📌 প্রাগে বসবাসকারী মিশরীয় শিক্ষার্থী ইউসুফ মৌরসি ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দী থাকছেন। তাকে ‘তerrorism’ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। প্যালেস্টাইন সমর্থকদের বিরুদ্ধে চেক পুলিশের মনোযোগী তদন্ত ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
প্রাগ, চেক প্রজাতন্ত্র — মিশরীয় শিক্ষার্থী ইউসুফ মৌরসি (২৫) ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দী থাকছেন। তাকে মার্চ মাসে চেক প্রজাতন্ত্রের একটি অস্ত্র কারখানায় আগুন লাগানোর মামলায় ‘তerrorism’ দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মৌরসি ও আরো ১০ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পোল্যান্ডে বাড়িতে নিরাপদে থাকার আদেশে বন্দী। যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে মৌরসি ২০ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। এই মামলা যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো দেশগুলোর প্যালেস্টাইন সমর্থক কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘তerrorism’ আইনে মামলা করার পূর্বের ঘটনার স্মৃতি তাজা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৫ বছর বয়সী মিশরীয় শিক্ষার্থী ইউসুফ মৌরসি** ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দী, ‘তerrorism’ মামলায় অভিযুক্ত।
- 📌 **১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা**, তাদের মধ্যে তিনজন পোল্যান্ডে বাড়িতে নিরাপদে থাকার আদেশে বন্দী।
- 📌 **২০ বছরের কারাদণ্ডের সম্ভাবনা** যদি দোষী সাব্যস্ত হন।
- 📌 **সোলিটারি কনফিনমেন্টে** তিন মাস বন্দী ছিলেন, বর্তমানে দিনে মাত্র **২০ মিনিট ফোন** ও **১ ঘণ্টা বাইরে** যেতে পারেন।
- 📌 **পুলিশের মনোযোগী তদন্ত** — মৌরসির বাড়িতে আক্রমণ করে বন্দী করা হয়।
- 📌 **প্যালেস্টাইন সমর্থক কর্মীদের বিরুদ্ধে** ‘তerrorism’ আইনে মামলা — যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো দেশগুলোর পূর্বের ঘটনার স্মৃতি তাজা করছে।
- 📌 **চেক অস্ত্র কারখানা লিপ্প হোল্ডিং**ে আগুন লাগানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার অভিযোগ — কারখানাটি ইসরায়েলের **এলবিট সিস্টেমস**ের সাথে সম্পর্কিত বলে দাবি করা হয়।
- 📌 **অগ্নিকাণ্ডে কোনো আহত হয়নি**, কিন্তু কারখানার ক্ষতি **৪ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি** হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মিশরীয় শিক্ষার্থী ইউসুফ মৌরসি, প্রাগের চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী, মার্চ মাসে চেক প্রজাতন্ত্রের একটি অস্ত্র কারখানায় আগুন লাগানোর মামলায় অভিযুক্ত। পুলিশের দাবি, তিনি ও আরো ১০ জনের একটি ‘প্যালেস্টাইন সমর্থক গোষ্ঠী’ এই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে। মৌরসি নিজে দোষ স্বীকার করেননি। পুলিশের অভিযোগ, মার্চের ২০ তারিখ রাতে কারখানায় আগুন লাগানোর পর, মৌরসি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্যালেস্টাইন সমর্থক কর্মীদের জন্য পুলিশের সাথে কথা বলার সময় কীভাবে করা যায়, সে সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার আইনজীবী পাভেল চিজিনস্কি বলেছেন, এই পরামর্শটি ‘অস্বাভাবিক’।
মৌরসির বাড়িতে আক্রমণ করে পুলিশ তাকে বন্দী করে। তার আইনজীবী বলেছেন, পুলিশের অভিযোগ, মৌরসি ও তার সহকর্মীরা অস্ত্র বহন করে বাড়িতে আক্রমণ করে। মৌরসি বলেছেন, “আমার বাড়ির দরজা ভাঙে পুলিশের একটি অস্ত্রধারী দল। আমি এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো ভূমিকা রাখিনি।” তিনি বলেছেন, পুলিশের মনোযোগী তদন্তের লক্ষ্য হলো তাদের ভাঙার চেষ্টা করা। তিনি বলেছেন, “পুলিশের মনোযোগী তদন্তের লক্ষ্য হলো তাদের ভাঙার চেষ্টা করা। তারা আমাদেরকে সোলিটারি কনফিনমেন্টে রাখে, বন্ধু-বান্ধবের সাক্ষাত বন্ধ করে দেয়, চিঠি পাঠানোর বাধা দেয় এবং ভয় সৃষ্টি করে।”
মৌরসির আইনজীবী পাভেল চিজিনস্কি বলেছেন, “পুলিশের তদন্তে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বর্তমানে পাঁচ মাস কারাগারে বন্দী থাকার কারণে আইন ভঙ্গের ঘটনা হয়েছে।” চেক আইনে, কারাগারে বন্দী ব্যক্তির কারাদণ্ড প্রত্যেক তিন মাস পর আদালত পর্যালোচনা করে। মৌরসির কারাদণ্ডের পর্যালোচনা ডিসেম্বরের প্রথম দিকে হবে এবং মামলার বিচার শুরু হতে পারে এক বছরের মধ্যে।
অগ্নিকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, একটি অজানা প্যালেস্টাইন সমর্থক গোষ্ঠী ‘দ্য আর্থকুয়েক ফ্যাকশন’ দায় স্বীকার করে। তারা বলেছে, তারা লিপ্প হোল্ডিংকে লক্ষ্য করেছে কারণ তারা ইসরায়েলের এলবিট সিস্টেমসের সাথে সম্পর্কিত। ২০২৩ সালে, লিপ্প হোল্ডিং ও এলবিট সিস্টেমস ঘোষণা করেছিল যে তারা চেক প্রজাতন্ত্রে ড্রোন তৈরি করতে সহযোগিতা করবে। তবে অগ্নিকাণ্ডের দিন, লিপ্প হোল্ডিং বলেছিল যে এই সহযোগিতা কখনো ঘটেনি।
"আমার বাড়ির দরজা ভাঙে পুলিশের একটি অস্ত্রধারী দল। আমি এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো ভূমিকা রাখিনি।"
"পুলিশের মনোযোগী তদন্তের লক্ষ্য হলো তাদের ভাঙার চেষ্টা করা। তারা আমাদেরকে সোলিটারি কনফিনমেন্টে রাখে, বন্ধু-বান্ধবের সাক্ষাত বন্ধ করে দেয়, চিঠি পাঠানোর বাধা দেয় এবং ভয় সৃষ্টি করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রাগ, চেক প্রজাতন্ত্র; পর্দুবিসে লিপ্প হোল্ডিং কারখানা (প্রাগ থেকে ১২০ কিলোমিটার পূর্বে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউসুফ মৌরসি (২৫), পাভেল চিজিনস্কি (আইনজীবী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জন অভিযুক্ত, ২০ বছরের কারাদণ্ডের সম্ভাবনা, ৬ মাস কারাগারে বন্দী, ১২০ কিলোমিটার দূরত্ব, ৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!