📌 ভারতে ও নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে ৫৬ জনের মৃত্যু, ৪৬ জন আহত ও ১ হাজারাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু ও ১১ জন নিখোঁজ। কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায়।
ভারতে ও নেপালে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে ৫৬ জনের মৃত্যু ও ৪৬ জন আহত হয়েছে। নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে, কারণ আবারও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারতে উত্তর প্রদেশে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার
- 📌 ভারতে ৫৬ জনের মৃত্যু, ৪৬ জন আহত এবং এক হাজারাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 নেপালের ৭৭ জেলার মধ্যে ৪৯টিতে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে অর্ধেকের বেশি জেলা বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে
- 📌 নেপালের রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 মানাং জেলায় হিমালুং হিমাল বেজক্যাম্প তুষারধসে ১০ জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ভারতে উত্তর প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল রোববার পর্যন্ত এই দুর্যোগে ৪৬ জন আহত হয়েছে এবং এক হাজারাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ জানিয়েছেন, উত্তর প্রদেশে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার। পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চলছে এবং ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
নেপালেও বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মহাত জানিয়েছেন, গত মাসের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলাকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে বর্তমানে রাসুয়া ও নুয়াকোটকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে টেলিযোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা জানিয়েছেন, অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। নেপালের মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার কাজ করছে।
রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে একটি ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থাপনা ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিসম্পদ ও জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের ক্ষতি হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন জানিয়েছে, সাতটি প্রদেশের ৩০টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে গুরুতর পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গঙ্গা, গণ্ডক, কোসি, বাগমতী, নর্মদাসহ বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেপালের মানাং জেলায় হিমালুং হিমাল বেজক্যাম্প তুষারধসে ১০ জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। তুষারধসের সময় সেখানে কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না।
"গত মাসের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলাকে সতর্ক থাকতে হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারতের উত্তর প্রদেশ, নেপালের ৭৭ জেলা (৪৯টি ঝুঁকিপূর্ণ), মানাং জেলার হিমালুং হিমাল বেজক্যাম্প
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ (উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার), শান্তি মহাত (নেপালের দুর্যোগ মুখপাত্র), বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ (পানিসম্পদ ও জ্বালানিমন্ত্রী), বিক্রম তিমিলসিনা (যোগাযোগমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ জন মৃত্যু (ভারত), ১৪ জন মৃত্যু (নেপাল), ১১ জন নিখোঁজ, ৪৬ জন আহত, ৬৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি, ৭.৬ মিলিমিটার স্বাভাবিক বৃষ্টি, ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!