📌 ইথিওপিয়া সরকার এখনো আক্রমণাত্মক ভাষায় বলছে যে এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এরিট্রিয়া, সুদান ও মিশর। এই তিন দেশই দাবিকে অস্বীকার করেছে। ইথিওপিয়ার সামরিক প্রধান জুলা বলেছেন, এই তিন দেশই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। এছাড়াও, ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে সরকার এখনো বিদেশী ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করছে
ইথিওপিয়ার সামরিক প্রধান বিরহানু জুলা আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলিকে দোষারোপ করে বলেছেন, এই তিন দেশই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। এরিট্রিয়া, সুদান ও মিশরকে ইথিওপিয়া সরকারের এই অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে পুনরায় সংঘাতের প্রসার ঘটার সাথে সাথে এই অভিযোগগুলো আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সংকটের পটভূমিতে ইথিওপিয়া সরকারের এই দাবি বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইথিওপিয়ার সামরিক প্রধান বিরহানু জুলা বলেছেন, এরিট্রিয়া, সুদান ও মিশর ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। তিনি এই তিন দেশকে ইথিওপিয়ার “ইতিহাস ও বর্তমান শত্রু” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 মিশরের বৈদেশিক মন্ত্রণালয় ও সামরিক কর্মকর্তারা ইথিওপিয়ার দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। মিশরের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাদের জাকি বলেছেন, মিশর “রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, একত্ব ও ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার পূর্ণ সম্মান” করে এবং অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
- 📌 মিশরের সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সামির ফারাগ বলেছেন, মিশরের নীতির মধ্যে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো উপায় নেই। তিনি ইথিওপিয়ার দাবিকে “ভুল” বলে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 সুদানও ইথিওপিয়ার দাবিকে “অস্বীকারযোগ্য” বলে উল্লেখ করে নিজের দাবি তুলে ধরেছে। তারা ইথিওপিয়াকে অভিযোগ করেছে যে, ইথিওপিয়া সুদানের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইথিওপিয়া এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।
- 📌 ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকটের পটভূমিতে এই দাবিগুলো তুলে ধরার পিছনে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইথিওপিয়া সরকার নিজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
- 📌 ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সংঘাতের প্রসার ঘটেছে টিগ্রে, আমহারা ও আফার অঞ্চলে।
📰 বিস্তারিত
ইথিওপিয়ার সামরিক প্রধান বিরহানু জুলা বলেছেন, এরিট্রিয়া, সুদান ও মিশর এই তিন দেশই ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। তিনি বলেছেন, এরিট্রিয়া এই তিন দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ইথিওপিয়ার এই অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিশর, সুদান ও এরিট্রিয়া দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
মিশরের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাদের জাকি আল জাজিরার সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, মিশরের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হলো “রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, একত্ব ও ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার পূর্ণ সম্মান” এবং অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা। তিনি আরও বলেছেন, মিশর “আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মাবলী ও জাতিসংঘের চার্টার অনুসরণ করে” এবং যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কাজ করা থেকে বিরত থাকবে।
মিশরের সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সামির ফারাগও আল জাজিরার সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, মিশরের নীতির মধ্যে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো উপায় নেই। তিনি ইথিওপিয়ার দাবিকে “ভুল” বলে উল্লেখ করেছেন। সুদানও ইথিওপিয়ার দাবিকে “অস্বীকারযোগ্য” বলে উল্লেখ করে নিজের দাবি তুলে ধরেছে। তারা ইথিওপিয়াকে অভিযোগ করেছে যে, ইথিওপিয়া সুদানের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইথিওপিয়া এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।
ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকটের পটভূমিতে এই দাবিগুলো তুলে ধরার পিছনে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইথিওপিয়া সরকার নিজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মিশরের সংসদের আফ্রিকা বিষয়ক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান মোহামেড সেলিম বলেছেন, ইথিওপিয়া সরকারের এই দাবিগুলো হলো একটি প্রচেষ্টা, যাতে তারা নিজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে পারে এবং একটি বহিরাগত শত্রু সৃষ্টি করে অভ্যন্তরীণ একতা বজায় রাখতে পারে।
আল-আহরাম সেন্টার ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের আফ্রিকা প্রোগ্রামের পরিচালক আমানি আল-তাওয়িল বলেছেন, ইথিওপিয়ার এই দাবিগুলো হলো একটি বোঝাপড়ার প্রচেষ্টা। তিনি বলেছেন, মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে জিআরইডি (গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম) বিষয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন মিশর এই সময়ে ইথিওপিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করবে, যখন এই দুই দেশের মধ্যে জিআরইডি বিষয়ে বিবাদ ২০১১ সাল থেকে চলছে।
"ইথিওপিয়ার ‘ইতিহাস ও বর্তমান শত্রু’"
"রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, একত্ব ও ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার পূর্ণ সম্মান এবং অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না"
"মিশর ‘আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মাবলী ও জাতিসংঘের চার্টার অনুসরণ করে’ এবং যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কাজ করা থেকে বিরত থাকবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইথিওপিয়া (টিগ্রে, আমহারা ও আফার অঞ্চল), মিশর, সুদান, এরিট্রিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিরহানু জুলা (ইথিওপিয়ার সামরিক প্রধান), নাদের জাকি (মিশর বৈদেশিক মন্ত্রণালয় মুখপাত্র), মেজর জেনারেল সামির ফারাগ (মিশর সামরিক কর্মকর্তা), মোহামেড সেলিম (মিশরের সংসদের আফ্রিকা বিষয়ক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান), আমানি আল-তাওয়িল (আল-আহরাম সেন্টার ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের আফ্রিকা প্রোগ্রামের পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি দেশ (এরিট্রিয়া, সুদান, মিশর), ৩টি অঞ্চল (টিগ্রে, আমহারা, আফার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!