📌 ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ইস্পাত আমদানি বিধিনিষেধ ইউক্রেনকে চীন ও তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে একই কাতারে ফেলেছে। ইউক্রেনের ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেটইনভেস্টের প্রধান নির্বাহী ইউরি রিজেনকভ বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রপ্তানি ক্ষমতা ৫০-৬০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ইউক্রেনের অর্থনীতির ১০ শতাংশ আসে ধাতু খাত থেকে, কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে আরও বিপর্যস্ত করছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ইস্পাত আমদানি বিধিনিষেধ ইউক্রেনের ইস্পাতশিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশের প্রধান ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেটইনভেস্টের প্রধান নির্বাহী ইউরি রিজেনকভ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে আরোপিত বিধিনিষেধ দেশটির অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউক্রেনের ইস্পাত রপ্তানি ৫০-৬০ শতাংশ কমে যেতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন বিধিনিষেধের কারণে, যা দেশটির অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
- 📌 ইইউ ইস্পাত আমদানির কোটা ৪৭ শতাংশ কমিয়ে ১ কোটি ৮৩ লাখ টন — যা ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
- 📌 রিজেনকভ: ‘ইউক্রেনকে অন্য দেশের মতো একই বিধিনিষেধের আওতায় ফেলা অন্যায্য’ — তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বিশেষ অবস্থান বিবেচনা করা উচিত ছিল।
- 📌 ৮০০ কর্মী নিহত, কারখানাগুলো বোমা হামলার শিকার — রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণে ইউক্রেনের ইস্পাতশিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
- 📌 ইইউ স্বীকার করেছে ইউক্রেনের ইস্পাত রপ্তানির কোটা কমেছে — তবে বলেছে, যুদ্ধ চললেও ইউক্রেন এখনো ইইউর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী।
📰 বিস্তারিত
ইউক্রেনের ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেটইনভেস্টের প্রধান নির্বাহী ইউরি রিজেনকভ বিবিসিকে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইস্পাত আমদানিতে আরোপিত নতুন শুল্ক এবং বিধিনিষেধ ‘অন্যায্য’। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বর্তমান যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা বিবেচনা না করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রিজেনকভ আহ্বান জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জন্য অন্তত একটি বিশেষ ছাড় রাখা হোক যাতে দেশটি ইউরোপীয় বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ পায়।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র বলেছেন, ইস্পাত আমদানির নীতি নির্ধারণের সময় ইউক্রেনের ‘কঠিন পরিস্থিতি’ বিবেচনা করা হয়েছে। তবে নতুন নীতিতে বছরে শুল্ক ছাড়াই সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮৩ লাখ টন ইস্পাত আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কম। এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো চীন ও তুরস্কের মতো দেশ থেকে কম দামে ইস্পাত আমদানি হওয়ায় ইইউর সদস্যদেশগুলোর উৎপাদনকারীদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সমস্যায় পড়া প্রতিরোধ করা।
ইউক্রেনের ইস্পাতশিল্পের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বিধিনিষেধের কারণে ইইউতে দেশটির ইস্পাত রপ্তানি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে যেতে পারে। রিজেনকভ বলেন, ‘ইউক্রেন যে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা না করেই আমাদের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে একই বিধিনিষেধের আওতায় ফেলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগ আমাদের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষ যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তা আমাদের কোনো উপকার করছে না।’
ইউক্রেনের ইস্পাতশিল্প যুদ্ধের আঘাতে বিপর্যস্ত। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার আগে দেশটির মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ আসত ধাতু উৎপাদন ও খনি খাত থেকে। ইউক্রেনের মোট রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশও আসত এই খাত থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নই ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, কিন্তু রাশিয়ার অব্যাহত বোমা হামলায় দেশটির ইস্পাতশিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। রিজেনকভ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এসব হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে এক টন ইস্পাতও উৎপাদিত হয়নি।’
"আমরা অত্যন্ত সংকটজনক পরিস্থিতিতে রয়েছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো বাজারে পণ্য পাঠানোর মতো পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইউক্রেন, রাশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউরি রিজেনকভ (মেটইনভেস্টের প্রধান নির্বাহী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- ১ কোটি ৮৩ লাখ টন — ইইউর ইস্পাত আমদানির সর্বোচ্চ সীমা (৪৭% কম)
- ৫০-৬০ শতাংশ — সম্ভাব্য ইস্পাত রপ্তানির হ্রাস
- ১০ শতাংশ — ইউক্রেনের জাতীয় আয়ের ধাতু খাতের অবদান
- ৮০০ — মেটইনভেস্টের নিহত কর্মী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!