📌 সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহপাইলট কুড়াল দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে। ১৭০ জন যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি মাঝপথে নিচে নামতে শুরু করে। যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝপথে সহপাইলটের কুড়াল হামলায় বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নামতে শুরু করে। ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে তেল আবিবের পথে যাচ্ছিল। হামলাকারী পাইলট ককপিটে থাকা ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করলে যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়াল হামলায় বিমান নিচে নামতে শুরু — সহপাইলট ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় নিচে নামতে শুরু করে।
- 📌 ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী — দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিল।
- 📌 হামলাকারী ওমানের নাগরিক — ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, হামলাকারী ওমানের নাগরিক ছিলেন।
- 📌 হামলাকারী আত্মহত্যা চেষ্টা করছিল — নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীকে কাবু করার পর তিনি উড়োজাহাজের ক্রুদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলুন’।
- 📌 ক্যাপ্টেন আহত, সৌদি আরবে চিকিৎসা — আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে প্রথমে দুবাইয়ের কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে বিমানে করে আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
- 📌 ৯/১১-এর মতো বিপর্যয় এড়ানো — নেতানিয়াহু বলেন, আহত পাইলট, যাত্রী ও ক্রুর সদস্যরা ৯/১১-এর মতো বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন।
- 📌 হামলার উদ্দেশ্য তদন্ত চলছে — সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ঘটনার পুরো পরিস্থিতি ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
📰 বিস্তারিত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রসিকিউটর জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝপথে সহপাইলট ক্যাপ্টেনকে একটি ক্র্যাশ কুড়াল দিয়ে আক্রমণ করেন। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে তেল আবিবের পথে যাচ্ছিল। যাত্রার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট (৫ হাজার ২০০ মিটার) উচ্চতায় নিচে নামতে শুরু করে। হামলাকারী পাইলটের আক্রমণে আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে বললাম, দরজাটা ভেতর থেকে খোলার জন্য শেষবারের মতো একটা চেষ্টা করতে হবে’।
হঠাৎ বিমানটি নিচের দিকে নামতে শুরু করলে যাত্রীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন। এক যাত্রী আলমোগ ইতালি বিবিসিকে বলেন, ‘হঠাৎ উড়োজাহাজটি রোলার কোস্টারের মতো নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রচণ্ড জি-ফোর্স অনুভূত হচ্ছিল। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে দ্রুত নিচে নামছিল। এরপর কিছুটা স্থির হয় এবং আবার নিচে নামতে শুরু করে’। এরপর যাত্রীরা ককপিটের দিকে ছুটে যেতে শুরু করেন।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ জানান, ককপিট থেকে গোলমালের শব্দ শুনে প্রথম সতর্কতা জারি করেছিলেন তাল্লি মানেস নামে এক ইসরায়েলি নারী। হামলাকারী পাইলটকে কাবু করার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘তাই এটা পরিষ্কার যে তিনি আত্মহত্যাপ্রবণ ছিলেন...উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করছিলেন’।
হামলাকারীকে কাবু করার পর দুটি রিজার্ভ পাইলট উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান। আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে প্রথমে দুবাইয়ের কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে বিমানে করে আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। ভারতের নাগরিক মাচ্ছার ‘সুস্থ আছেন এবং ভালোভাবে সেরে উঠছেন’ বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে।
"আমি নিজেকে বললাম, দরজাটা ভেতর থেকে খোলার জন্য শেষবারের মতো একটা চেষ্টা করতে হবে।"
হামলাকারী পাইলটকে কাবু করার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ‘আহত পাইলট, যাত্রী ও দ্বিতীয় ক্রুর সদস্যরা ৯/১১-এর মতো একটি বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন’। ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ঘটনার পুরো পরিস্থিতি ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে। হামলার সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), সৌদি আরব, ইসরায়েল (তেল আবিব)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার, সহপাইলট (ওমানের নাগরিক), ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ, তাল্লি মানেস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭০ জন (জনেরও বেশি যাত্রী), ১৭ হাজার ফুট (৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা), ২০-৩০ সেকেন্ড (বিমান নিচে নামার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!