📌 ভারতের রোহিণীতে ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশুকে বিচারক রজনী রাঙ্গা রায় ব্যক্তিগত চিঠি লিখে সাহস জুগিয়েছেন। আদালত ‘আঙ্কেল’-কে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে, শিশুকে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে
ভারতের দিল্লির রোহিণীতে ধর্ষণের শিকার একটি ১০ বছরের শিশুকে বিচারক রজনী রাঙ্গা রায়ের ব্যক্তিগত বার্তা সাহস জুগিয়েছে। শিশুটি আদালতে ‘আঙ্কেল’-কে জেলেই মরতে দিতে চেয়েছিল। বিচারক তার সেই আবেদনকে আদেশে রূপ দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০ বছরের শিশু** ধর্ষণের শিকার হয়ে আদালতে ‘আঙ্কেল’-কে জেলেই মরতে চেয়েছিল — বিচারক তার আবেদনকে আদেশে রূপ দিয়েছেন
- 📌 **বিচারক রজনী রাঙ্গা রায়** শিশুটিকে ব্যক্তিগত চিঠি লিখে বলেছেন: ‘সে জেলেই মরুক, আর কখনো তোমার ক্ষতি করতে পারবে না’
- 📌 **১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযুক্ত** সুমিত শাক্যকে **আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড** ও **১ লাখ রুপি জরিমানা** করা হয়েছে
- 📌 **পকসো আইনের আওতায়** মামলায় শিশুকে **১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ** নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 **২০২৩ সালের ২৩ জুলাই** ঘটনাটি ঘটেছিল — শিশুটির বয়স তখন ছিল **৭ বছর**
- 📌 **দিল্লি হাইকোর্ট** বিচারকের বার্তাটিকে ‘সাহসের বার্তা’ বলে উল্লেখ করেছে
📰 বিস্তারিত
ভারতের রোহিণীতে ৭ বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণ করে তার ‘আঙ্কেল’ বলে পরিচিত এক ব্যক্তি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়িয়ে শিশুটি সাজা হিসেবে ‘বৃদ্ধ’ হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছিল। ধর্ষণের অভিযোগের মামলা তিন বছর ধরে চলেছিল। রায় ঘোষণার পর বিচারক রজনী রাঙ্গা রায় শিশুটিকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি লিখেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আদালত তোমার কথা শুনেছে। তুমি বলেছিলে, ‘আঙ্কেল যত দিন না বৃদ্ধ হয়ে যায়, ততদিন যেন তাকে জেলেই রাখা হয়’। আদালত তোমার সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। সে আর কোনোদিন মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। বাকি জীবন তাকে খাঁচাতেই কাটাতে হবে। সে ওই খাঁচাতেই বৃদ্ধ হবে। সেই খাঁচাতেই তার মৃত্যু হবে।’
বিচারক শিশুটিকে বলেন, ‘তুমি আদালতে এসেছ, যে লোকটি তোমাকে কষ্ট দিয়েছে তাকে চিহ্নিত করেছ এবং সত্যি কথা বলেছ। তুমি চুপ থাকোনি। তোমার কথা বলার সাহস ছিল বলেই সে আর কোনোদিন কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না। এই আদালত তোমাকে কথা দিতে পারে যে, তোমার কথা শোনা হয়েছে। যে লোকটি তোমার ক্ষতি করেছে, সে আর কোনোদিন মুক্ত মানুষ হিসেবে সূর্য দেখতে পাবে না।’
দিল্লি হাইকোর্ট উত্তর-পশ্চিম দিল্লি জেলা আইনি সেবা কর্তৃপক্ষকে (ডিএলএসএ) নির্দেশ দিয়েছেন, বিচারকের ওই বার্তাটি শিশুটির কাছে অথবা তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে। বিচারিক আদালত শিশুটির জন্য ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছিলেন। বিচারপতি প্রতিভা এম সিং ও বিচারপতি দীনেশ ভট্টের বেঞ্চ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এই আদেশ দেন।
"প্রিয় সন্তান, এই আদালত তোমার কথা শুনেছে। তুমি বলেছিলে, ‘আঙ্কেল যত দিন না বৃদ্ধ হয়ে যায়, ততদিন যেন তাকে জেলেই রাখা হয়’। আদালত তোমার সেই আরজির জবাব দিয়েছে। আজ এই আদালত আদেশ দিয়েছে, তুমি যাকে ‘আঙ্কেল’ বলতে, সে আর কোনোদিন মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। বাকি জীবন তাকে খাঁচাতেই কাটাতে হবে। সে ওই খাঁচাতেই বৃদ্ধ হবে। সেই খাঁচাতেই তার মৃত্যু হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রোহিণী, দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারক রজনী রাঙ্গা রায়, শিশু (১০ বছর), সুমিত শাক্য (অভিযুক্ত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর (শিশুর বয়স), ৭ বছর (ঘটনার সময় বয়স), ১২ বছর (শিশুর বয়স সীমা), ১ লাখ রুপি (জরিমানা), ২০ হাজার রুপি (অপরাধমূলক ভয় দেখানোর জরিমানা), ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি (ক্ষতিপূরণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!