📌 দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে পুলিশ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার নেতা জন ব্রিটাসও তাদের মধ্যে ছিলেন। আদালত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আটক না করার নির্দেশ দিয়েছিলো, কিন্তু পুলিশ তা মানতে অস্বীকার করেছে
দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আটক না করার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে পুলিশ আবারও ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভকারীরা কনট প্লেস এলাকায় জড়ো হলে রোববার (১১ অক্টোবর) পুলিশ তাদের আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার নেতা জন ব্রিটাসও রয়েছেন। এদিন প্রায় ১০০ জন বিক্ষোভকারীকে দুইটি বাসে তুলে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সন্দেহে একটি বার্গারের দোকান থেকে একজন ব্যক্তিকে টেনে বের করা হয়। সেই ব্যক্তির একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পুলিশ সদস্যদের বলছেন যে তিনি শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পুলিশের সঙ্গে যেতে চান না। পরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এছাড়াও আর কে আশ্রম এলাকা থেকে অন্তত চারজন সাংবাদিককে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে পুলিশ ১১ অক্টোবর ১০০-এরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে
- 📌 আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার নেতা জন ব্রিটাসও রয়েছেন
- 📌 পুলিশ একটি বার্গারের দোকান থেকে একজন ব্যক্তিকে টেনে বের করে, পরে তাকে ছেড়ে দেয়
- 📌 আর কে আশ্রম এলাকা থেকে চারজন সাংবাদিককে আটক করা হয়, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়
- 📌 শনিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে
- 📌 পুলিশের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জন ব্রিটাস বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে
- 📌 বিক্ষোভের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে ২০টির বেশি এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ
📰 বিস্তারিত
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে পুলিশের এই আচরণের সমালোচনা করে জন ব্রিটাস বলেছেন, পুলিশের এ আচরণ মৌলিক নিয়মকানুনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা মানুষের ওপর নির্মম শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এই আন্দোলন যত কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করা হবে, তা ততই ব্যাপক আকার ধারণ করবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন এবং এ ধরনের পদক্ষেপ আন্দোলনকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ২০টির বেশি এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। রোববার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগেও ২০টির বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা নির্দেশ দেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ ছাড়া আটক করা যাবে না। শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগে পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, গণহারে আটকের অভিযোগ, মানুষের চলাচলে বাধা এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধের বিষয়ে করা আবেদনের জরুরি শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন আদালত।
"পুলিশের এ আচরণ মৌলিক নিয়মকানুনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা মানুষের ওপর নির্মম শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই আন্দোলন যত কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করা হবে, তা ততই ব্যাপক আকার ধারণ করবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জন ব্রিটাস, জ্ঞানেশ কুমার, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি ভি মোহনা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ জন বিক্ষোভকারী, ২০টি এফআইআর, ১১ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!