📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলা টিকার প্রথম মানব ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে এই পরীক্ষায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কঙ্গোর ইবোলা মহামারির বিরুদ্ধে নতুন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় শুক্রবার শুরু হয়েছে ইবোলা টিকার প্রথম মানব ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে** শুরু হয়েছে ইবোলা টিকার প্রথম মানব ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, যা বর্তমান মহামারির জন্য দায়ী বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা যাচাই করবে
- 📌 **এরভেবো নামের টিকা** ইতিমধ্যে জাইর প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনুমোদিত, এবার বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে
- 📌 **৯ হাজার ৭০০-এরও বেশি** মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছে এবং **৪ হাজার ৬০০-এরও বেশি** মৃতের ঘটনা ঘটেছে, যা কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত
- 📌 **রিং ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতি** ব্যবহার করে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে, যার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে
- 📌 **যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়** ও **যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মডার্না** কর্তৃক উন্নয়িত দুটি টিকা শিগগিরই এই ট্রায়ালে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার সম্ভাব্য কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
গত মে মাসে কঙ্গো দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এই মহামারিকে কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাব পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার চারটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা মহাদেশটিতে ইবোলার কোনো প্রাদুর্ভাব এত বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ছড়ায়নি।
ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের পরিচালক চিকওয়ে ইহেকওয়েজু বলেছেন, এই ট্রায়ালের লক্ষ্য হলো ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করা। এছাড়াও, এই পরীক্ষায় অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা সাধারণত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে বাদ পড়ে যান।
কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই) এই উদ্যোগে অর্থায়ন করছে। তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ChAdOx1 নামের অ্যাডেনোভাইরাস-ভিত্তিক টিকা এবং মডার্না কর্তৃক উন্নয়িত এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি টিকা দুটি এই ট্রায়ালে যুক্ত হবে।
"বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য তৈরি টিকার সম্ভাব্য প্রার্থীগুলো কার্যকর কি না, তা বুঝতে এই পরীক্ষা সহায়তা করবে। সমাধান খুঁজে বের করতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে ডিআর কঙ্গোর নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগে সহায়তা করছে ডব্লিউএইচও।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস, চিকওয়ে ইহেকওয়েজু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭তম প্রাদুর্ভাব, ৯ হাজার ৭০০+ আক্রান্ত, ৪ হাজার ৬০০+ মৃত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!