📌 জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও সরকারি সেবার অবনতি প্রতিবাদে ইউরোপের ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভে লাখো মানুষ অংশ নেয়। সহিংসতা ছড়ায়, ঘটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। ফ্রান্সে ১৯৫ জন আটক, ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ইউরোপের চার দেশে বিক্ষোভে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছে। শনিবার ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে সহিংস বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্সের প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গসহ বেশ কয়েকটি শহরে দোকান লুট করা হয়। বিক্ষোভকারীদের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় ঘটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লাঠিচার্জ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও স্কুলের অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেয়, প্যারিসে গভীর রাতে আগুন জ্বলে
- 📌 ফ্রান্সের ১৪৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, লিমোজের টাউন হলের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত
- 📌 বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে, অন্তত ১৯৫ জন আটক করা হয়
- 📌 উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের আলঁসোঁ শহরে পুলিশ কর্মকর্তা ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিষিদ্ধ হেডলক কৌশল ব্যবহার করে আটকায়
- 📌 ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দাঙ্গাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার হুমকি দেয়
- 📌 পর্তুগালে লিসবনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটের প্রতিবাদে দশ হাজার মানুষ মিছিল করে, বাসাভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে
- 📌 ইতালির মিলান ও বোলোনিয়ায় পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার। প্যারিসে গভীর রাতে বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পুলিশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। ফ্রান্সের ১৪৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থাপনাটির ছাদ ভেঙে নিচের তলায় পড়ে যায়। লিমোজে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বিক্ষোভকারীদের আগুনে সেখানকার টাউন হলের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে। তারা এ ক্ষয়ক্ষতিকে ঐতিহ্যের জন্য ‘বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
গত মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে আরও বিস্তৃত হয়। স্কুলের অবনতিশীল পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের অভিযানে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের চোয়াল ভেঙে যায়। এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের আলঁসোঁ শহরে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এক কিশোরীকে হেডলক দিয়ে আটকাতে দেখা যায়। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের কৌশল নিষিদ্ধ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, যারা পুলিশ প্রশাসনের কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও টাউন হলে হামলা এবং লুটপাট চালিয়েছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া ও আগুন জ্বালানোর অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। লিয়েজ শহরেও জলকামান মোতায়েন করা হয়। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কয়েক দশ হাজার মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়, কম মজুরি এবং বড় শহরগুলোতে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে মিছিল করেন। দেশটিতে ২০১৭ সালের পর থেকে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। নতুন চুক্তিতে বাসাভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
"রাস্তায় চিৎকারের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না"
পর্তুগালের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিমের এই কথা। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও সমস্যার সঙ্গে সংযোগ হারানোর অভিযোগ তোলেন। ইতালির মিলান ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের পাথর নিক্ষেপ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর জানিয়েছে পুলিশ। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস, মার্সেই, লিমোজ, আলঁসোঁ), বেলজিয়াম (ব্রাসেলস, লিয়েজ), ইতালি (মিলান, বোলোনিয়া), পর্তুগাল (লিসবন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট), কার্লোস আব্রেউ আমোরিম (পর্তুগালের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী), স্থানীয় কর্মকর্তারা (লিমোজ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী (ফ্রান্স), ১৯৫ জন আটক, ১৪৩ বছর পুরনো ঐতিহাসিক স্থাপনা, ২০১৭ সাল থেকে বাড়ির দাম দ্বিগুণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!