📌 ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ECHR) শনিবার ১০ বছর আগে রাশিয়া কর্তৃক দখলকৃত ক্রিমিয়ায় থেকে ১০ শিশুকে বাধ্যতামূলকভাবে রাশিয়ায় স্থানান্তরিত করার মামলা শুনেছে। ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা দাবি করে, এসব শিশুকে রাশিয়ান নাগরিকতা বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয় এবং তাদের বর্তমান অবস্থান অজানা। রাশিয়া এই দাবিকে নাকচ করে বলছে, শিশুদের ‘যুদ্ধাঘাতিত এলাকায় থেকে রক্ষা করা হয়েছে’
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ECHR) শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে ১০ শিশুকে বাধ্যতামূলকভাবে রাশিয়ায় স্থানান্তরিত করার মামলা শুনেছে। এই মামলায় দাবি করা হয়েছে, শিশুদেরকে রাশিয়ান নাগরিকতা বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বর্তমান অবস্থান অজানা থাকায় এটি ‘বাধ্যতামূলক অদৃশ্য’ হিসেবে বিবেচিত। ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা ইউক্রেনীয় হেলসিঙ্কি মানবাধিকার ইউনিয়ন (UHHRU) মামলাটি দায়ের করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০ শিশু অদৃশ্য**: ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা দাবি করে, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে ১০ শিশুকে রাশিয়ায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তাদের বর্তমান অবস্থান অজানা।
- 📌 **রাশিয়ার অপরাধের বিচার**: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০১৭ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তার শিশু অধিকার কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভাকে শিশুদের ‘অনৈক্যবাদী বন্দী ও স্থানান্তর’ অপরাধের জন্য গ্রেফতারের আদেশ জারি করেছিল।
- 📌 **নাগরিকতা বাধ্যতামূলক**: শিশুদেরকে রাশিয়ান নাগরিকতা বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নাম, জন্ম তারিখ এবং পরিচয় পরিবর্তন করা হয়েছে।
- 📌 **রাশিয়া প্রত্যাখ্যান**: রাশিয়া দাবি করে, শিশুদের ‘যুদ্ধাঘাতিত এলাকায় থেকে রক্ষা করা হয়েছে’ এবং তারা ‘মানবিক প্রচেষ্টা’র অংশ।
- 📌 **বিশ্বের মনোযোগ**: কাউন্সিল অফ ইউরোপের বিশেষ প্রতিনিধি থর্ডিস কোলব্রুন রেকফিয়র্ড গিলফাদটির বলেছেন, “শিশুদের অবস্থান জানা দরকার এবং তাদের পরিচয় রক্ষা করতে হবে। আমরা প্রশ্ন করতে বন্ধ করতে পারি না এবং উত্তর চাইতে পারি না।”
📰 বিস্তারিত
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের শুনানিতে ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে, রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে শিশুদের বাধ্যতামূলকভাবে রাশিয়ায় স্থানান্তরিত করেছে। এই শিশুদের মধ্যে ২০১৪ সালে বয়স ছিল ১ থেকে ৫ বছর। ইউক্রেনের শিশু বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ডেনিস চিস্টিকভ বলেছেন, শিশুদেরকে রাশিয়ান পরিবারে অপহরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, “এই ১০টি মামলার মাধ্যমে ইউক্রেন চাইছে রাশিয়ার শিশুদের অপহরণের নীতির পরিসংখ্যান এবং ব্যবস্থাপনা দেখানো যাক।”
রাশিয়া ২০১৪ সালে ‘ক্রিমিয়া হোপ ট্রেন’ নামে একটি বিতর্কিত অপহরণ কর্মসূচি শুরু করেছিল, যেখানে ক্রিমিয়ার শিশুদের রাশিয়ান পরিবারে অপহরণের জন্য টেলিভিশনে প্রোফাইল করা হত। ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা ‘জমিনা’র অনিসিয়া সিনিউক বলেছেন, “এই শিশুদের ট্র্যাক করা খুবই কঠিন, কারণ তাদের পরিচয় পরিবর্তন করা হয়েছে এবং তাদের বর্তমান অবস্থান অজানা।”
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের সম্পূর্ণ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এই অপরাধের পরিসর আরও বাড়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, শিশুদেরকে রাশিয়ায় ‘বৈধীকরণ’ করার জন্য তাদের নাম, জন্ম তারিখ এবং পরিচয় পরিবর্তন করা হয়েছে। রাশিয়া এই দাবিকে নাকচ করে বলেছে, শিশুদের ‘যুদ্ধাঘাতিত এলাকায় থেকে রক্ষা করা হয়েছে’ এবং তারা ‘মানবিক প্রচেষ্টা’র অংশ।
"শিশুদের অবস্থান জানা দরকার এবং তাদের পরিচয় রক্ষা করতে হবে। আমরা প্রশ্ন করতে বন্ধ করতে পারি না এবং উত্তর চাইতে পারি না।"
— থর্ডিস কোলব্রুন রেকফিয়র্ড গিলফাদটির, কাউন্সিল অফ ইউরোপের বিশেষ প্রতিনিধি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ECHR), কিয়েভ, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভ্লাদিমির পুতিন, মারিয়া লভোভা-বেলোভা, থর্ডিস কোলব্রুন রেকফিয়র্ড গিলফাদটির, ডেনিস চিস্টিকভ, অনিসিয়া সিনিউক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ (শিশু), ২০১৪ (ক্রিমিয়া দখল), ২০১৭ (আইসিসি গ্রেফতার আদেশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!