📌 ইউরোপে ৭০ জন ভারতীয় রেস্তোরাঁ কর্মীকে প্রতারণার শিকার করা হয়েছে। তাদেরকে শেফ হিসেবে ভিসা নিয়ে যাওয়া হলেও বাসন ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিম্ন মজুরিতে কঠোর শ্রমে লাগানো হতো। নেদারল্যান্ডসে দুই মালিক গ্রেপ্তার হয়েছেন, আর ভারতের নির্বাচন কমিশনারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে সিজেপি
ইউরোপে ভারতীয় রেস্তোরাঁ মালিকদের মানব পাচার ও শ্রম শোষণের একটি বিশাল অভিযোগ উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তদন্ত সংস্থা ইউরোপোলের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ জনেরও বেশি ভারতীয় কর্মীকে শেফ হিসেবে ভিসা নিয়ে ইউরোপে পাঠানো হলেও সেখানে তাদেরকে বাসন ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিম্ন মজুরিতে কঠোর শ্রমে লাগানো হতো। কর্মীদেরকে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮০ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হতো, আর দেশে ফিরতে চাইলে সহিংসতার হুমকি ও আর্থিক চাপ দেওয়া হতো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭০ জনেরও বেশি ভারতীয় কর্মী**কে শেফ হিসেবে ভিসা নিয়ে ইউরোপে পাঠানো হলেও সেখানে তাদেরকে **বাসন ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিম্ন মজুরিতে কঠোর শ্রমে লাগানো** হতো।
- 📌 **সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮০ ঘণ্টা কাজ** করতে বাধ্য করা হতো কর্মীদের, আর **দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শারীরিক শ্রম** নিশ্চিত করা হতো।
- 📌 **নেদারল্যান্ডসে দুই মালিক গ্রেপ্তার** হয়েছে মানব পাচার ও অবৈধ শ্রম নিয়োগের অভিযোগে। তাদের সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁগুলো **৪০ লাখ ইউরো (৪৫ লাখ মার্কিন ডলার) মুনাফা** করেছে বলে ধারণা।
- 📌 **বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডের** একই ধরনের রেস্তোরাঁগুলোরও তদন্ত চলছে।
- 📌 **ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম** দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
📰 বিস্তারিত
ইউরোপোলের তথ্য মতে, কর্মীদেরকে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮০ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হতো। তাদেরকে শেফ হিসেবে ভিসা নিয়ে ইউরোপে পাঠানো হলেও সেখানে তাদেরকে বাসন ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশন ও ব্যবস্থাপনার মতো নিম্ন মজুরির কাজে লাগানো হতো। কর্মীদেরকে দেশে ফিরতে চাইলে সহিংসতার হুমকি দেওয়া হতো এবং তাদের ভারতের পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো।
নেদারল্যান্ডসের শ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই মালিকের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিক নিয়োগের সন্দেহ রয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, কর্মীদের নিয়োগ ও থাকার ব্যবস্থা করতেন এবং তাদেরকে দেশে ফিরতে বাধা দিতেন। এছাড়াও, ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিশেষ শেফ নিয়োগের ভিসা ব্যবস্থা বাতিল করা হলেও, ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত পরিবর্তনকালীন ব্যবস্থায় ভিসা দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেই সুযোগ নিয়ে কর্মীদের শোষণ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে জড়িত সংস্থাটি জানিয়েছে, কর্মীদের দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ‘শারীরিকভাবে কঠিন শ্রম’ করতে হয়েছে। নেদারল্যান্ডসে বিশেষায়িত শেফ নিয়োগের জন্য ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরের দেশগুলোর উদ্যোক্তাদের একটি বিশেষ ভিসা ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সেই ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পরেও কর্মীদের শোষণ চলতে থাকে।
"কর্মীদেরকে দেশে ফিরতে চাইলে সহিংসতার হুমকি দেওয়া হতো এবং তাদের ভারতের পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউরোপ (নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভারতীয় কর্মীরা, নেদারল্যান্ডসের দুই মালিক, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ জন কর্মী, ৮০ ঘণ্টা সপ্তাহে কাজ, ১৬ ঘণ্টা দিনে শ্রম, ৪০ লাখ ইউরো মুনাফা, ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!