📌 ফ্রান্সে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে দাঙ্গায় ২৪০০ জন গ্রেপ্তার ও ১৯ শতকের ঐতিহ্যবাহী ভবন ধ্বংসের পর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক হাজার পুলিশ আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজন গুরুতর
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে ব্যাপক দাঙ্গা-লুটপাটের পর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে রোববারও প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা অব্যাহত থাকায় তিনি এলিসি প্রাসাদ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ম্যাক্রঁর বলেন, 'আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি'।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রতিবাদে শনিবার প্রায় ৫.৫ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যার অধিকাংশ শান্তিপূর্ণ ছিল
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দাঙ্গায় ২৪০০ জন গ্রেপ্তার ও এক হাজার পুলিশ আহত হন, তাদের মধ্যে সাতজন গুরুতর
- 📌 লিমোজ শহরে ঐতিহ্যবাহী সিটি হলের ভেতর পুড়ে যায়, ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে
- 📌 ম্যাক্রঁর বলেন, 'নিয়ন্ত্রণহীন সহিংসতা কোনো যৌক্তিকতা নেই' এবং দাঙ্গাকারীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ উগ্র বামপন্থীদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সরকারি ভবন লক্ষ্যবস্তু করে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়েছে
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, বিক্ষোভকারীদের 'ন্যায্য দাবি' এবং 'যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, ভাঙচুর করেছে এবং লুটপাট করেছে' তাদের আলাদাভাবে দেখতে হবে। তিনি দাঙ্গাকারীদের সতর্ক করে বলেন, 'নিয়ন্ত্রণহীন সহিংসতা কোনো যৌক্তিকতা নেই'। ম্যাক্রঁর আরও জানান, দাঙ্গায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
বিক্ষোভের সময় কালো পোশাক পরা এবং মুখোশ ঢেকে রাখা দাঙ্গাকারীরা প্যারিস, মার্সেইসহ অন্যান্য শহরে রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের কেউ কেউ গাড়ি ও ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। রোববার প্যারিসের কিছু এলাকা এবং লিয়োঁ শহরে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসে শত শত মানুষের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশের দিকে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারেন।
লিমোজ শহরে শনিবার দাঙ্গাকারীদের লাগানো আগুনে উনিশ শতকের ঐতিহ্যবাহী সিটি হলের ভেতরের অংশ পুড়ে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার একপর্যায়ে ভবনটির ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনটির কাছে দাঁড়িয়ে অ্যানেইস নামের এক নারী বলেন, "এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে শুধু সেই রাগ থেকে ঐতিহ্যবাহী ভবনের ক্ষতি করা স্বার্থপরতার পরিচয় বলে আমি মনে করি। এতে সবারই ক্ষতি হচ্ছে"। আরেক ব্যক্তি জেরার্ড বলেন, "এটি ভয়াবহ এবং অবিশ্বাস্য। আমরা খুবই দুঃখিত। আমার মনে হয়, আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অনেক সময় লাগবে"।
"আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস, লিমোজ, মার্সেই, লিয়োঁ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ, জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ (লা ফ্রঁস ইনসুমিজ নেতা), অ্যানেইস ও জেরার্ড (লিমোজের বাসিন্দা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫.৫ লাখ বিক্ষোভকারী, ২৪০০ গ্রেপ্তার, ১০০০ আহত পুলিশ (সাতজন গুরুতর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!