📌 ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলে তিন দিনের সংঘর্ষে ৫২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। লালিবেলা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানেও ৩৩ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন। সংঘাতের কারণে ব্যাংকিং ও যোগাযোগ সেবা বন্ধ রয়েছে।
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলে তিন দিনের তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলামাতা শহর ও আশপাশে সংঘর্ষে নারী, শিশু এবং গবাদিপশু চরানো মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিবিসি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী আলামাতা শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে এবং এখন মেকেলে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেনাবাহিনীর ট্যাংক দেখা গেছে, যা সংঘর্ষের তীব্রতা নির্দেশ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫২ জন বেসামরিক নিহত**: ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলে তিন দিনের সংঘর্ষে ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে নারী, শিশু এবং গবাদিপশু চরানো মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
- 📌 **লালিবেলা পর্যটকদের বিপদ**: ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান লালিবেলায় ৩৩ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন। তারা গোলাগুলি ও ভারী কামানের শব্দ শুনছেন। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ পর্যটক শহর ছাড়তে পারছেন না।
- 📌 **৭০০ জনের বেশি আহত**: মেডিসিন সাঁস ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে টাইগ্রেতে তাদের সহায়তা পাওয়া হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছে।
- 📌 **ব্যাংকিং ও যোগাযোগ বন্ধ**: সংঘর্ষের কারণে টাইগ্রেতে ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন। সরকারি বাহিনী বিমানবন্দর ব্যবহার করছে, ফলে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া চলছে।
- 📌 **ইরিত্রিয়ার জড়িত হওয়ার আশঙ্কা**: ইথিওপিয়া সরকার অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
📰 বিস্তারিত
ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও আঞ্চলিক যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। আলামাতা শহর ও আশপাশে তিন দিনের তীব্র লড়াইয়ে ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শহরের বাজারে একটি হামলায় একসঙ্গে ১২ জন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ভারী বিস্ফোরক ও কামান ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লালিবেলা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানেও পরিস্থিতি বিপজ্জনক। ১৩ শতকে নির্মিত ১৩টি গির্জার জন্য বিখ্যাত এই স্থানটি খ্রিস্টানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। গত সপ্তাহে বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫৩ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের একটি বড় দল রয়েছে। একটি ব্রিটিশ পর্যটক বিবিসিকে জানিয়েছেন, পুরো সপ্তাহজুড়ে তারা গোলাগুলি ও ভারী কামানের শব্দ শুনেছেন। শহরটিতে সেনাবাহিনীর বড় উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংঘর্ষের কারণে টাইগ্রেতে ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন। সরকারি বাহিনী বিমানবন্দর ব্যবহার করছে, ফলে সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ রয়েছে। সংঘর্ষের প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। টাইগ্রে নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল, যা গত সপ্তাহে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়।
সংঘাতের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের হামলার জবাবে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইথিওপিয়া সরকার বলছে, টাইগ্রের বাহিনীই প্রথম হামলা চালায়। সংঘর্ষের কারণে টাইগ্রেতে মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে আসা মানুষজন শহরে আশ্রয় নেওয়ায় আলামাতা এখন জনাকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
"পুরো সপ্তাহজুড়ে আমরা গোলাগুলি ও ভারী কামানের শব্দ শুনছিলাম। শহরটিতে সেনাবাহিনীর বড় উপস্থিতি রয়েছে।"
— ব্রিটিশ পর্যটক, বিবিসিকে দেওয়া উদ্ধৃতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাইগ্রে অঞ্চল (আলামাতা শহর ও লালিবেলা), ইথিওপিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রিটিশ পর্যটক, টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) নেতা, ইথিওপিয়া সরকারের প্রতিনিধি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ জন নিহত, ৭০০ জনের বেশি আহত, ৩৩ জন পর্যটক আটকে, ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটক সরিয়ে নেওয়া, ১৩টি গির্জা (লালিবেলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!