📌 ভারতের দিল্লিতে বাসকারী ৫৩ বছর বয়সী দরজিবাজি কর্মী কামতা প্রসাদকে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিবিড় সংশোধনের ফলে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে তিনি একজন। বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে তিনি সরকারি দপ্তর ঘুরছেন
ভারতের দিল্লিতে বাসকারী ৫৩ বছর বয়সী দরজিবাজি কর্মী কামতা প্রসাদকে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে দৈনিক ২৫০ রুপি (প্রায় ২ ডলার ৬৩ সেন্ট) মজুরি নিয়ে জীবনযাপন করছেন তিনি। কিন্তু এখন তার জীবনের প্রধান উদ্বেগ হলো ‘বেঁচে থাকার’ প্রমাণ দিতে সরকারি দপ্তর থেকে দপ্তরে ছুটে বেড়ানো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫৩ বছর বয়সী দরজিবাজি কর্মী কামতা প্রসাদ**কে ভারতের ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন।
- 📌 **১৩ কোটি মানুষের নাম** বাদ পড়েছে নির্বাচন কমিশনের নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায়, যার মধ্যে কামতা প্রসাদও একজন।
- 📌 **দিল্লির ৪২ লাখ ভোটার**কে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কামতার এলাকায় ৯ হাজার ভোটারের নাম সংশোধিত তালিকায় বাদ পড়েছে।
- 📌 **কামতার পরিবারে চার সদস্য**, তিনি দৈনিক ২৫০ রুপি মজুরি নিয়ে পরিবার চালাচ্ছেন, কিন্তু এখন ‘বেঁচে থাকার’ প্রমাণ দিতে সরকারি দপ্তর ঘুরতে হচ্ছে।
- 📌 **প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে** ভারতে তুমুল আন্দোলন চলছে, বিরোধী দল ও তরুণরা বিক্ষোভ করছে।
- 📌 **ভোটার তালিকা সংশোধনে কারসাজি করার অভিযোগ** উঠেছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির সুবিধা করার জন্য করা হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় দিল্লির দরজিবাজি কর্মী কামতা প্রসাদকে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বেঁচে আছেন, কিন্তু তার নাম তালিকায় নেই। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কামতা বলেছেন, ‘খবরটি শুনে বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। এর পর থেকে আমি যে বেঁচে আছি, সেটা প্রমাণ করতে সব জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছি।’
ভারতে গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় কামতার নাম ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি দিল্লির বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাচ্ছেন ‘বেঁচে থাকার’ প্রমাণ দিতে। তার পরিবারে চার সদস্য রয়েছে, কিন্তু তিনি দৈনিক মাত্র ২৫০ রুপি মজুরি নিয়ে পরিবার চালাচ্ছেন। এখন তার জীবনের প্রধান উদ্বেগ হলো ভোটার তালিকায় নাম ফিরিয়ে আনা এবং বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে সরকারি নথিপত্র সংগ্রহ করা।
এই ঘটনায় ভারতজুড়ে বিরোধী দল ও তরুণরা বিক্ষোভ করছে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনে কারসাজি করেছে যাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি নির্বাচনে সুবিধা পায়। কমিশন ও বিজেপি উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কামতার এলাকায় মোট ভোটার প্রায় ৯ হাজার। তাদের মধ্যে হাজার দুয়েকের নাম সংশোধিত তালিকায় বাদ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় থাকেন না, অন্যত্র চলে গেছেন, মারা গেছেন বা অন্য জায়গায় ভোটার হয়েছেন—এমন নানা কারণ দেখিয়ে এসব ভোটারের নাম সংশোধিত তালিকায় বাদ দেওয়া হয়েছে। কামতা প্রসাদ একমাত্র ব্যক্তি যাঁর নাম ‘মৃত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
"খবরটি শুনে বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। এর পর থেকে আমি যে বেঁচে আছি, সেটা প্রমাণ করতে সব জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামতা প্রসাদ (৫৩ বছর), জ্ঞানেশ কুমার (প্রধান নির্বাচন কমিশনার), নরেন্দ্র মোদি (প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩ বছর (বয়স), ১৩ কোটি (বাদ পড়া ভোটার), ২৫০ রুপি (দৈনিক মজুরি), ৪২ লাখ (দিল্লির বাদ পড়া ভোটার), ৯ হাজার (কামতার এলাকার ভোটার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!