📌 ইথিওপিয়া নিজস্ব ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে যিশু খ্রিস্টের জন্মসনকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় ৭-৮ বছর আগে গণনা করে। দেশটিতে ১৩ মাসের ক্যালেন্ডার চালু রয়েছে এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে সমন্বয় করতে অনেক ইথিওপীয় কষ্ট পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এখন ২০২৬ সাল চলছে, কিন্তু আফ্রিকার ইথিওপিয়া দেশে এই সময়কালে ২০১৯ সালই শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া ভ্রান্ত তথ্যের পেছনে রয়েছে দেশটির নিজস্ব ক্যালেন্ডার ব্যবস্থা। ইথিওপিয়া গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় নিজস্ব ক্যালেন্ডারে ৭ থেকে ৮ বছর পিছিয়ে রয়েছে এবং এখানে ১৩ মাসের ক্যালেন্ডার চালু রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইথিওপিয়া নিজস্ব ক্যালেন্ডারে ২০১৯ সাল গণনা করছে, যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশে ২০২৬ সাল চলছে
- 📌 দেশটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় ৭ থেকে ৮ বছর পিছিয়ে এবং নিজস্ব ১৩ মাসের ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে
- 📌 ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারের বয়স প্রায় ৫০০ বছর এবং এটি প্রাচীন কপটিক ক্যালেন্ডারের উপর ভিত্তি করে তৈরি
- 📌 দেশটিতে ১৩ মাসের ক্যালেন্ডারে প্রথম ১২ মাসে ৩০ দিন করে থাকে এবং ১৩তম মাসে ৫ দিন (অধিবর্ষে ৬ দিন)
- 📌 ইথিওপিয়ান ও পশ্চিমা ক্যালেন্ডারের সমন্বয় করতে অনেক ইথিওপীয় কষ্ট পায়, বিশেষত জন্মসনদ বা অন্যান্য সরকারি কাজে
📰 বিস্তারিত
ইথিওপিয়া নিজস্ব ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে যিশু খ্রিস্টের জন্মসনকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে গণনা করে। এই ক্যালেন্ডার প্রাচীন কপটিক ক্যালেন্ডারের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এর বয়স প্রায় ৫০০ বছর। ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চ প্রাচীন হিসাবই অনুসরণ করে আসছে, যেখানে রোমান চার্চ ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে তাদের হিসাব পরিবর্তন করেছিল।
ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারে মোট ১৩ মাস রয়েছে। প্রথম ১২ মাসের প্রতিটি মাসে ৩০ দিন থাকে এবং ১৩তম মাস ‘পাগুমে’তে ৫ দিন থাকে। অধিবর্ষে এই মাসের দিন সংখ্যা ৬ হয়ে যায়। এই ক্যালেন্ডার ব্যবস্থায় ইথিওপীয়দেরকে একই সঙ্গে প্রচলিত ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডার এবং পশ্চিমা ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে হয়। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী ইথিওপীয় এবং দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই সমন্বয় বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।
জার্মানিতে বসবাসরত ইথিওপিয়ান প্রত্নতত্ত্ববিদ গোইতোম ডব্লিউ. টেকলে বলেছেন, ‘এটি খুব কঠিন। আমি এখনো একটির সঙ্গে আরেকটি পুরোপুরি মিলিয়ে নিতে পারি না। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমাকে সময়, দিন—কখনো কখনো মাস, এমনকি বছর নিয়েও ভাবতে হয়।’ তিনি জানান, বিশেষ করে জন্মসনদ তৈরির মতো সাধারণ কাজেও ইথিওপিয়ান ও পশ্চিমা ক্যালেন্ডারের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে সমস্যা হয়।
মধ্যযুগীয় ইউরোপ ও আফ্রিকার ইতিহাস নিয়ে কাজ করা জার্মান ইতিহাসবিদ ভেরেনা ক্রেবস বলেছেন, ‘একটি শিশুর বয়স যদি তিন বছর হয় এবং আপনি তার জন্মসনদের জন্য স্থানীয় সরকারের কাছে আবেদন করেন, তবে আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সঠিকভাবে সেটি রূপান্তর করতে পারবেন। ফলে কিছু ক্ষেত্রে জন্মদিন বছরে দুই বা তিনবার হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।’
"আমরা অনন্য। আমাদের কখনো কারও উপনিবেশ হইনি। আমাদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার আছে। নিজস্ব বর্ণমালা আছে। নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আছে।"
— রোটেট ইথিওপিয়া ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এশেতু গেতাচেউ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইথিওপিয়া, আফ্রিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এশেতু গেতাচেউ, গোইতোম ডব্লিউ. টেকলে, ভেরেনা ক্রেবস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭-৮ বছর পিছিয়ে, ১৩ মাসের ক্যালেন্ডার, ৫০০ বছর বয়স, ৩০ দিন (প্রথম ১২ মাস), ৫ দিন (১৩তম মাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!