ভর্তিব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তাতে তারা সন্তুষ্ট নন। তাই তারা শনিবার বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ জানান, বিক্ষোভ শুরুর আগে তল্লাশি চালানো হয়। এতে আতশবাজি, ধাতব বল ও গুলতিসহ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন জিনিস পাওয়া গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অতি-বামপন্থী গোষ্ঠী বিক্ষোভকে সহিংস করতে চাইছে।
"এই দেশে মানুষের মধ্যে বিপুল ক্ষোভ রয়েছে। মজুরি যে পর্যায়ে বাড়ানো উচিত ছিল, এখনো তা বাড়ানো হয়নি।"
বিক্ষোভের পথ নিয়ে পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ হয়। শেষ মুহূর্তে পুলিশ কেন্দ্রের বাস্তিল এলাকা থেকে সরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের পোর্ত দিতালিতে মিছিল শুরুর নির্দেশ দেয়। শ্রমিক সংগঠনগুলো অনিচ্ছা সত্ত্বেও নতুন পথ মেনে নেয়। প্যারিসে মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্সের লিঁও, নিস, তুলুজ, প্যারিস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লরাঁ নুনেজ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), মুরিয়েল গিলবার্ট (শ্রমিক সংগঠন সলিদেয়ারের প্রতিনিধি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩৫ জন গ্রেপ্তার, ৩৫ হাজার বিক্ষোভকারী, ১৩৬টি কর্মসূচি, ২০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!