📌 ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ১৪৩ বছরের পুরনো সিটি হল বিক্ষোভকারীদের আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে সংঘটিত বিক্ষোভে এই ঘটনা ঘটে। সরকারের দাবি অনুযায়ী ১.৪ লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়, তবে সংগঠনগুলো ধারণা করে প্রায় ৮ লাখ মানুষ জড়িত ছিল
ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক সিটি হল বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ১৪৩ বছরের পুরনো ভবনটি দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলিয়ে টিকে ছিল। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মরিস বারাত জানান, বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সিটি হলের পশ্চিম অংশ ছাড়া পুরো ছাদ ধসে পড়েছে। ভবনের বাইরের অংশের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘দুষ্কৃতকারীদের ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটি ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয়’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ১৪৩ বছরের পুরনো সিটি হল বিক্ষোভকারীদের আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে
- 📌 বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সিটি হলের পশ্চিম অংশ ছাড়া পুরো ছাদ ধসে পড়েছে এবং বাইরের অংশের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে
- 📌 জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে এই ঘটনা ঘটে
- 📌 সরকারের দাবি অনুযায়ী ১.৪ লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়, তবে সংগঠনগুলো ধারণা করে প্রায় ৮ লাখ মানুষ জড়িত ছিল
- 📌 পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন
- 📌 লিমোজ শহরের কেন্দ্রস্থলের কয়েকটি দোকানে লুটপাট এবং সরকারি ভবন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর লিমোজ সিটি হলের পশ্চিমের অংশ ছাড়া পুরো ছাদ ধসে পড়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর ও পৌরকর্মীদের চোখে এই ধ্বংসের দৃশ্য দেখে অনেকেই কাঁদছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছিলেন, তারপর সিটি হলের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে গতকাল শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং কয়েকটি দোকানে লুটপাট হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি লুটপাটের চেষ্টা চালিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। সরকারের দাবি অনুযায়ী, গতকাল দেশজুড়ে প্রায় ১.৪ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং অন্তত ১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের অধিকার সংগঠন সিজিটি ইউনিয়ন ধারণা করে, প্রায় ৮ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতায় ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি পুলিশকে ‘চরম মাত্রার সহিংসতার’ মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। সরকার উগ্র বামপন্থীদের এই অস্থিরতার জন্য দায়ী করেছে।
"এটি ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয়। দুষ্কৃতকারীদের ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লিমোজ, ফ্রান্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মরিস বারাত (স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা), সেবাস্তিয়ান লেকর্নু (ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৩ বছর (সিটি হলের বয়স), ১.৪ লাখ (সরকারের দাবি অনুযায়ী বিক্ষোভকারীর সংখ্যা), ৮ লাখ (সংগঠনগুলো অনুমান), ১৫০ (পুলিশ আহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!