📌 দিল্লির একটি পুলিশ কর্মকর্তা যৌন হেনস্তার অভিযোগে নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদোন্নতি পেয়েছিলেন, কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি লড়াই চলছে
দিল্লির পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তার অভিযোগের পর দিল্লি সরকার তার পদোন্নতির নির্দেশ আপাতত স্থগিত রেখেছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ছিল বিক্ষোভকারীদের তীব্র প্রতিবাদ এবং আইনজীবীদের তদন্তের দাবি। গত ২ অক্টোবর থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে, যেখানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়েছে। সেই বিক্ষোভের সময় নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ উঠে আসার পর সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিল্লির পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভগতের পদোন্নতি স্থগিত করেছে সরকার, যিনি নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগে জড়িত ছিলেন।
- 📌 ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে বিবেক ভগতকে সহকারী কমিশনার থেকে ডেপুটি কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ ২৫ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়নি।
- 📌 নারী সাংবাদিকরা থানায় এফআইআর দাখিলের চেষ্টা করলেও পুলিশ তাদেরকে জানায়, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পর এফআইআর করা হবে।
- 📌 সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও রত্না সিং অভিযোগ করেন, পুলিশ অভিযোগকারী নারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করে তাদের আটক ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে।
- 📌 ১০ অক্টোবর থেকে সিজেপি ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলন শুরু করবে, যেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের বিক্ষোভ হবে।
📰 বিস্তারিত
গত ২ অক্টোবর থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়েছে। গত শনিবার বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া তিন নারী সাংবাদিক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত হলেন দিল্লির পুলিশের সহকারী কমিশনার বিবেক ভগত।
গত সোমবার দিল্লি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিবেক ভগতসহ ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিবেক ভগত সহকারী কমিশনার পদ থেকে ডেপুটি কমিশনার পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তবে এই পদোন্নতির নির্দেশ ২৫ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ অক্টোবর জারি করা হয়নি।
অভিযোগ করা হয়, নারী সাংবাদিকরা থানায় এফআইআর দাখিলের চেষ্টা করলেও পুলিশ তাদেরকে জানায়, অভিযোগের সত্যতা অপরাধ শাখা তদন্ত করে দেখবে। আইন অনুযায়ী, নারীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আসার সাথে সাথে এফআইআর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পুলিশ এই নিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
গভীর রাতে (মঙ্গলবার ভোরে) দিল্লি সরকারের তরফ থেকে ‘এক্স’ মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়, বিবেক ভগতের পদোন্নতির নির্দেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি বার্তায় বলা হয়, ১২ জন পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্তটি বিক্ষোভের ঘটনার অনেক আগে নেওয়া হয়েছিল। বিবেক ভগত নিজের ইচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদোন্নয়নে রাজি নন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা যায়। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ আনা এক নারী সাংবাদিককে আটক করা হয়, পরে মুক্তি দেওয়া হয়। সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের অভিযোগ, আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযোগকারী নারী সাংবাদিকরা পুলিশের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পুলিশ তাদের এড়িয়ে যাচ্ছে। সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাতকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে যান সৌরভ, কিন্তু এফআইআর দাখিল হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
সিজেপি নেতা রত্না সিং বলেন, পুলিশ অভিযোগকারী নারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করে তাদের আটক ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পুলিশের এই আচরণ অত্যন্ত বিরক্তিকর। নারীদের থানার বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
সিজেপি জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে তারা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলন শুরু করবে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের যেখানে বাধা দেবে, সেটাই হয়ে উঠবে ‘যন্তর মন্তর ২.০’। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও পুলিশের এই আচরণের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মুখ খোলা উচিত। তবে সবার আগে উচিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা।
"পুলিশ তো এফআইআর নিচ্ছে না, উল্টো অভিযোগকারী নারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করছে। তাঁদের আটক করছে। মুঠোফোন বাজেয়াপ্ত করতে চাইছে। এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিবেক ভগত (পুলিশ কর্মকর্তা), সৌরভ দাস, রত্না সিং, নারী সাংবাদিকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জন (পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তা), ১২ জন (পদোন্নতি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তা), ২৫ সেপ্টেম্বর (সিদ্ধান্তের তারিখ), ৫ অক্টোবর (অনুষ্ঠানিক জারি তারিখ), ১০ অক্টোবর (আন্দোলনের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!