📌 ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি (২৯) একাকীভাবে ইসরায়েলগামী বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তিনি কোনো সংগঠনের সদস্য ছিলেন না। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি বিমানটিকে তেল আবিবের কাছে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন
ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি (২৯) একাকীভাবে ইসরায়েলগামী একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন বা সরকারের সদস্য ছিলেন না, বরং একাকী এই হামলা চালিয়েছিলেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, হাম্মামি বিমানটিকে তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাম্মাম আল-হাম্মামি (২৯) ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট, একাকী হামলা চালিয়েছেন — কোনো সংগঠনের সদস্য ছিলেন না
- 📌 বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটি ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় — ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার আঘাত পেলেও ফ্লাইট ডেকের দরজা খুলে দেন
- 📌 ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাম্মামি অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন চরমপন্থী ওয়েবসাইটে ভিজিট করতেন — অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তদন্ত করছে
- 📌 ওমানি পাইলট চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নিজ দেশে উড়োজাহাজ চালানোর নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন
- 📌 সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণের আগে যাত্রীরা সহ-পাইলটকে কাবু করেন
📰 বিস্তারিত
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, হাম্মাম আল-হাম্মামি (২৯) ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তিনি কোনো সংগঠন বা সরকারের সদস্য ছিলেন না, বরং একাকী এই হামলা চালিয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে দাবি করেছিলেন যে, পাইলটটি ‘ইসলামি চরমপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়ে’ এই হামলা চালিয়েছিলেন। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সন্ত্রাসী সংগঠন ও শত্রুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করছেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, হাম্মামি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জিজ্ঞাসাবাদকারীদের বলেছিলেন যে, তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইনসে চাকরি পাওয়ার আগেই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিমানটিকে তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আছড়ে ফেলা। কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, হাম্মামি এই বছরের শেষের দিকে তেল আবিবগামী আরেকটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। সেটিকেও ছিনতাই করে বিধ্বস্ত করার ইচ্ছা ছিল তাঁর, কিন্তু পরে তিনি তা থেকে পিছিয়ে আসেন। তবে কেন তিনি তখন মত বদল করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ওই ফ্লাইটে থাকা কাউকে চিনতেন।
হাম্মামি অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন চরমপন্থী ওয়েবসাইটগুলোতে ভিজিট করতেন। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর নামে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে একটি ফাইল ছিল। যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, হাম্মামি সেখানে অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে একটি দূরশিক্ষণ কোর্স করেছিলেন। তিনি নিউজিল্যান্ডেও কিছু সময় কাটিয়েছিলেন, সেখানে পুলিশ তাঁর অবস্থানের সময়টি খতিয়ে দেখছে।
হাম্মামি বিশেষ কুড়াল দিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিথ মছারকে আঘাত করেন। এর ফলে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটি হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। স্মিথ মছার জানান, তিনি গুরুতর আঘাত পেলেও ফ্লাইট ডেকের দরজাটি খুলে দিতে সক্ষম হন। ফলে যাত্রীরা সহ-পাইলটকে কাবু করে এবং সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণের আগে বিমানটিকে স্থিতিশীল করেন।
ওমানি পাইলট হাম্মামি চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নিজ দেশে উড়োজাহাজ চালানোর নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা ওমানের একজন নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলি যাত্রীতে পূর্ণ একটি উড়োজাহাজ তেল আবিবে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলেন, তা স্পষ্ট নয়।
"তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইনসে চাকরি পাওয়ার আগেই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং বিমানটিকে তেল আবিবের কাছে আছড়ে ফেলার ইচ্ছা ছিল তাঁর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্লাইদুবাই, তেল আবিব (বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর), অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য (বাকিংহামশায়ার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাম্মাম আল-হাম্মামি (২৯), ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ বছর (হাম্মামি), ৭৩৭ ম্যাক্স (বিমান মডেল), ১৭ হাজার ফুট (বিমান নেমে যাওয়া উচ্চতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!