📌 ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বারবার হামলায় পূর্ব জেরুজালেমের কালান্দিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কর্মীদের উচ্ছেদ ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ করেছে ইউনরওয়া। বছরে ৩৪০ জন ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিচ্ছিল কেন্দ্রটি।
পূর্ব জেরুজালেমের শেষ ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কালান্দিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বারবার হামলা ও সরঞ্জাম লুটের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সেনাবাহিনী সরে গেলেও আকাশে ড্রোন মোতায়েন রেখে কেন্দ্রটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ইউনরওয়া জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রায় ৪০ কর্মীকে উচ্ছেদ করেছে এবং সরঞ্জাম চুরির চেষ্টাও চালিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পূর্ব জেরুজালেমের কালান্দিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ছয়বার হামলা হয়েছে চলতি বছরে
- 📌 কেন্দ্রটির পরিচালককে উচ্ছেদ করে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইটামার বেন-গভির নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন
- 📌 বছরে প্রায় ৩৪০ জন ফিলিস্তিনি শরণার্থী ভোকেশনাল ডিপ্লোমা অর্জন করতেন কেন্দ্রটিতে
- 📌 ইউনরওয়ার দাবি, কেন্দ্রটির জমির উপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই
- 📌 কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫২ সালে, যেখানে ১৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কালান্দিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সরে গেলেও কেন্দ্রটির চারপাশে ড্রোন মোতায়েন রাখা হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রধান ফটক দিয়ে দেখা যায় ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন: ভাঙা কাচ, ধাতব অবশেষ এবং পোড়া মাটি। আল জাজিরার কাছে থাকা ভিডিওতে দেখা যায় শ্রেণিকক্ষগুলো তছনছ, দরজা ভাঙা এবং কর্মশালাগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ইউনরওয়া জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রায় ৪০ কর্মীকে উচ্ছেদ করেছে এবং সরঞ্জাম চুরির চেষ্টাও চালিয়েছে। তারা জানায়, "প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সরঞ্জাম চুরির চেষ্টা করা হয়েছে।"
ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইটামার বেন-গভির মঙ্গলবার কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং বলেন, "এখানে ইউনরওয়ার পরিচালক বসতেন, এখন আমি এখানে বসেছি।" ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছে, কেন্দ্রটির জমি জেরুজালেম পৌরসভা গ্রহণ করে একটি শিক্ষা কমপ্লেক্স নির্মাণ করবে। তবে কেন্দ্রটি ইতোমধ্যেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছিল।
প্রতি বছর প্রায় ৩৪০ জন ফিলিস্তিনি শরণার্থী কেন্দ্র থেকে ভোকেশনাল ডিপ্লোমা অর্জন করেন। দুই বছরের প্রশিক্ষণ শেষে তারা ১৬টি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হন, যার মধ্যে রয়েছে কাঠমিস্ত্রি, টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, কেন্দ্রটির ৯০ শতাংশ স্নাতক কর্মসংস্থান পান, যা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য বিরাট অর্জন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় তিনজনের মধ্যে একজন বেকার থাকেন।
৭৩ বছর বয়সী ইউসুফ আবু লাতিফেহ কেন্দ্রটির একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তিনি কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে বসবাস করেন। তার বাড়িতে তিনি তার স্থাপত্য ড্রয়িংয়ের ডিপ্লোমা দেখান, যা ১৯৭৪ সালে মুদ্রিত হয়েছিল। তিনি বলেন, "যদি কেন্দ্রটি না থাকত, আমি আমার পড়াশোনা শেষ করতে পারতাম না। আমার বাবা জাতিসংঘে কাজ করতেন, তার সামান্য বেতনে বিশাল পরিবার চালানোই কঠিন ছিল, তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা ভাবাও সম্ভব ছিল না। তাই কেন্দ্রটির কাছে আমি অনেক ঋণী।" তিনি কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর শুনেছেন, তবে এটা ঘটবে বলে বিশ্বাস করেননি। তিনি বলেন, "এটা খুবই বেদনাদায়ক যে অনেক মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।"
"প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সরঞ্জাম চুরির চেষ্টা করা হয়েছে।"
"এখানে ইউনরওয়ার পরিচালক বসতেন, এখন আমি এখানে বসেছি।"
"যদি কেন্দ্রটি না থাকত, আমি আমার পড়াশোনা শেষ করতে পারতাম না। আমার বাবা জাতিসংঘে কাজ করতেন, তার সামান্য বেতনে বিশাল পরিবার চালানোই কঠিন ছিল, তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা ভাবাও সম্ভব ছিল না। তাই কেন্দ্রটির কাছে আমি অনেক ঋণী।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পূর্ব জেরুজালেমের কালান্দিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ইটামার বেন-গভির (ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী), ইউসুফ আবু লাতিফেহ (প্রাক্তন শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ জন কর্মী উচ্ছেদ, ৩৪০ জন শিক্ষার্থী প্রতি বছর, ১৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থান হার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!