📌 যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইককে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন। তার আইনজীবীরা দাবি, এ ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন। ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনজন সহযোগী মিলে হত্যা করে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরীকরণের পর তার জ্ঞান ফিরে এসেছে। আইনজীবীরা জানান, পাইক এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কথা বলতে পারছেন। ৫০ বছর বয়সী এই নারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইককে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন
- 📌 ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনজন সহযোগী মিলে হত্যা করে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে
- 📌 আইনজীবীরা দাবি, পাইকের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন — এ পর্যন্ত একমাত্র ব্যক্তি যিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর বেঁচে গিয়েছেন
- 📌 পাইককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
- 📌 ১৯৯৬ সালে পাইক ও তার প্রেমিককে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারাগারে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ অপসারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাইকের আইনজীবীরা জানান, এখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন। তারা দাবি, এ ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন।
১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে, ১৮ বছর বয়সী পাইক তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ এবং আরেক সহযোগী শ্যাডোলা পিটারসনের সাথে মিলে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যা করেছিলেন। হত্যার পর ভুক্তভোগীর বুকে পেন্টাগ্রামের আকৃতি খোদাই করা হয়েছিল এবং তার মাথার খুলির একটি অংশ স্মারক হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পাইক ও শিপ হত্যার কথা স্বীকার করেন। ১৯৯৬ সালে, পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও শিপকে প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য সহযোগী শ্যাডোলা পিটারসন হত্যার সময় ১৮ বছর বয়সী ছিলেন এবং পরে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাকে প্রবেশনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
ফোর্ডহাম ল স্কুলের ক্রিমিনোলজির অধ্যাপক ডেবোরা ডেন্নো বলেছেন, পাইক এখন জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে পারছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়টি তাকে ‘সম্পূর্ণভাবে বিস্মিত’ করেছে। বিবিসিকে তিনি জানান, এ পর্যন্ত আরও সাতটি ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রস্তুত বন্দিরা বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে সেসব ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারীরা বন্দিদের শিরায় কোনো ওষুধই প্রবেশ করাতে পারেননি। ডেন্নোর ভাষ্য, পাইকের ঘটনা আলাদা, কারণ তার শরীরে কোনো না কোনো ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক প্রবেশ করানো হয়েছিল। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যা যা করার কথা, কর্তৃপক্ষ সেগুলোই করেছিল; কিন্তু তারপরও প্রক্রিয়াটি কাজ করেনি। তার মতে, এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
"পাইকের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজিরবিহীন। এ পর্যন্ত একমাত্র ব্যক্তি যিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর বেঁচে গিয়েছেন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টেনেসি অঙ্গরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্রিস্টা পাইক, আইনজীবীরা, ডেবোরা ডেন্নো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (পাইকের বয়স), ১৮ বছর (হত্যার সময় বয়স), ১৯৯৫ (হত্যার বছর), ১৯৯৬ (দোষী সাব্যস্তের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!