📌 ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে ডি বি কুপার নামে অজ্ঞাত ব্যক্তি ২ লাখ ডলার ও চারটি প্যারাস্যুট চুরি করে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন। বিমান থেকে নেমে যাওয়ার পর তার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি, ঘটনার রহস্য এখনও অবধি সমাধান হয়নি
১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি অদ্ভুত ছিনতাই ঘটনা ঘটে যা আজও রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দর থেকে সিয়াটলের উদ্দেশে উড়োজাহাজে বসে থাকা একজন ব্যক্তি বিমান ছিনতাই করে ২ লাখ ডলার ও চারটি প্যারাস্যুট চুরি করে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন। বিমান থেকে নেমে যাওয়ার পর তার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি, ঘটনার নাম দেয়া হয় ডি বি কুপার ছিনতাই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড থেকে সিয়াটল যাত্রী বিমান ৩০৫ নম্বর নর্থওয়েস্ট ওরিয়েন্ট এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭২৭-এ ছিনতাইকারীরা ২ লাখ ডলার ও চারটি প্যারাস্যুট চুরি করে নেন।
- 📌 ছিনতাইকারী নিজেকে ড্যান কুপার নামে পরিচয় দেন, কিন্তু পরে সংবাদমাধ্যমে ‘ডি বি কুপার’ নামে পরিচিত হন।
- 📌 বিমান থেকে নেমে যাওয়ার পর ছিনতাইকারী বা তার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি, ঘটনার রহস্য এখনও অবধি সমাধান হয়নি।
- 📌 ছিনতাইকারীর চেহারা সম্পর্কে বিমানবালাদের বর্ণনা ছিল: মধ্যবয়সী, শান্ত স্বভাব, ব্যবসায়ীদের মতো পোশাক পরা, বোরবন হুইস্কি ও সোডা পান করতেন।
- 📌 এফবিআই তদন্তের নাম দিয়েছিল ‘নরজ্যাক’ (নর্থওয়েস্ট হাইজ্যাকিং) এবং ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে গেলেও ছিনতাইকারী বা তার পরিচয় জানা যায়নি।
📰 বিস্তারিত
১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দর থেকে সিয়াটলের উদ্দেশে উড়োজাহাজে বসে থাকা একজন ব্যক্তি বিমান ছিনতাই করে ২ লাখ ডলার ও চারটি প্যারাস্যুট চুরি করে নেন। ছিনতাইকারী নিজেকে ড্যান কুপার নামে পরিচয় দেন। বিমানবালাদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি মধ্যবয়সী, শান্ত স্বভাবের এবং ব্যবসায়ীদের মতো পোশাক পরতেন। বিমান আকাশে উঠার কিছুক্ষণ পর ছিনতাইকারী একটি চিরকুট তুলে দেন, যেখানে লেখা ছিল তাঁর ব্রিফকেসে বোমা আছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর দাবি পূরণ না হলে বিমান উড়িয়ে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি ছিল ২ লাখ ডলার (সব কটি ২০ ডলারের নোটে) এবং চারটি প্যারাস্যুট।
কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে শুরু করে। সিয়াটলে বিমান অবতরণের পর ৩৬ জন যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিনিময়ে ছিনতাইকারীকে ২ লাখ ডলার ও চারটি প্যারাস্যুট তুলে দেওয়া হয়। তবে বিমানকর্মীদের কয়েকজনকে ছিনতাইকারী রেখে দেন। বিমানকে আবার আকাশে ওড়ানোর নির্দেশ দেন এবং গন্তব্য মেক্সিকো সিটি নির্ধারণ করেন। ছিনতাইকারী আরও কিছু শর্ত দেন: উড়োজাহাজকে কম উচ্চতায় উড়তে হবে, নির্দিষ্ট গতিতে রাখতে হবে এবং পেছনের সিঁড়ি নামানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
রাত আটটার কিছু পরে, সিয়াটল ও নেভাদার রেনোর মাঝামাঝি কোথাও, উড়োজাহাজের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে প্যারাস্যুট নিয়ে ঝাঁপ দেন ছিনতাইকারী। তাঁর হাতে ছিল মুক্তিপণের অর্থ। এরপর উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে, কিন্তু ছিনতাইকারী আর নেই। বিমান থেকে নেমে আসা ক্রু সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ, উড়োজাহাজের ভেতর তল্লাশি এবং সম্ভাব্য অবতরণস্থল খোঁজার পরও ছিনতাইকারী বা তার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।
"তাঁর হাতে ছিল বিপুল অর্থ, আর সামনে ছিল অনিশ্চিত এক রাত। তারপর? তিনি কি বেঁচে ফিরেছিলেন, নাকি সেই রাতেই হারিয়ে গিয়েছিলেন চিরতরে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দর, সিয়াটল, মেক্সিকো সিটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডি বি কুপার (অজ্ঞাত পরিচয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ডলার, ৩৬ জন যাত্রী, ২৪ নভেম্বর ১৯৭১
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!