📌 আর্মেনিয়া প্রথমবারের মতো সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাক্তন প্রজাতন্ত্র হিসেবে কোপ১৭ সম্মেলন আয়োজন করলেও এর পরিবেশগত রেকর্ড বিশ্বের নজরে এসেছে। ২০২৬ সালের ইকোনমিক পারফরম্যান্স ইন্ডেক্সে ১৭৭টি দেশের মধ্যে ৭৫তম স্থান অধিকার করলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নদী দূষণে বিশ্বের সর্বনিম্ন স্থান পেয়েছে আর্মেনিয়া
বিশ্বের বায়োডাইভার্সিটি সংরক্ষণের সর্বোচ্চ মঞ্চ কোপ১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েভানেই অনুষ্ঠিত হলেও এই দেশের পরিবেশগত অপারগতা বিশ্বের নজরে এসেছে। প্রথমবারের মতো সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাক্তন প্রজাতন্ত্র হিসেবে এই সম্মেলন আয়োজন করলেও আর্মেনিয়ার পরিবেশগত রেকর্ডের প্রশ্ন উঠেছে। ইয়েভানকে ২০২৪ সালে কোপ১৭ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পরিবেশ সংরক্ষণ নীতি গড়ে তোলার ব্যর্থতা দেখিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের পরিবেশগত পারফরম্যান্স ইন্ডেক্সে আর্মেনিয়া ১৭৭টি দেশের মধ্যে ৭৫তম স্থান অধিকার করেছে, যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১৬৪তম এবং নদী দূষণে ১৬৫তম স্থান পেয়েছে।
- 📌 মাইনিং শিল্পের কারণে দেশের বায়োডাইভার্সিটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিশেষত জাঙ্গেজুর, আগারাক ও তেগুত কপার-মলিবডেনাম খনিতে খোলা খনন পদ্ধতির কারণে দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- 📌 আর্মেনিয়ার অর্থনীতিতে রাশিয়া-সংলগ্ন ব্যবসায়ের প্রভাব পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করেছে, যেখানে রাশিয়া-সংলগ্ন বিনিয়োগকারীরা দেশের বৃহত্তম করদাতা।
- 📌 আমুলসার গোল্ড মাইন প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থা আপত্তি জানিয়েছে, যেখানে সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের বিরুদ্ধে সক্রিয়তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।
- 📌 অর্থনীতিতে মাইনিং শিল্পের অবদান ১.৫ থেকে ২ শতাংশ জিডিপি এবং বার্ষিক ১৩০ মিলিয়ন ডলার করের আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণের সাথে অর্থনৈতিক সুবিধার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে।
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালে কোপ১৭ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পর আর্মেনিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তকে দেশের পরিবেশগত উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে দেখিয়েছিল। কিন্তু ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের পরিবেশগত পারফরম্যান্স ইন্ডেক্সে আর্মেনিয়া ১৭৭টি দেশের মধ্যে মাত্র ৭৫তম স্থান অধিকার করেছে। বিশেষত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় (১৬৪তম) এবং নদী দূষণে (১৬৫তম) দেশটি বিশ্বের সর্বনিম্ন স্থান পেয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলো আর্মেনিয়ার পরিবেশগত অপারগতার চিত্র তুলে ধরে।
আর্মেনিয়ার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মাইনিং শিল্পের ভূমিকা রয়েছে। জাঙ্গেজুর, আগারাক ও তেগুত কপার-মলিবডেনাম খনিতে খোলা খনন পদ্ধতির কারণে দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক মাইনিং শিল্পকে আর্মেনিয়ার প্রধান পরিবেশগত দূষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়াও, মেগ্রাসার গোল্ড মাইন প্রকল্পের জন্য আর্মেনিয়ার সরকার ২০১৫ সালে এরভিক জাতীয় উদ্যানের সীমানা সংকুচিত করেছিল। এই প্রকল্পের কারণে আর্টসভানিক টেইলিংস রিজার্ভ থেকে ভারী ধাতু দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে।
আর্মেনিয়ার পরিবেশগত সমস্যা মাইনিং শিল্পের সীমাবদ্ধতায় থেকেই শুরু হয়নি। দেশের মাত্র ১১.১ শতাংশ এলাকা বনভূমি দ্বারা আবৃত, যেখানে ইয়েভানের বায়ু দূষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি। এছাড়াও, রাশিয়া-সংলগ্ন ব্যবসায়ের উপর আর্মেনিয়ার নির্ভরতা পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করেছে। এই ব্যবসায়গুলো দেশের বৃহত্তম করদাতা, যার মধ্যে জাঙ্গেজুর কপার-মলিবডেনাম কমপ্লেক্স ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আর্মেনিয়ার বৃহত্তম করদাতা ছিল।
কোপ১৭-এর উদ্বোধনের কয়েক দিন আগে আর্মেনিয়া আমুলসার গোল্ড মাইন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে, যা পরিবেশ সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। গ্লোবাল ফরেস্ট কোয়ালিশন এবং আর্মেনিয়ার বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন এই প্রকল্পকে পরিবেশগত উদ্বেগের বিরুদ্ধে লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রকল্পের বিরুদ্ধে সক্রিয়তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে।
আর্মেনিয়ার অর্থনীতির মন্ত্রী এই প্রকল্পের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে, এটি দেশের জিডিপির ১.৫ থেকে ২ শতাংশ এবং বার্ষিক ১৩০ মিলিয়ন ডলার করের আয়ের প্রতিশ্রুতি দেবে। এই অর্থনৈতিক সুবিধার সাথে পরিবেশ সংরক্ষণের দ্বন্দ্ব আর্মেনিয়ার সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"আমরা আশা করি, এই সম্মেলন আর্মেনিয়ার পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি করবে। কিন্তু বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয়, সরকার প্রকল্পগুলোকে অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য বেছে নিচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইয়েভান, আর্মেনিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আর্মেনিয়ার অর্থনীতির মন্ত্রী, গ্লোবাল ফরেস্ট কোয়ালিশন, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত পারফরম্যান্স ইন্ডেক্স
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ (১৭৭টি দেশের মধ্যে), ১৬৪ (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা), ১৬৫ (নদী দূষণ), ১১.১ (বনভূমি), ১.৫-২ (জিডিপি), ১৩০ (মিলিয়ন ডলার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!