📌 যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধে সিএনএন, এমএম নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারক টিমোথি কেলি প্রশাসনের যুক্তি অস্বীকার করে ১৪ দিনের জন্য হার্ড পাস চালু করার আদেশ দিয়েছেন
যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধে সিএনএন, এমএম নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার বিচারক টিমোথি কেলি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এর ফলে আগামী ১৪ দিনের জন্য তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের হার্ড পাস আবার চালু করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আদালতের রায়: সিএনএন, এমএম নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 সময়সীমা: ১৪ দিনের জন্য হার্ড পাস পুনরায় কার্যকর হবে।
- 📌 প্রশাসনের যুক্তি: ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, সংবাদমাধ্যমগুলো মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি সৃষ্টি করেছে।
- 📌 বিচারকের সিদ্ধান্ত: প্রশাসনের যুক্তি গ্রহণ না করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সময় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
- 📌 সমর্থন: ৪৯টি সংবাদমাধ্যমের সমর্থনে মামলা জমা দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি: যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাসের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত সপ্তাহে সিএনএন, এমএম নাউ ও পলিটিকোর প্রতিবেদকদের হোয়াইট হাউসের হার্ড পাস কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তারা আদালতে মামলা করে অভিযোগ করেন, এই নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক। ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, এসব সংবাদমাধ্যম মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। তবে বিচারক টিমোথি কেলি প্রশাসনের এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউয়ের দাবি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সময় হোয়াইট হাউস যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।
বিচারক কেলি জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় তাঁর প্রাথমিক বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেননি। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তিন সংবাদমাধ্যমের ‘হার্ড পাস’ বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা বাস্তবে সুরক্ষিত হবে, এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ নথিতে নেই। একইভাবে, আদালত যদি মামলার বিচার চলার সময় সাংবাদিকদের পাস পুনর্বহাল করে, তাতে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে, এমন দাবির পক্ষেও কোনো বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ নেই।
নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ওই তিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনের কথা আদালতে তুলে ধরেছিল। এর মধ্যে হোয়াইট হাউসে নির্মাণকাজ এবং নতুন একটি বলরুম তৈরির কাজ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনও ছিল। তবে বিচারক কেলি বলেন, হোয়াইট হাউস যেসব প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, সেগুলোর ‘বেশিরভাগই’ এমন সাংবাদিকেরা লিখেছেন, যাদের কাছে হোয়াইট হাউসের কার্ড পাসই ছিল না। আর যেসব ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের কাছে হার্ড পাস ছিল, সেসব প্রতিবেদন তৈরির জন্য ওই পাস থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তার কোনো যথেষ্ট কারণ প্রশাসন দেখাতে পারেনি বলেও জানান বিচারক।
নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো হোয়াইট হাউসের পুল ডিউটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। হোয়াইট হাউসের পুল ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম একে অপরের সঙ্গে সংবাদ, ছবি ও অন্যান্য উপকরণ ভাগাভাগি করে। এর ফলে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্মসূচি মার্কিন জনগণের কাছে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে খরচ ও জায়গা দুটোই কম লাগে। এদিকে, সিএনএন, এমএম নাউ ও পলিটিকো-এর মামলার সমর্থনে ৪৯টি সংবাদমাধ্যম একটি আইনি ব্রিফ আদালতে জমা দিয়েছে। এসব সংবাদমাধ্যমের মধ্যে সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস এবং ফক্স নিউজও রয়েছে।
"সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউয়ের দাবি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সময় হোয়াইট হাউস যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া আদালত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারক টিমোথি কেলি, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ দিন, ৪৯টি সংবাদমাধ্যম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!