📌 ফ্রান্সের প্যারিস আদালত ২৯ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক রোহান রানেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন অপরাধচক্র পরিচালনার জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এই গোষ্ঠীটি ২০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল এবং শারীরিক নিপীড়নে বাধ্য করেছিল। সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগীর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর
ফ্রান্সের প্যারিস আদালত ২৯ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক রোহান রানেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন অপরাধচক্র পরিচালনার জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পাঁচ দিনের বিচার শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করে। রোহান ‘সিভিএলটি’ নামের একটি সহিংস অনলাইন গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে যৌন নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করতেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সের প্যারিস আদালত ২৯ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক রোহান রানেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অনলাইন অপরাধচক্র পরিচালনার জন্য।
- 📌 রোহান ‘সিভিএলটি’ নামের গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন, যারা ২০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে যৌন নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করতেন। সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগীর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর।
- 📌 তদন্তে জানা যায়, অপরাধচক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের নিজেদের শরীরে আঘাত করতে এবং নাৎসি প্রতীক খোদাই করতে বাধ্য করতেন।
- 📌 রোহান ২০২১ সালে ফ্রান্সে গ্রেপ্তার হন এবং তার কম্পিউটার থেকে নির্যাতনের প্রমাণ উদ্ধার করা হয়।
- 📌 আদালত রোহানের ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
📰 বিস্তারিত
তদন্তে উঠে এসেছে, রোহান ও তার সহযোগীরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। পরে তাদের ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দিতেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের যৌন কর্মকাণ্ড ও নিজেদের শরীরে আঘাত করতে বাধ্য করা হতো। নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে অনলাইনে আদানপ্রদানের প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
২০২০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের শিশু সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন অনলাইনে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি শনাক্ত করে। ওই শিশুকে নিজের শরীরে ‘রোহান’ নামটি খোদাই করতে প্ররোচিত করার তথ্য সামনে এলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে ফরাসি তদন্তকারীরা রোহান ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড অনুসন্ধান করেন।
তদন্তে জানা যায়, অপরাধচক্রের সদস্যরা ডিসকর্ডসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরাম থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা কিশোরীদের চিহ্নিত করে তাদের ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের হুমকি দেওয়া হতো। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানোর ভয় দেখিয়েও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো।
"দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণে ভুক্তভোগীদের জীবনে গভীর ও স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।"
রোহান ২০২১ সালে ফ্রান্সে গ্রেপ্তার হন। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে যান এবং আন্তিব শহরের একটি ব্যবসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে শরীরচর্চার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কম্পিউটার ও মুঠোফোন থেকে উদ্ধার করা ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তদন্তে গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নব্য নাৎসিবাদ, বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ এবং চরম সহিংসতার সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রোহান রানেক (২৯ বছর), ভুক্তভোগী কিশোরী (২০ জন, মধ্যে ৬ জন আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর (কারাদণ্ড), ২০ জন (ভুক্তভোগী), ১২ বছর (সর্বনিম্ন বয়স), ২০২০ (তদন্ত শুরু), ২০২১ (গ্রেপ্তার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!