📌 ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও তাইগ্রে বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এক জোট গঠন করে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করেছে। ২০২২ সালের শান্তিচুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা জাগিয়েছে, যেখানে পশ্চিম তাইগ্রে অঞ্চল ও বাস্তুচ্যুত জনগণের দাবি প্রধান বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে
ইথিওপিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতা পৌঁছেছে। দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের সেনাবাহিনী এবং উত্তরাঞ্চলীয় তাইগ্রে অঞ্চলের বিদ্রোহী বাহিনী টিপিএলএফ (তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট) এর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। এই সংঘাতের ফলে ২০২২ সালে সাক্ষরিত শান্তিচুক্তির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দুই বছরব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী** একত্রিত হয়ে "ইথিওপিয়ান পিপলস’ ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল" নামে জোট গঠন করেছে, যার লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
- 📌 **টিপিএলএফ** এবং **আমহারা ফানো ন্যাশনাল মুভমেন্ট** সহ এই জোটের সদস্যরা দাবি করছে, সরকার তাদের অঞ্চল ও বাস্তুচ্যুত জনগণের দাবি মেনে নিচ্ছে না।
- 📌 **পশ্চিম তাইগ্রে অঞ্চল** নিয়ে বিরোধের কারণে ২০২০-২০২২ সালের যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত **লাখো মানুষ** এখনও তাদের বাড়ি ফিরতে পারেনি।
- 📌 **অক্সফোর্ড ইকোনমিকস**ের বিশ্লেষক জারভিন নাইডু বলেছেন, শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের কারণে ইথিওপিয়া আবারও গৃহযুদ্ধের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
- 📌 **২০২২ সালের শান্তিচুক্তি** পশ্চিম তাইগ্রে অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তুচ্যুত জনগণের ফিরে আসার বিষয়ে কোনো সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ইথিওপিয়ার রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হলো **তাইগ্রে অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন** এবং **পশ্চিম তাইগ্রে অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ** নিয়ে বিরোধ। ২০২০ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় বাহিনী, ইরিত্রিয়ার সেনারা এবং আমহারা অঞ্চলের যোদ্ধারা তাইগ্রে বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এই সংঘাতে **লাখো মানুষ নিহত** এবং **লাখো বাস্তুচ্যুত** হয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটায়, কিন্তু মূল বিরোধের সমাধান হয়নি।
তাইগ্রে অঞ্চলের জনসংখ্যা মোট ইথিওপিয়ার জনসংখ্যার **৬ শতাংশের কম**। তবে এই অঞ্চলটি ১৯৭০-এর দশকে ইথিওপিয়ার সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে এবং পরবর্তীতে দেশের শাসন জোটের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর টিপিএলএফের প্রভাব ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হয়ে পড়ে এবং ২০২০ সালে যুদ্ধ শুরু হয়।
শান্তিচুক্তির পরও **পশ্চিম তাইগ্রে অঞ্চল** নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। আমহারা অঞ্চলের যোদ্ধারা ২০২০-২০২২ সালের যুদ্ধে এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং **লাখো তাইগ্রে জনগণ** বাস্তুচ্যুত হয়। তাইগ্রে নেতারা এই অঞ্চল ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, কিন্তু আমহারা জনগণ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করছে। তারা বলছেন, ১৯৯২ সালে ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের সময় পশ্চিম তাইগ্রেকে তাইগ্রে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল না।
চলতি মাসে গঠিত নতুন জোটের মধ্যে রয়েছে **টিপিএলএফ, আমহারা ফানো ন্যাশনাল মুভমেন্ট, ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ)** এবং ইথিওপিয়ার সোমালি, আফার এবং বেনিশানগুল-গুমুজ অঞ্চলের গোষ্ঠী। এই জোটের লক্ষ্য হলো আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। তবে তাদের মধ্যে কিছু গোষ্ঠীর ইতিহাস ও লক্ষ্য ভিন্ন হলেও, তারা একত্রিত হয়েছে ইথিওপিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর জন্য।
"যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রিটোরিয়া চুক্তি টিকে থাকলেও উভয় পক্ষই ধারাবাহিকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। পশ্চিম তাইগ্রে নিয়ে ক্ষোভ, বাইরের বাহিনীর উপস্থিতি এবং অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন নিয়ে তাইগ্রেয়ের মানুষের অসন্তোষ এখনো রয়ে গেছে।"
— অক্সফোর্ড ইকোনমিকস আফ্রিকার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক জারভিন নাইডু
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইথিওপিয়া (তাইগ্রে অঞ্চল, পশ্চিম তাইগ্রে, আমহারা অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, জারভিন নাইডু (অক্সফোর্ড ইকোনমিকস), তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) নেতারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ শতাংশ (তাইগ্রে জনসংখ্যার অনুপাত), লাখো (নিহত ও বাস্তুচ্যুত জনগণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!