📌 ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লিকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে ফেলেছে 'যন্তর মন্তর ২.০' আন্দোলন রোধে। পুলিশ ও প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যেখানে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সরকারের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়েছে
ভারতের রাজধানী দিল্লিকে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। 'যন্তর মন্তর ২.০' আন্দোলন রোধে ট্রেন, মেট্রো ও যানবাহন চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড স্থাপন করেছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সতর্ক করছে। আজ শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ হটাও অভিযানে কেউ যাতে অংশ নেয় না, সে জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল ১০ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছে।
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বলেছেন, মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না।
- 📌 ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকসহ নেতারা বলেছেন, 'আমরা প্রস্তুত, আপনার মানসিক বিকারগ্রস্ত আচরণে আমরা পিছু হটব না।'
- 📌 দিল্লি পুলিশের ২০ হাজার কর্মী ও আধা সামরিক বাহিনীর ২৩ হাজার সদস্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
- 📌 সিজেপি কর্মীদের আটক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে 'যন্তর মন্তর ২.০' আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে আসার সম্ভাবনা কমেছে।
- 📌 দিল্লির বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামসহ ১০টি স্টেডিয়ামে আন্দোলনকারীদের আটক রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
- 📌 যন্তর মন্তর এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে দিল্লি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর সতর্কতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না। আন্দোলন রুখতে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা মানা যায় না।" তিনি আরও বলেছেন, "টানা ১০ ঘণ্টা রেলস্টেশনে ট্রেন আসা-যাওয়া বন্ধ রাখা যায় না।"
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকসহ নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ১০ অক্টোবরের 'যন্তর মন্তর ২.০' আন্দোলনে অংশ নেবেন। জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও এই আন্দোলনে অংশ নেবেন। তিনি বলেছেন, "এটা গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই। ১০ তারিখে কেউ দিল্লি আসতে ভুলবেন না।" ধ্রুব বলেছেন, "আপনি আমাদের জেলে ঢোকান বা গুলি করুন, আমরা প্রস্তুত। আপনার মানসিক বিকারগ্রস্ত আচরণে আমরা পিছু হটব না।"
সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপক বলেছেন, "আমরা যন্তর মন্তর অভিযান করবই, যা হয় হোক।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁদের অন্যতম মুখপাত্র দীপক বালিয়ান ও তাঁর ভাইকে রাজস্থান পুলিশ মারধর করেছে এবং আটকে রেখেছে।
দিল্লি পুলিশের ২০ হাজার কর্মী ছাড়াও আধা সামরিক বাহিনীর ২৩ হাজার সদস্য এবং পাঁচ কোম্পানি সশস্ত্র নারী পুলিশকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকে সিআরপিএফ জওয়ানদের দিল্লিতে উড়িয়ে আনা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যেতে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে কয়েকশ বাস রাজধানীতে আনা হয়েছে।
"আমরা যন্তর মন্তর অভিযান করবই, যা হয় হোক। আপনি আমাদের জেলে ঢোকান বা গুলি করুন, আমরা প্রস্তুত। আপনার মানসিক বিকারগ্রস্ত আচরণে আমরা পিছু হটব না।"
সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, বিভিন্ন রাজ্যে হাজার হাজার জেন-জি তরুণকে আটক করা হয়েছে। তিনি এক্সে লিখেছেন, "আটক করা হয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সিজেপি সমর্থকদের।" বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নানা জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের আটক করে ভ্যানে করে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, কেন তাঁদের আটক করা হচ্ছে, এ বিষয়ে পুলিশ কিছুই জানাচ্ছে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অভিজিৎ দিপক, ধ্রুব রাঠি, নরেন্দ্র মোদি, সূর্যকান্তর (প্রধান বিচারপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ১০ ঘণ্টা ট্রেন বন্ধ, ২০ হাজার পুলিশ, ২৩ হাজার আধা সামরিক বাহিনী সদস্য, ১০টি স্টেডিয়ামে আটক প্রস্তুতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!