📌 জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও জলবায়ু সংকটের কারণে ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি ও বেলজিয়ামে লাখ লাখ তরুণ বিক্ষোভে নেমেছেন। শিক্ষার্থীরা প্রধান সক্রিয়কারী হিসেবে আবাসন ব্যয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও জলবায়ু সংকটের কারণে তরুণরা নিজেদের ‘বলির পাঁঠা’ মনে করে বিক্ষোভে নেমেছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি ও বেলজিয়ামে গত সপ্তাহান্তে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নামার পেছনে রয়েছে একই ধরনের অসন্তোষ। শিক্ষার্থীরা এসব বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, তাদের দাবি রয়েছে ভালো সুযোগ-সুবিধা ও স্বচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পদ্ধতি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সে গত ১৭ অক্টোবর অন্তত ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল কিন্তু দ্রুত লুটপাট ও সংঘর্ষে পরিণত হয়
- 📌 গ্রিসের শিক্ষার্থী ফিলিপ্পোস আর্মেন বলেন, ‘ইউরোপের সমস্যাগুলো একই রকম’ — উচ্চ আবাসন ব্যয় ও অনিশ্চিত চাকরি তরুণদের প্রধান উদ্বেগ
- 📌 বেলজিয়ামের সমাজবিজ্ঞানী জিওফ্রে প্লেয়ার্সের মতে, ‘তরুণদের সামনে বড়জোর একটি অনিশ্চিত চাকরি রাখা হচ্ছে’
- 📌 ফ্রান্সের শিক্ষক ও ইতিহাসবিদ সিলভাঁ বুলুক বলেন, ‘তরুণরা আগের প্রজন্মের ঋণ ও পরিবেশগত সমস্যার বোঝা বহন করছেন’
- 📌 জার্মানিতে রাশিয়া-উত্তেজনার কারণে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর সম্ভাবনা তরুণদের বিক্ষোভকে আরও জোরদার করেছে
- 📌 স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও গ্রিসে আগামী বছরে নির্বাচনের আগেই তরুণদের বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা গত সেপ্টেম্বরে রাস্তায় নামেন ভালো সুযোগ-সুবিধা ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির অস্বচ্ছ পদ্ধতি বন্ধের দাবিতে। এই আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসবিদ সিলভাঁ বুলুক বলেছেন, ‘এটি একটি ইউরোপীয় আন্দোলন, ফ্রান্সই এর অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে’। ফ্রান্সে বিক্ষোভের পর গ্রিসের কয়েকটি শহরে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন, তাদের হাতে ছিল গ্রিক ও ফরাসি ভাষায় লেখা স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
বেলজিয়ামের সমাজবিজ্ঞানী জিওফ্রে প্লেয়ার্সের মতে, তরুণদের সামনে বড়জোর একটি অনিশ্চিত চাকরি রাখা হচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয় ও জলবায়ু সংকটের কারণে তরুণদের পড়াশোনা আর তাদের মা-বাবার প্রজন্মের মতো জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসের বিক্ষোভে আবাসন ব্যয় একটি ‘কেন্দ্রীয় বিষয়’ হয়ে উঠেছে, কারণ এর সঙ্গে ক্রয়ক্ষমতা ও সম্পদের অসম বণ্টনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মারিয়াম মার্তিনেস-বাসকুনান বলেছেন, ‘দারিদ্র্যের চেয়ে অনিশ্চয়তাই মানুষের অসন্তোষের বড় কারণ’। ফ্রান্সের বিক্ষোভের চিত্র অন্য দেশের তরুণদেরও উৎসাহিত করেছে। পর্তুগালে আবাসনের অধিকার দাবিতে আন্দোলনকারীদের তাঁবু খাটিয়ে অবস্থানের দৃশ্যও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে ভূমিকা রেখেছে।
বুলুক বলেন, আগের প্রজন্মের ঋণ ও পরিবেশগত সমস্যার চাপ সম্পর্কে তরুণেরা গভীরভাবে সচেতন। এ কারণে তরুণদের মধ্যে নিজেদের ‘বলির পাঁঠা’ মনে করার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সের শ্রেণিকক্ষে মুঠোফোন নিষেধাজ্ঞার কারণে শিক্ষার্থীরা আবার একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেছে এবং বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ সম্পর্কে বুঝতে পারছে।
"‘অনিশ্চয়তা’ ইউরোপজুড়ে অনেক মানুষ এখন এমন একটি ব্যবস্থার মুখোমুখি, যার কার্যকারিতা ফুরিয়ে এসেছে।"
জার্মানিতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার কারণে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা তরুণদের বিক্ষোভকে আরও জোরদার করেছে। ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন, যা ২০১৮-১৯ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হয়েছিল। অন্যদিকে ইতালিতে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের প্রতিবাদ জানানোর জন্য চালক ও কৃষকরা তরুণদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, বেলজিয়াম, গ্রিস, পর্তুগাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিলভাঁ বুলুক, জিওফ্রে প্লেয়ার্স, ফিলিপ্পোস আর্মেন, মারিয়াম মার্তিনেস-বাসকুনান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ ৫০ হাজার (ফ্রান্সে বিক্ষোভকারী), ১০ হাজার (গ্রিসে বিক্ষোভকারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!