📌 স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালে আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মিলানে পুলিশ-বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষে দুজন পুলিশ আহত হয়েছেন এবং ৫০ জন বিক্ষোভকারী আটক। পর্তুগালের লিসবনে হাজারো বিক্ষোভকারী তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালে এই আন্দোলন জোরদার হয়েছে। ইতালির মিলানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে হাজারো বিক্ষোভকারী তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন এবং তাদের দাবি, ‘আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিলানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দুজন পুলিশ আহত এবং ৫০ জন বিক্ষোভকারী আটক
- 📌 পর্তুগালের লিসবনে হাজারো বিক্ষোভকারী তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন, তাদের দাবি: ‘আবাসন ব্যয়ে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’
- 📌 ২০১৫-২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসন ব্যয় ১২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের দ্বিগুণ
- 📌 মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা ও শহরের ক্ষয়ক্ষতি সমর্থনযোগ্য নয়
- 📌 পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ বুঝতে পারছে
📰 বিস্তারিত
স্পেন ও ফ্রান্সে শুরু হওয়া আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদী বিক্ষোভ এবার ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির মিলানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও, মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পাথর, রাস্তার পাকা ব্লকসহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন। রেস্তোরাঁর টেবিল দিয়ে তৈরি ব্যারিকেডেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘বিক্ষোভ করা মানুষের অধিকার, কিন্তু শহরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া কোনো অধিকার নয়’। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু ‘উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি’ বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছেন।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বিক্ষোভকারীরা তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন। গত শনিবার সেখানে হাজারো বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তারা রাজা চতুর্থ পেদ্রোর ভাস্কর্যের চারপাশে বসে গান গাইতে থাকেন। ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেছেন, ‘পর্তুগালের শ্রমিক শ্রেণি আক্রমণের মুখে পড়েছে। তারা নিজেদের অধিকার হারাচ্ছে, বিশেষ করে আবাসনের অধিকার। আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে’।
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ বুঝতে পারছে। তবে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা এড়িয়ে গেছেন। পর্তুগালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে আবাসন ব্যয় ১২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে তরুণ ও লিসবনের বাসিন্দাদের ওপর।
“বিক্ষোভ করা মানুষের অধিকার। কিন্তু আমাদের শহরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া কোনো অধিকার নয়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিলান (ইতালি), লিসবন (পর্তুগাল), মাদ্রিদ (স্পেন), পোর্তো (পর্তুগাল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জর্জিয়া মেলোনি (ইতালির প্রধানমন্ত্রী), লুইস মন্টেনেগ্রো (পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী), জিউসেপ্পে সালা (মিলানের মেয়র), এলেনা কস্তা (৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ জন বিক্ষোভকারী আটক, ১২৪ শতাংশ আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, ১ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যা, ১ হাজার বিক্ষোভকারী লিসবনে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!