📌 ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে গঠিত নতুন বিদ্রোহী জোটের পিছনে দেশের দীর্ঘদিনের একটি পুরাতন সমস্যা রয়েছে। ক্ষমতা সংগ্রামে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের কোনো স্থান না থাকায়, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য লোকেরা অস্ত্র গ্রহণ করে। নতুন জোটে তিগ্রায়ের জনগণের মুক্তি ফ্রন্ট (TPLF), আমহারা ফানো জাতীয় আন্দোলন, ওরোমো মুক্তি সেনা (OLA) এবং সোমালি, আফার ও বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলের চারটি আন্দোলন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে
ইথিওপিয়ায় একটি নতুন বিদ্রোহী জোটের গঠন প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের দীর্ঘদিনের একটি পুরাতন সমস্যার প্রতিফলন। ইথিওপিয়া একটি বহুজাতিক সমাজের সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে ক্ষমতা সংগ্রামে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের কোনো স্থান নেই। ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য লোকেরা অস্ত্র গ্রহণ করে। এই জোটের নাম ইথিওপিয়ান পিপলস ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সার্ভাইভাল। এটি ২০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত হয়েছিল এবং এর মধ্যে রয়েছে তিগ্রায়ের জনগণের মুক্তি ফ্রন্ট (TPLF), আমহারা ফানো জাতীয় আন্দোলন, ওরোমো মুক্তি সেনা (OLA) এবং সোমালি, আফার ও বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলের চারটি আন্দোলন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবি আহমেদের বিরুদ্ধে নতুন বিদ্রোহী জোটের লক্ষ্য হলো প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সার্বিক পরিবর্তন আনা।
- 📌 জোটের মধ্যে রয়েছে তিগ্রায়ের জনগণের মুক্তি ফ্রন্ট (TPLF), আমহারা ফানো জাতীয় আন্দোলন, ওরোমো মুক্তি সেনা (OLA) এবং আফার জাতীয় ইউনিটি রেভলিউশনারি ফ্রন্ট (ANURF)।
- 📌 আফার জাতীয় ইউনিটি রেভলিউশনারি ফ্রন্ট (ANURF) এর নেতা হাজি ইব্রাহিম, যিনি ইরিত্রিয়া থেকে সমর্থন পাচ্ছেন, তার নেতৃত্বে আফার বিশেষ বাহিনী এবং স্থানীয় বাহিনী ২০২৫ সালে ইরিত্রিয়ায় পালিয়ে যায়।
- 📌 জোটের লক্ষ্য হলো আবি আহমেদের সরকারকে ভেঙে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সার্বিক পরিবর্তন আনা।
- 📌 ২০২৩ সাল থেকে আমহারা অঞ্চলে এবং ২০১৮ সাল থেকে ওরোমিয়া অঞ্চলে চলমান গৃহযুদ্ধ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
- 📌 ২০২১ সালে গঠিত ইথিওপিয়ান ন্যাশনাল ডায়ালগ কমিশন ৪০০০ জন অংশগ্রহণকারীর একটি জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করে, কিন্তু বিদ্রোহী দল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী সংগঠন এই সম্মেলনে অংশ নেয়নি।
- 📌 ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে গঠিত ইউনাইটেড ফ্রন্ট অফ ইথিওপিয়ান ফেডারেলিস্ট অ্যান্ড কনফেডারেলিস্ট ফোর্সেস এর সদস্যরা ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আফার রেভলিউশনারি ডেমোক্রেটিক ইউনিটি ফ্রন্টকে ত্যাগ করে, কারণ তারা TPLF-কে আফার নাগরিকদের হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল।
- 📌 ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বেনিশাঙ্গুল পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
📰 বিস্তারিত
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারের বিরুদ্ধে নতুন বিদ্রোহী জোটের গঠন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রতিফলন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান গৃহযুদ্ধের ইতিহাসে দেখা যায় যে, ক্ষমতা সংগ্রামে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের কোনো স্থান নেই। ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য লোকেরা অস্ত্র গ্রহণ করে। এই জোটের মধ্যে রয়েছে তিগ্রায়ের জনগণের মুক্তি ফ্রন্ট (TPLF), আমহারা ফানো জাতীয় আন্দোলন, ওরোমো মুক্তি সেনা (OLA) এবং আফার জাতীয় ইউনিটি রেভলিউশনারি ফ্রন্ট (ANURF)।
জোটের মধ্যে তিগ্রায়ের জনগণের মুক্তি ফ্রন্ট (TPLF), আমহারা ফানো জাতীয় আন্দোলন এবং আফার জাতীয় ইউনিটি রেভলিউশনারি ফ্রন্ট (ANURF) বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি সংগঠন উত্তর ইথিওপিয়ায় অবস্থিত, যা ইরিত্রিয়ার সাথে সীমান্তে অবস্থিত, ফলে তারা ইরিত্রিয়া থেকে অবিরত লজিস্টিক সমর্থন পাচ্ছেন। জোটের লক্ষ্য হলো প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ভেঙে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সার্বিক পরিবর্তন আনা।
২০২১ সালের নভেম্বর মাসে গঠিত ইউনাইটেড ফ্রন্ট অফ ইথিওপিয়ান ফেডারেলিস্ট অ্যান্ড কনফেডারেলিস্ট ফোর্সেসের সদস্যরা ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আফার রেভলিউশনারি ডেমোক্রেটিক ইউনিটি ফ্রন্টকে ত্যাগ করে। তারা TPLF-কে আফার নাগরিকদের হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বেনিশাঙ্গুল পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
২০২১ সালে গঠিত ইথিওপিয়ান ন্যাশনাল ডায়ালগ কমিশন একটি জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে ৪০০০ জন অংশগ্রহণকারীর অংশগ্রহণ ছিল। তবে বিদ্রোহী দল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী সংগঠন এই সম্মেলনে অংশ নেয়নি।
"আমরা এই লড়াইয়ে প্রধানত আবি আহমেদের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, আফার জনগণ বা তাদের বাহিনীকে লক্ষ্য করা হচ্ছে না। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তন আনা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইথিওপিয়া (তিগ্রায়, আমহারা, ওরোমিয়া, আফার অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, হাজি ইব্রাহিম (ANURF নেতা), তিগ্রায়ের জনগণের মুক্তি ফ্রন্ট (TPLF) নেতারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০০ জন (জাতীয় সম্মেলনের অংশগ্রহণকারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!