📌 ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মসজিদটিকে 'অননুমোদিত স্থাপনা' ঘোষণা করে ছয় দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ সৃষ্টি করেছে
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদের অবৈধ উচ্ছেদের প্রক্রিয়া তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ মসজিদটিকে 'অননুমোদিত স্থাপনা' হিসেবে ঘোষণা করে ছয় দিনের মধ্যে এর উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও) রেসকোর্স মসজিদটিকে 'অননুমোদিত স্থাপনা' ঘোষণা করে ছয় দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে।
- 📌 ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যার ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
- 📌 ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত তালিকায় মসজিদের নাম উল্লেখ থাকলেও, কর্তৃপক্ষ এটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
- 📌 জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সংগঠনের প্রতিনিধিদল সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে মসজিদ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
- 📌 মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন দাবি করেছেন, দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং তাকে আদালতে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না।
- 📌 ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেওরায় বাসভবন সংলগ্ন এলাকার বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
📰 বিস্তারিত
ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও) গত ১৯ অক্টোবর রেসকোর্স মসজিদটিকে 'অননুমোদিত স্থাপনা' হিসেবে চিহ্নিত করে ছয় দিনের মধ্যে এর উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। তবে এই দাবির বিপরীতে, নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে মসজিদটি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত তালিকায়ও মসজিদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন করার ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন জানিয়েছেন, দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং তাকে আদালতে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। তিনি বলেছেন, এই অবস্থায় মসজিদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে চরম অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সংগঠনের প্রতিনিধিদল সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে মসজিদ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, কিরেন রিজিজু তাদের আবেদন শুনেছেন এবং বিষয়টি সমাধানে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
"মসজিদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা এবং এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় আমাদের চরম উদ্বেগ রয়েছে। আমরা মন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য।"
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন রেসকোর্স রোড এলাকার বস্তিবাসীদেরও উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার দিল্লি হাইকোর্ট এই উচ্ছেদের অনুমতি দিয়ে ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেওরায় তাদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন
- 📌 সংগঠন: জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর, ৭ অক্টোবর, ৪৫ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!