📌 ফ্রান্সের ঢাকাবাসী রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেছেন, বাংলাদেশকে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে কোনো পক্ষ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ফ্রান্সের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন
ফ্রান্সের ঢাকাবাসী রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেছেন, বাংলাদেশকে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে কোনো পক্ষ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ঢাকাকে কখনোই এই দুই মহাশক্তির মধ্যে বেছে নিতে হবে না। তবে ফ্রান্স ব্রাসেলসের আলোচনার দরজা সর্বদা খোলা রাখবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, বাংলাদেশকে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে কোনো পক্ষ নেওয়ার প্রয়োজন নেই
- 📌 ফ্রান্স বিশ্বাস করে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জোটের সংঘাত হিসেবে দেখে না এবং ‘পশ্চিম বনাম পূর্ব’-এর মতো বিভাজনেও বিশ্বাসী নয়
- 📌 ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গোলের ন্যাটো বিষয়ে অবস্থানকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়
- 📌 রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রির ক্ষেত্রে ফ্রান্স বলেছে, বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ও ‘চাবি’ ক্রয়কারী দেশের হাতে থাকে
- 📌 বাংলাদেশ-ফ্রান্সের ২০২৩ সালের যৌথ বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ফ্রান্স বিশ্বাস করে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পরস্পরবিরোধী জোটের সংঘাত হিসেবে দেখে না। তিনি বলেন, ফ্রান্স ‘পশ্চিম বনাম পূর্ব’ বা ‘উত্তর বনাম গ্লোবাল সাউথ’-এর মতো বিভাজনেও বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও, দেশগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকা উচিত। তিনি বলেন, কোনো জোটের অংশ হওয়া মানেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা নয়।
কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের উদাহরণ হিসেবে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গোলের ন্যাটো বিষয়ে অবস্থান উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনো সামরিক জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও একটি দেশ নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্রান্স যখন কোনো দেশের কাছে রাফাল বিক্রি করে, তখন বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ও ‘চাবি’ সেই দেশের হাতে থাকে। ফ্রান্স তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না বা কোনো কাজে বাধা দেয় না।
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান রেখে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ফ্রান্স প্রস্তুত। তিনি বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি ২০২৩ সালের বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ বিবৃতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে স্থিতিশীল ও বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
"আমরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করি। ব্রাসেলস সবসময় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। এর মানে এই নয় যে, আমরা যা খুশি মেনে নেব, তবে আমরা কখনোই এমন কোনো শর্ত দেবো না যেখানে ওয়াশিংটনের বিপরীতে ব্রাসেলসকে বেছে নিতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় প্রেস ক্লাব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে (ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!