📌 পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ২৩ জন যুবককে ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর থানার পুলিশ আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে চারজনকে মুক্তি না দিলে সাবিরের মতো যুবকদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে জীবনযাত্রার সংকট দেখা দিচ্ছে
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ২৩ জন যুবককে ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের বিলাসপুর থানার পুলিশ আটক করে রায়পুরের ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে চারজনকে মুক্তি না দেওয়া হলে সাবিরের মতো যুবকদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে জীবনযাত্রার সংকট দেখা দিচ্ছে। মুস্তাকিম শেখের মতো যুবকদের প্রশ্ন উঠেছে যে, যদি তিনি ভারতীয় নাগরিক হন, তাহলে তার ছোট ভাই সাবির কীভাবে বাংলাদেশি হয়ে যেতে পারেন?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ জন যুবক আটক: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ২৩ জন যুবককে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর থানার পুলিশ আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
- 📌 ১৪ দিনের বন্দি জীবন: ১৪ দিনের মধ্যে ১৯ জনকে মুক্তি দেওয়া হলেও চারজনকে আটকে রাখা হয়।
- 📌 ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া: ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) কারণে সাবিরের মতো যুবকদের নাম বাদ পড়ায় তাদের জীবনযাত্রায় বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
- 📌 পাসপোর্ট ও পিএইচডি আবেদন আটকে: এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে অনেকের পাসপোর্ট নবায়ন ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
- 📌 মুর্শিদাবাদে সর্বোচ্চ পুনর্বিবেচনা: ২৭ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদ জেলায় ১১ লাখ ২১ হাজার ২০৫ জনের নাম পুনর্বিবেচনার অধীনে রাখা হয়েছিল, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ।
📰 বিস্তারিত
মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জের বাসিন্দা মুস্তাকিম শেখের পরিবারে ছয় ভাই-বোনের মধ্যে পাঁচজনের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু ছোট ভাই সাবিরের নাম নেই। মুস্তাকিম শেখের পরিবার ছত্তিশগড়ে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছে। প্রথমে তিনি কাপড় বিক্রি করতেন, পরে অ্যালুমিনিয়ামের বাসনাদি বিক্রি শুরু করেন। সাবিরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিলাসপুর রেলস্টেশনের পাশের একটি কলোনিতে একসঙ্গে থাকতেন।
৪ সেপ্টেম্বর রাতে সিরগিতি থানার পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের বাড়িতে এসে আটক করে। মুস্তাকিম বলেন, ‘পরদিন থানায় গিয়ে আমরা সারা দিন অপেক্ষা করলাম। কেউ আমাদের দিকে ফিরেও তাকাল না। এরপর আমাদের চলে যেতে বলা হলো।’ ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ আবারও এসে তাদের নাম ও ফোন নম্বর লিখে নিয়ে যায়। পরদিন সন্ধ্যায় তাদের বাস থেকে তুলে রায়পুরের ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিটেনশন সেন্টারে ১৪ দিনের বন্দি জীবনে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ হয়নি। মুস্তাকিম বলেন, ‘আমাদের গায়ে হাত তোলা বা শারীরিক অত্যাচার করা হয়নি, কিন্তু দিনের পর দিন ভেতরে আটকে রাখাই ছিল এক বড় শাস্তি।’ ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯ জনকে মুক্তি দেওয়া হলেও চারজনকে আটকে রাখা হয়। তাদের মধ্যে সাবির, শফিকুল ও নাসিরউদ্দিনসহ অন্য একজন।
মুস্তাকিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘যেখানে আমরা থাকতাম, আমাদের সামান্য যা সম্বল ছিল সবই সেখানে পড়ে রয়েছে। আমাদের বিলাসপুরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা দিনমজুর, বাড়ি বাড়ি ঘুরে জিনিস বিক্রি করে খাই। জীবিকার তাগিদে আমাদের কোনো না কোনো রাজ্যে যেতেই হবে।’
মুর্শিদাবাদের সুতির সাহাবাদের বাসিন্দা রমজান শেখ তাঁর ভাই এজাজুল শেখকে ছাড়াতে বিলাসপুরে যান। এজাজুল বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, রক্তের ভাই প্রমাণের জন্য একটি বংশতালিকা দাখিল করতে। অবশেষে গত শুক্রবার আমরা ছাড়া পেয়েছি।’
"যেখানে আমরা থাকতাম, আমাদের সামান্য যা সম্বল ছিল সবই সেখানে পড়ে রয়েছে। আমাদের বিলাসপুরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুর্শিদাবাদ (পশ্চিমবঙ্গ), বিলাসপুর ও রায়পুর (ছত্তিশগড়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুস্তাকিম শেখ, সাবির, শফিকুল, নাসিরউদ্দিন, রমজান শেখ, এজাজুল শেখ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ জন আটক, ১৪ দিন বন্দি, ১৯ জন মুক্ত, ৪ জন আটকে, ১১ লাখ ২১ হাজার ২০৫ জন পুনর্বিবেচনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!